এটুআই প্রকল্প ২০১৮তে যত অর্জন 

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউএসএইড এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ এর সহায়তায় পরিচালিত এটুআই প্রকল্প তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নাগরিক সেবা সহজিকরণে কাজ করে চলেছে। ২০১৮ সালের এটুআই প্রকল্পের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন মোহাম্মদ কাওছার উদ্দীন।

১. শিক্ষার্থীদের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিশোর বাতায়ন ‘কানেক্ট’ এবং প্রতিবন্ধী বান্ধব ‘একসেসিবেল ডিকশনারি’ উদ্বোধনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, মেধা-বিকাশ ও সুস্থ’-বিনোদনের জন্য তৈরি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম কিশোর বাতায়ন ‘কানেক্ট’ এবং প্রতিবন্ধী বান্ধব ‘একসেসিবেল ডিকশনারি’ এর শুভ উদ্বোধন করেন। গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গনে আয়োজিত অমর একুশে বইমেলায় এটুআই-এর ডিজিটাল তথ্যকেন্দ্র থেকে এই দু’টি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়। অনলাইনভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম কিশোর বাতায়ন ‘কানেক্ট’ এটুআই, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ শিশু একাডেমী, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি), বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ও চিলড্রেন্স ফিল্ম সোসাইটি যৌথভাবে নির্মাণ করেছে। অন্যদিকে, এটুআই সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের সহায়তায় ইপসা নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্যে তৈরি করেছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ ভিত্তিক ‘একসেসিবেল ডিকশনারি’।

কিশোর বাতায়ন ‘কানেক্ট’ (www.konnect.edu.bd) কিশোরদের জন্য নির্মিত একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। বাংলাদেশের সকল কিশোর-কিশোরী কিংবা শিক্ষার্থীরা যেকোন প্রান্তে বসে কিশোর বাতায়নে রেজিস্ট্রেশন করে বিদ্যমান কনটেন্ট দেখতে পারছে এবং নতুন কনটেন্ট যুক্ত করতে পারছে। কিশোর বাতায়ন থেকে শিক্ষার্থীরা বই পড়া ও ডাউনলোড করা; সিনেমা দেখা ও তৈরি করে আপলোড করা; বিজ্ঞান, বাংলাদেশ স্টাডিজ, পদার্থ, রসায়ন ও বায়োলজির নানা বিষয়ভিত্তিক কমিকস পড়া, দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যাকে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা ও হাতে কলমে নানা পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে পারছে। একই সাথে কিশোর বাতায়ন বর্তমানে ব্যক্তিগত (স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, স্বাস্থ্যসম্মত জীবন যাপন করা, নেতৃত্ব দেয়া, সামাজিকভাবে যোগাযোগ স্থাপন ইত্যাদি সম্পর্কে জানা) ও সামাজিক (জেন্ডার কনসেপ্ট, পরিবেশ ও জীবন ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা রাখা) দক্ষতা বিকাশের একটি উৎস। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও প্রতিফলন, সাংস্কৃতিক মননশীলতার চর্চা ও ডিজিটাল কনটেন্ট হিসেবে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমে ব্যবহারের সুযোগও থাকছে এতে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্যে নানা উদ্ভাবনের এই ধারাবাহিকতায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্যে এটুআই-এর সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ডের সহায়তায় ইপসা নামক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছে ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপভিত্তিক একসেসিবেল ডিকশনারি (www.accessibledictionary.gov.bd)। এই সার্ভিসটি ব্যবহার করে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মানুষ ইংরেজি ও বাংলা শব্দের উচ্ছারণসহ অর্থ শুনতে পারবে।

২. ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ উদ্বোধনঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ উদ্বোধন করেন। এটুআই ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে কৃষিসেবা সহজিকরণ এবং ই-কৃষি এর মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য জ্ঞানভিত্তিক কৃষিসেবাকে কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ তৈরী করা হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ এর মূল লক্ষ্য অর্জনে সর্ববৃহৎ জনগোষ্ঠী হিসাবে কৃষকদের সম্পৃক্তকরণে কৃষি সম্প্রসারণ এর এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এর মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দিক থেকে ডিজিটাল সেবার অন্তর্ভুক্তকরণ করার প্রয়াস চলছে।

কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ উদ্বোধনঃ

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ ব্যবহারের মাধ্যমে অধিদপ্তর ও কৃষকদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা; মাঠ থেকে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা কর্তৃক বিবিধ রিপোর্ট প্রেরণ; ফসল সংক্রান্ত গবেষণা, মাঠ ও কৃষক পর্যায় হতে আহরিত সকল জ্ঞানের অভিগম্যতা ইত্যাদি প্রয়োজনে বাতায়ন এর সহযোগী হিসাবে ইতোমধ্যেই কার্যকর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন তৈরী করা হয়েছে। পাশাপাশি, সকল কৃষকের ফোন সেবার সাথে অবাধ যোগাযোগ নিশ্চিতকরণে কৃষক তথ্যতালিকা তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যেই ২০ লক্ষাধিক কৃষক এর তথ্য সন্নিবিষ্ট হয়েছে যা চলমান রয়েছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ তথাস্থানীয় সম্প্রসারণ এর সাথে কৃষকদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসাবে একটি উদ্ভাবনী ফোন সেবা তৈরী করা হয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষক একটি নির্দিষ্ট নম্বর ৩৩৩১ এ ফোন করলে তার নিকট’ অভিজ্ঞ কৃষক অথবা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষক এর প্রয়োজনীয় কৃষিসেবা প্রদান করতে পারবেন। কৃষি মন্ত্রী গত ১ নভেম্বর ২০১৭১৪টি কৃষি অঞ্চলের ১টি উপজেলা এবং ১টি সম্পূর্ণ জেলায় ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ এর পাইলট কর্মকান্ড উদ্বোধন করেছিলেন। উক্ত পাইলট কর্মকান্ডের মাধ্যমে সকল জেলা ও অঞ্চল প্রধানসহ সকল মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাতায়ন এর সাথে পরিচিত ও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। পাইলট কর্মকান্ড পর্যালোচনায় ‘কৃষি সম্প্রসারণ বাতায়ন’ পরিকল্পিত উদ্দেশ্য পূরণে অত্যন্ত কার্যকর প্রতীয়মান হওয়ায় এর দেশব্যাপী বাস্তবায়ন উদ্বোধন করা হয়েছে।

৩. সরকারি তথ্য ও সেবা প্রদানে এবং সামাজিক সমস্যার প্রতিকারে কলসেন্টার ৩৩৩ এর উদ্বোধনঃ সরকারি বিভিন্ন তথ্য সেবা, কর্মকর্তাদের তথ্য, বিভিন্ন সামাজিক সমস্যার প্রতিকার এবং পর্যটন ও জেলা সম্পর্কিত যেকোন তথ্য যেকোন সময় সকল নাগরিকদেও পৌঁছে দিতে চালু হল কলসেন্টার ৩৩৩। গত ১২এপ্রিল ২০১৮ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের করবী হলে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ প্রধান অতিথি হিসেবে এই কলসেন্টার (৩৩৩) সেবার উদ্বোধন করেন।
‘সরকারি তথ্য ও সেবা সব সময়’ এমন শ্লোগানকে সামনে নিয়ে কলসেন্টার ৩৩৩ চালু করে এটুআই। দেশের সকল নাগরিক ৩৩৩ এবং প্রবাসীগণ ০৯৬৬৬৭৮৯৩৩৩ নম্বরে কল করে সরকারি সেবা প্রাপ্তির পদ্ধতি, জন প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মচারীদের সাথে যোগাযোগের তথ্য, বিভিন্ন এলাকার পর্যটনের স্থান সমূহ এবং বিভিন্ন জেলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন। এছাড়াও কলসেন্টারের মাধ্যমে নাগরিকগণ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে প্রতিকারের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট তথ্য প্রদান ও অভিযোগ দাখিল করতে পারেন। এছাড়াও দুর্যোগকালীন সময়ে সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট আবেদন করতে পারেন। কলসেন্টারটি ২৪ঘন্টা সেবা প্রদান করছে। কলসেন্টারটি পরিচালনায় কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবি এবং বাংলাদেশী কলসেন্টার জেনেক্স।

Govt. call-center bd -333

ভবিষ্যতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সেবাগুলো ক্রমান্বয়ে এই কলসেন্টারে যুক্ত করা হবে এবং ডিজিটাল সেন্টার উদ্যোক্তাদেরকেও এই কলসেন্টারে যুক্ত করা হবে যাতে জনগণ উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে সক্ষম হয়। এছাড়াও ভবিষ্যতে এসএমএস, আইভিআর, ইউএসএসডি কোডভিত্তিক সেবা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও লাইভ চ্যাট এ কলসেন্টারের সাথে যুক্ত হবে। নাগরিকগণের তথ্য ও সেবার চাহিদা ছাড়াও সরকারি সেবার প্রচারণা মাধ্যম হিসেবেও এই কলসেন্টার ব্যবহার করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের সকল নাগরিকগণকে সেবা গ্রহণের আওতায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে। এতে সরকারি সেবার তথ্য প্রাপ্তি ও সামজিক সমস্যার প্রতিকারে সময়, খরচ ও ভোগান্তি কমবে।

