‘এসডিজি ট্রেকার’ ওয়েব উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

২০ সেপ্টেম্বর, নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি বাস্তবায়নে ‘এসডিজি ট্রেকার’ শীর্ষক একটি ডায়নামিক ওয়েব পোর্টাল উদ্বোধন করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ এবং ইউএনওএসএসসি-এর যৌথভাবে প্রকাশিত ‘সাউথ সাউথ ইন অ্যাকশন: সিটিজেন ফ্রেন্ডলি পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি জাতিসংঘের সাউথ সাউথ কো-অপারেশন (ইউএনওএসএসসি) এবং ইউএনডিপি’র সহযোগীতায় বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন কর্তৃক আয়োজিত ‘এসডিজি ইমপ্লিমেন্টেশন, ফাইন্যান্সিং অ্যান্ড মনিটরিং: শেয়ারিং ইনোভেশনস থ্রু সাউথ-সাউথ অ্যান্ড ট্রাইয়াঙ্গ্লুার কো-অপারেশন’ শীর্ষক এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার উদ্বোধনী ভাষণে এসডিজি বাস্তবায়নে ‘ইফ ইউ ওয়ান্ট টু গো ফার অ্যান্ড ফাস্ট, ইনোভেইট টুগেদার’ এমন একটি নতুন স্লোগান প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, ‘আজকের বিশ্বে, উন্নয়নের পথে উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি যোগ করলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

উল্লেখ্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সফল নেতৃত্বে ২০১৫ সালে মিলিনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল বা এমডিজি অর্জনে বাংলাদেশ সফলতা পেয়েছে, এরই ধারাবাহিকতায় এসডিজিট্রেকার এর মাধ্যমে সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল বা এসডিজি বাস্তবায়নেও বাংলাদেশ সফলতা বয়ে আনবে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার এসডিজি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে একটি পলিসি গাইডলাইন প্রণয়নের পাশাপাশি সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ প্রেক্ষিতে সরকারের সকল কার্যক্রমের ট্র্যাকিং, পরিমাপ এবং বিশ্লেষণের জন্য বাংলাদেশ এই ‘এসডিজি ট্রেকার’ (www.sdg.gov.bd) নামে একটি উদ্ভাবনী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে। এটি রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকার, পলিসি মেকার এবং উন্নয়ন কর্মীদের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ ও অভিজ্ঞতা চর্চার মাধ্যমে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ফ্রেমওয়ার্ককে ত্বরান্বিত করবে।

বাংলাদেশের সফলতার প্রেক্ষিতে দক্ষিণের অনেক রাষ্ট্র এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তাদের উন্নয়ন পরিমাপে এমন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে বাংলাদেশের সহযোগীতা কামনা করেছে। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার ভুটান, মালদ্বীপ, ফিজি, বেনিন, সিংগাপুর এবং কাজাকিস্থানের সঙ্গে পাবলিক সার্ভিসের ক্ষেত্রে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও অর্জন বিনিময় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইস্তনিয়ার প্রেসিডেন্ট মাননীয় কার্সটি কালজুলেইড, নেদারলেন্ডের কুরাকাউ’র প্রধানমন্ত্রী মাননীয় ইউগিনি রুগ্গেনাথ এবং নেপালের ডেপুটি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাননীয় কৃষ্ণ বাহাদুর মাহারা ‘এসডিজি’ নিয়ে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী সাউথ সাউথ কো-অপারেশন-এ বাংলাদেশের ভূমিকা এবং এসডিজি ট্রেকার নিয়ে একটি প্রেজেন্টেশন প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের অ্যাম্বাসেডর মাসুদ বিন মোমেন এবং সমাপ্ত ঘোষণা করেন জাতিসংঘ মহাসচিব-এর সাউথ সাউথ কো-অপারেশন বিষয়ক বিশেষ দূত এবং ইউএনওএসএসসি-এর ডিরেক্টর জর্জ সের্ডিক।

এছাড়া বৈঠকের শেষ অংশে উচ্চ পর্যায়ের একটি প্যানেল আলোচনার আয়োজন করা হয়। প্যানেল আলোচনা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সরকারের এসডিজি বিষয়ক প্রিন্সিপাল কো-অর্ডিনেটর আবুল কালাম আজাদ এবং প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন বেনিন এর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পাসকেল ইরেনি কওপাকি, থাইল্যান্ড এর পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডন প্রামুডওইনাই, উগান্ডার অর্থ প্রতিমন্ত্রী, এলডিসি বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধি ফেকিটামুলাও, ইন্দোনেশিয়ার জাম্বি প্রদেশের গভর্ণর ঝুমি জোলা জুলকিফলি,মেক্সিকান এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এর নির্বাহি পরিচালক আগাস্টিন গার্সিয়া লোপেজ, বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন এর নির্বাহি পরিচালক রোজার বোর্হিস এবং কোপেনহেগেন কনসেনসাস সেন্টার এর প্রেসিডেন্ট বজরন লুমবর্গ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ২০২১ সালের মধ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রোগ্রাম স্বচ্ছতা, শাসন ব্যবস্থা ও জনগণের সেবা প্রদান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া সরকারি সেবাকে খুব কম সময়ে কম খরচে কোনো রকম ভোগান্তি ছাড়া জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করার পাশাপাশি সাউথ সাউথ কো-অপারেশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বাংলাদেশ এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ২০৩০ সালের মধ্যে এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করবে।

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.