৪. বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ই-লাইসেন্সিং এবং ই-লার্নিং সিস্টেম উদ্বোধনঃ এটুআই এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বাপশক) যৌথ উদ্যোগে গত ২৯ মার্চ, ২০১৮ বাপশক-এর ই-লাইসেন্সিং এবং ই-লার্নিং সিস্টেম এর উদ্বোধন করা হয়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীস্থপতি ইয়াফেস ওসমান প্রধান অতিথি হিসেবে এই সেবার উদ্বোধন করেন।
এই অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে পরমাণু শক্তি কমিশন এর লাইসেন্স বা পারমিট পদ্ধতি প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, পাশাপাশি প্রতিটি আবেদনের জন্য একটি ট্র্যাকিং আইডি প্রদান করা হবে। এ সংক্রান্ত ফি অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে এবং আবেদনের সংশ্লিষ্ট ব্যাপারগুলো ই-মেইল ও এসএমএস নোটিফিকেশনের মাধ্যমে আদান প্রদান করা হবে। ট্র্যাকিং আইডি ব্যবহার করে ওয়েবসাইটে আবেদনের স্ট্যাটাস এবং ত্রুটিপূর্ণ ফিল্ডটি সংশোধন বা অতিরিক্ত তথ্য প্রদান করতে পারবে। পুরো প্রক্রিয়া সফল হলে গ্রাহককে ডিজিটাল লাইসেন্স, পারমিট বা এনওসি প্রদান করা হবে। উক্ত লাইসেন্স, পারমিট বা এনওসি সার্টিফিকেট অনলাইনে কাস্টমসসহ অন্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের যাচাই করার ব্যবস্থা থাকবে। এই পারমিট বা এনওসি পেতে ১০ কার্যদিবস এবং নতুন লাইসেন্সের জন্য ৪৫ কার্যদিবস প্রয়োজন পড়বে। অন্যদিকে, ই-লার্নিং সিস্টেমের মাধ্যমে ট্রেনিংয়ে আগ্রহী ব্যক্তিরা নিবন্ধন করতে পারবে এবং এ সংক্রান্ত ফি অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। ট্রেনিং কোর্সের ভিডিও এবং ডিজিটাল কন্টেন্ট সার্ভারে থাকবে এবং প্রশিক্ষনার্থী তা অনলাইনে শিখতে পারবেন। এই সেবার মাধ্যমে যাতায়াতসহ সার্বিক সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে। পরীক্ষার জন্য অনলাইনে আবেদন করতে এবং এ সংক্রান্ত ফি অনলাইনে প্রদান করতে পারবেন। তাদেরকে পরীক্ষার জন্য শুধুমাত্র ১ বার ঢাকায় আসতে হবে। এছাড়া কৃতকার্য ব্যক্তিদের সকল সনদ অনলাইনে পাওয়া যাবে।

৫. গার্মেন্টস ও মৎস্যশিল্পের কর্মীদের দোরগোড়ায় সেবা দিতে ৬টি বিশেষায়িত ডিজিটাল সেন্টার উদ্বোধনঃ গার্মেন্টস কর্মীদের নিকট সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি-বেসরকারি সকল সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে গত ১৬ আগস্ট, ২০১৮ এটুআই এর উদ্যোগে গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকায় গাজীপুরে ৫টি এবং মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীদের জন্য খুলনায় ১টি বিশেষায়িত ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে। এটুআই-এর উদ্যোগে গাজীপুর’ টঙ্গীর উত্তর দত্তপাড়া (টেগ বাড়ী) এলাকায় স্থাপিত বিশেষায়িত ডিজিটাল সেন্টারগুলোর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর।
গার্মেন্টস এবং মৎস্য শিল্পের সাথে জড়িত কর্মীসহ উল্লিখিত এলাকার সকল নাগরিক এ সকল সেন্টার থেকে সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে ১৫০ এর অধিক সরকারি-বেসরকারি সেবা, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ সেবা, এজেন্ট ব্যাংকিং ও রুরাল ই-কমার্স ‘একশপ’ এর মাধ্যমে প্রায় ৫ লক্ষাধিক পণ্য অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় করতে পারবে। গাজীপুর ও খুলনায় সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রাপ্তির জন্য স্থাপিত সেন্টারসমূহের মধ্যে ৩টি সেন্টার ওয়ারকার্স কমিউনিটি সেন্টার (ডব্লিউসিসি) এর সাথে সংযুক্ত যার মধ্যে ২টি গাজীপুরের টঙ্গী ও কোনাবাড়ী এলাকায় এবং বাকি ১টি খুলনার রূপসা এলাকায় অবস্থিত এবং বাকী ৩টি সেন্টার গাজীপুরের বোর্ড বাজার, কাশিমপুর ও ভোগরার গার্মেন্টস অধ্যুষিত এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি ডিজিটাল সেন্টারে একজন পুরুষ ও একজন নারী উদ্যোক্তা সেবা প্রদান করছে। এ বিষয়ে তাদের এটুআই হতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ডিজিটাল সেন্টারগুলো গার্মেন্টস কর্মীদের কর্মঘন্টার সাথে সামঞ্জস্য রেখে সকাল ৭টা হতে রাত১০টা পর্যন্ত প্রতিদিন খোলা থাকবে।

৬. ১৯৭৬টি ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ড্যাশবোর্ড উদ্বোধনঃ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এর যৌথ উদ্যোগে নির্মিত ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন ড্যাশবোর্ড এর উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার। গত ৯ অক্টোবর মন্ত্রী ঢাকা’ অফিসার্স ক্লাব অডিটরিয়ামে আয়োজিত ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা-২০২১ সমন্বয়করণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ড্যাশবোর্ড সিস্টেমটি উদ্বোধন করেন। ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা-২০২১ সমন্বয়করণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন অধিদপ্তর/দপ্তর/সংস্থার মোট ১৯৭৬টি ডিজিটাল সার্ভিস এর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কর্মশালার মাধ্যমে ২০২১ সাল পর্যন্ত ৫৩টি মন্ত্রনালয়/বিভাগ এবং তার আওতাধীন ৩৯৪টি অধিদপ্তর/দপ্তর/সংস্থার মোট ১৯৭৬টি ডিজিটাল সার্ভিস (মোবাইল-সার্ভিস/ডিজিটাল সিস্টেম) এর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৪৯টি ব্যাচের এই কর্মশালার মাধ্যমে ১৭৯২ জন সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/বিভাগের সচিব, দপ্তর প্রধানগণ, ডিজিটাল সার্ভিস এক্সিলারেটর টিম, এটুআই এবংপ্রশিক্ষিত আইটি রিসোর্স পার্সনের সহযোগিতায় উক্ত বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা কর্মশালার মাধ্যমে প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়/দপ্তর ভিত্তিক তাদেও সকল বিদ্যমান সেবা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকে বিশ্লেষণ পূর্বক সম্ভাব্য কি কি সেবা ডিজিটাল সেবায় রূপান্তর হতে পারে তা নির্ণয় করা, বাস্তবায়নযোগ্য ডিজিটাল সেবাগুলোর অগ্রাধিকার নির্ণয় করা, প্রতিটি ডিজিটাল সেবার জন্য সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সে অনুযায়ী ডিজিটাল সার্ভিসগুলো বাস্তবায়ন করা। সর্বোপরী সকল মন্ত্রণালয়/ দপ্তরসমূহের ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনাগুলো সমন্বয় করে একটি জাতীয় ডিজিটাল গভর্নমেন্ট বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করা।

১৯৭৬টি ডিজিটাল সার্ভিস বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ড্যাশবোর্ড

৭. ফিজি সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রদানে এটুআই নির্মিত স্টার্ট টু ফিনিস সার্ভিস ট্র্যাকারঃ সাউথ প্যাসিফিক রাষ্ট্র ফিজির প্রান্তিক মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রদানে ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং ইউএনডিপি ফিজি এর সহায়তায় এটুআই কর্তৃক নির্মিত স্টার্ট টু ফিনিস (এসটুএফ) সার্ভিস ট্র্যাকার গত ২১ নভেম্বর ২০১৮ ফিজির স্থানীয় এক হোটেলে উদ্বোধন করা হয়েছে। সাউথ সাউথ কো-অপারেশন বৃদ্ধিতে ফিজির মহিলা, শিশু ও দারিদ্র বিমোচন বিষয়ক স্থায়ী সচিব ড. জোসে ফাকরো ভূয়েতা প্রধান অতিথি হিসেবে এই ট্র্যাকার সিস্টেমটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ইউএনডিপি বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানান।
এসটুএফ সার্ভিস ডেলিভারি ট্র্যাকার একটি ইন্টারনেট ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেম এবং একটি মোবাইল অ্যাপ, যার মাধ্যমে ফিজির নাগরিকগণ অনলাইনে তাদের বিভিন্ন সেবার আবেদনের পাশাপাশি সার্ভিস ডেলিভারির অবস্থান ট্র্যাকিং করতে পারবেন। অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং সেবা প্রদানকারি বিভাগ কর্তৃপক্ষ রীচ প্রজেক্ট সার্ভিস সিডিউল ঠিক রেখে সঠিক সময়ে এসএমএস বা ইমেইলে অটোমেটিক নোটিফিকেশন পাঠাতে পারবে এবং অনলাইনে দ্রুত সার্ভিস ডেলিভারির কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবে। এর মাধ্যমে ফিজির নাগরিকগণের সেবা প্রাপ্তিতে সময়, ব্যয় এবং যাতায়াত এর পরিমাণ কমিয়ে আনবে। ইউএনডিপি ফিজি ও রীচ প্রজেক্ট এর অর্থায়নে ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও এটুআই এর কারিগরি সহায়তায় ফিজির মহিলা, শিশু ও দারিদ্র বিমোচন মন্ত্রণালয় ফিজির নাগরিকদের জন্য উক্ত সিস্টেমটি বাস্তবায়ন করছে। এই ইনোভেশন সার্ভিসটি এটুআই ফোরডি মেথডোলজি (ডাইগনসিস, ডিজাইন, ডেমো এবং ডেভেলপমেন্ট) এর মাধ্যমে সিস্টেমটি দ্রুত নকশা ও উন্নয়ন সাধন করে ফিজি সরকারের জন্য তৈরি করেছে, যাতে ফিজি সরকার কর্মকর্তাদের অন্তর্ভূক্ত করে মানসম্মত নাগরিক সেবা সঠিক সময়ে প্রদান করতে সক্ষম হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং ইউএসএইড এর সহায়তায় এটুআই আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতার ক্ষেত্রে সাউথ সাউথ কো-অপারেশন এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সাউথ সাউথ কো-অপারেশন এর মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অংশগ্রহণ বাড়াতে বাংলাদেশ প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগনের সেবার ক্ষেত্রে উদ্ভাবন চর্চার মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে সম্মিলন ঘটানো এবং নাগরিক সেবা প্রদানে তারা তাদের উদ্ভাবন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে পারবে। এরই অংশ হিসেবে এটুআই ফিজির মহিলা, শিশু ও দারিদ্র বিমোচন মন্ত্রণালয়ের পোভার্টি বেনেফিট স্কীম (পিবিএস) এর অ্যাপ্লিকেশন ট্র্যাক করতে এই সার্ভিস ডেলিভারি সিস্টেমটি প্রদান করেছে। ২০১৭ সালে উক্ত সিস্টেমটি উন্নয়নে ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং ইউএনডিপি ফিজি-এর এক সমঝোতার ভিত্তিতে ইউএনডিপি প্যাসিফিক অফিস ‘রীচ ফর রুরাল এ্যান্ড আরবান ফিজিসিয়ান’ প্রজেক্ট বাস্তবায়ন শুরু করে, যা এটুআই ফিজিতে পাইলট করে।

৮. তথ্যপ্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে ৫ম বারের মত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার অর্জনঃ টানা ৫ম বারের মত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্মানজনক পুরস্কার “ওয়ার্ল্ড সামিট অন ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) পুরস্কার-২০১৮” অর্জন করেছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘের আইসিটি সংক্রান্ত বিশেষায়িত সংস্থা আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদর দপ্তর জেনেভায় ২০ মার্চ ২০১৮ এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের হাতে ডব্লিউএসআইএস পুরস্কার-২০১৮ তুলে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার (বর্তমানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব)।
এ বছর মোট দু’টি মৌলিক উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য এটুআই ‘ডব্লিউএসআইএস’ সম্মাননা পেয়েছে। এটুআই-এর ‘মুক্তপাঠ’ উদ্যোগ চূড়ান্তভাবে বিজয়ী এবং বাংলাদেশ পুলিশের সাথে যৌথভাবে তৈরিকৃত ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। ‘মুক্তপাঠ’ (www.muktopaath.gov.bd) বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম যা ব্যবহার করে যেকোন স্থান হতে যেকোন সময়ে অনলাইনে এবং অফলাইনে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে পারেন। এই উন্মুক্ত ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম থেকে সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং জীবনমুখী শিক্ষা বিষয়ক কোর্স বিনামূল্যে গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ‘পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (www.pcc.police.gov.bd/en) চালুর মাধ্যমে দেশের নাগরিকগণ এখন যেকোনো সময় যেকোন স্থান থেকে অনলাইনে এই সার্টিফিকেটের জন্য আবেদন করতে পারেন। এটুআই-এর সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড-এর মাধ্যমে বিদেশে গমনে”ছুক নাগরিকদের জন্যে এই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম তৈরী করা হয়েছে। এ উদ্যোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে কুমিল্লা জেলা, চাঁদপুর জেলা ও সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সারাদেশে এই অনলাইন সেবা চালু করা হয়েছে। অনলাইনে যেকেউ এই সিস্টেমে নিবন্ধন করে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে এই সেবার জন্যে আবেদন করতে পারবেন, ই-পেমেন্টের মাধ্যমে এই সেবার ফি পরিশোধ করতে পারবেন এবং যেকোন মোবাইল থেকে এসএমএস এর মাধ্যমে আবেদনের সর্বশেষ অবস্থান জানতে পারবেন। এই সেবা অনলাইনে আসার মাধ্যমে বিদেশে গমনেচ্ছুক নাগরিকরা একটি স্বচ্ছ, সুলভ, সহজ এবং সময় সাশ্রয়ী প্রক্রিয়ায় তদের পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।
উল্লেখ্য, এটুআই কর্তৃক জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানে বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মধ্যে বিগত ৪ বছর যথাক্রমে ২০১৪ সালে ডিজিটাল সেন্টার; ২০১৫ সালে জাতীয় তথ্য বাতায়ন; ২০১৬ সালে সেবা পদ্ধতি সহজিকরণ এসপিএস, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনলাইন ছাড়পত্র, শিক্ষক বাতায়ন এবং কৃষকের জানালা; এবং ২০১৭ সালে মাল্টিমিডিয়া টকিং বুক, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের টেলিমেডিসিন প্রকল্প, নাগরিক সেবা উদ্ভাবনে সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার এবং ই-নথি ডাব্লিউ এসআইএস পুরস্কার অর্জন করেছে।

৯. ২য় বারের মতো এটুআই অর্জন করল ভারতের ‘প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ডঃ ভারতের ওপেন গ্রুপ কর্তৃক আয়োজিত আন্তর্জাতিক এক প্রতিযোগিতায় ‘এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার এনাবেল গভর্ণমেন্ট ট্রান্সফরমেশন’ ক্যাটাগরিতে এটুআই এর সফটওয়্যার সলিউশন ‘একসেবা’ অর্জন করেছে প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ভারতের ব্যাঙ্গালোরে স্থানীয় এক হোটেলে ইনোভেশন নিয়ে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় ভারত সরকারের আইসিটি সচিব শ্রী অজয় সাওনে এবং প্রাক্তন সরকারি কর্মকর্তা জে. সত্য নারায়ন এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরীর হাতে পুরস্কারটি তুলে দেন। ভারতের ওপেন গ্রুপ প্রতি বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্ভাবন ও উৎকর্ষতা বিষয়ে এই সম্মেলন ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে ‘একসেবা’ সফটওয়্যার সলিউশন জাতীয় পর্যায়ের ই-সার্ভিস ফ্রেমওয়ার্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করায় এটুআই এই ‘প্রেসিডেন্ট এ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। এটুআই-এর ডিজাইন করা এই সফটওয়্যার সলিউশন বাংলাদেশ সরকারের দেশব্যাপী সকল ডিজিটাল সেন্টারগুলোতে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটুআই জনগনের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে ৫,০০০+ ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করেছে। এর ফলে নাগরিক এবং উদ্যোক্তারা সরকারি এবং বেসরকারি সবধরণের সেবা খুব সহজে পেতে সক্ষম হচ্ছে। এই সব সেবাকে সহজে জনগনের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোক্তারা একসেবা প্লাটফর্মটি ব্যবহার করছে। এর মাধ্যমে সকল সরকারি বেসরকারি সেবা একটি সফটওয়্যাওে উদ্যোক্তারা পেতে পারছে। এছাড়া এই সব সেবার ক্ষেত্রে পুরো ব্যবস্থা এবং উদ্যোক্তাদের খুব সহজে মনিটর করতে পারছে সরকার। উল্লেখ্য, বিগত বছর একই সময়ে ন্যাশনাল পোর্টাল ফ্র্রেমওয়ার্ক, অফিস ইনফরমেশন এ্যান্ড সার্ভিস ফ্র্রেমওয়ার্ক ও ল্যান্ড ইনফরমেশন এ্যান্ড সার্ভিস ফ্র্রেমওয়ার্ক এর জন্য এটুআই ৩টি আন্তর্জাতিক পুরষ্কার অর্জন করেছিল।

১০. ৩টি উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে এটুআই অর্জন করল আইটেক্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ঃ মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ইনভেনশন, ইনোভেশন এন্ড টেকনোলজী এক্সিবিশন (আইটেক্স)-২০১৮ এ গত ১২ মে, ২০১৮ এটুআই ৩টি উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে আইটেক্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ অর্জন করেছে। এ বছর এটুআই প্রথমবারের মতো আইটেক্স এ অংশগ্রহণ করেছে। এটুআই ‘সেন্ট্র্রালাইজড নিবুলাইজিং সিস্টেম’ এবং ‘ফুয়েল ফ্রম প্লাস্টিক’ এর জন্য যথাক্রমে ‘বায়োটেকনোলজি, হেলথ ও ফিটনেস’ এবং ‘এনভারমেন্টাল রিনিওবেল এনার্জি’ এ দুইটি ক্যাটাগরিতে স্বর্ণপদক অর্জন করেছে এবং ‘স্পেশাল কেয়ার ও চাইল্ড কেয়ার’ ক্যাটাগরিতে ‘পোর্টেবল ইনফ্যান্ট ইনকিউবেটর’ প্রজেক্টের জন্য রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজারের অধিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রজেক্ট নিয়ে ২৩টি দেশ অংশগ্রহণ করেছে। যার মধ্যে ৬২টি প্রজেক্ট স্বর্ণ ও ৭৩টি প্রজেক্ট রৌপ্য পদক অর্জন করেছে। এটুআই এর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেছেন এটুআই এর ইনোভেশন এক্সপার্ট ফারুক আহমেদ জুয়েল, ইনোভেটর আনোয়ার হোসেন এবং তৌহিদুল ইসলাম।
ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ইনভেন্টরস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে মালয়েশিয়ান ইনভেশন এন্ড ডিজাইন সোসাইটি প্রতি বছর এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। গত ১০-১২ মে পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে আইটেক্স-২০১৮ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য হল উদ্যোক্তাদের ক্ষমতায়ন করা, তারা যেন তাদের সৃজনশীল বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোকে বাণিজ্যিকভাবে রূপান্তর করতে পারেন।

 

৩টি উদ্ভাবনী ক্যাটাগরিতে এটুআই অর্জন করল আইটেক্স অ্যাওয়ার্ড-২০১৮

পরিবেশবাদীদের বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯ মিলিয়ন পলিথিন আমাদের চারপাশে ফেলে দেয়া হয় যার মধ্যে মাত্র ১০% ডাস্টবিনে ফেলা হয়। উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ‘প্লাস্টিক থেকে জ্বালানি’ এর মাধ্যমে পলিথিনকে জ্বালানীতে রূপান্তরিত করা যায়। প্লাস্টিক পরিবেশের জন্য খুবই ক্ষতিকর একটি দ্রব্য, যা সঠিক উপায়ে অন্য একটি শক্তিতে রূপান্তরিত করা হলে বাংলাদেশ বর্জ্যমুক্ত করার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা যাবে। উল্লেখ্য এর ফলে ৩০ সেন্ট মূল্যের কাঁচামালকে ১.১০ ইউএস ডলারের জ্বালানীতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। অন্যদিকে হাসপাতালগুলোতে নেবুলাইজেশন সেবা প্রদানের জন্য প্রত্যেকটি রোগীর জন্য একটি সম্পূর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার বরাদ্দ করা থাকে। এতে করে একাধিক রোগী অসুস্থ হয়ে পড়লে সবাইকে একসাথে নেবুলাইজ করা যায় না। কিন্তু সেন্ট্রাল নেবুলাইজ সিস্টেম সহজেই গ্রামীন হাসপাতালে স্থাপন করা যেতে পারে এবং গ্যাস সরবরাহের একক উৎস থেকে একাধিক রোগীকে নেবুলাইজ করা সহজ হবে। এটি সৌর বিদ্যুত দ্বারা চালিত এবং এটি অনিয়ন্ত্রিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এলাকায় কাজ করতে পারে ফলে খরচও কম হয়। সময়ের আগে জন্ম নেয়া ও কম ওজনের শিশুদের জন্য ‘ক্যাঙ্গারু মাদার কেয়ার’ হল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক স্বীকৃত জনপ্রিয় চিকিৎসা পদ্ধতি। মাদার ক্যাঙ্গারু নামের এই মেডিকেল ডিভাইসটির বর্তমান বাজারমূল্য যেখানে ৫-৬ লাখ টাকা, সেখানে পোর্টেবল ইনফ্যান্ট ইনকিউবেটর ডিভাইসটির খরচ পড়বে মাত্র ৩০-৪০ হাজার টাকা। বাজারে প্রচলিত যন্ত্রটি যেখানে ১ জনকে সেবা দেয়, সেখানে এটি সেবা দেবে ১০-১২ জনকে। মেরামতের সহজ সুযোগ ছাড়াও এতে রয়েছে মোবাইল মনিটরিং এর মাধ্যমে দূর চিকিৎসারও সুযোগ। এই উদ্ভাবন ২০৩০ এর এসডিজি অর্জনে সুদূর প্রসারী ভূমিকা রাখতে পারবে এবং নিশ্চিত হবে নিরাপদ মাতৃত্ব এবং শিশুর বেড়ে উঠা।
উল্লেখ্য, পুরস্কার প্রাপ্ত ৩টি উদ্ভাবন এটুআই এর ইনোভেশন ল্যাব (আই-ল্যাব) এর মাধ্যমে আইডিয়াগুলো পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়নযোগ্য করে তৈরী করা হয়েছে। এটুআই ইনোভেশন ল্যাব এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উদ্ভাবনীমূলক কাজে উৎসাহ বৃদ্ধি করার মাধ্যমে প্রযুক্তিপ্রেমী মানুষদেরকে সমন্বিত করা।

১১. চীনে অনুষ্ঠিত ১৮তম এপিকটা অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ এ ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ জিতে নিয়েছে একশপঃ আইসিটি ক্ষেত্রে ‘অস্কারতুল্য’ এশিয়া প্যাসিফিক আইসিটি অ্যালায়েন্সে (এপিকটা) ‘অ্যাওয়ার্ড অব মেরিট’ পেয়েছে এটুআই-এর একসেবা প্ল্যাটফর্ম। চীনের গুয়াংজুতে গত ১৩ অক্টোবর এই পুরস্কার গ্রহণ করেন এটুআই এর ই-সার্ভিস স্পেশালিস্ট ও উপসচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। তার হাতে এটি তুলে দেন গুয়াংজু প্রদেশের অর্থনীতি ও তথ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শেন জিজং ও এপিকটা অ্যাওয়ার্ডের প্রধান বিচারক গানসেন ঝাও। আইসিটি খাতে উদ্ভাবন ও সৃজনশীলতাকে প্রসারিত করার উদ্দেশে এপিকটা পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে। একই সঙ্গে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট ও বিনিয়োগকারীদের কাছে মানদন্ড নিরূপণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রসারে উৎসাহিত করাও এই স্বীকৃতি প্রদানের লক্ষ্য।
এ বছর এপিকটা অ্যাওয়ার্ডের ১৮তম আসরে বাংলাদেশের পাশাপাশি অংশ নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রুনাই, চীন, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনামসহ মোট ১৭টি দেশ।

১২. জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট র‌্যাংঙ্কিং-এ ৩৫ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ক্ষেত্রে বিগত ৬ বছরে আশানুরূপ ব্যাপক উন্নয়নের ফলে সম্প্রতি বাংলাদেশ জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট জরিপে ১৫০তম স্থান থেকে ১১৫তম অবস্থান অর্জন করেছে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক বিভাগ (ইউএনডেসা) পরিচালিত ই-সরকার ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স (ইজিডিআই) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ০.৪৭৬৩ পয়েন্ট পেয়ে এবং গত দুই জরিপে ৩৫ ধাপ এগিয়ে ১৯৩টি দেশের মধ্যে ১১৫তম স্থানে অবস্থান করে নিয়েছে। যা ২০১৬ সালের জরিপ অনুযায়ী এই সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১২৪তম, ২০১৪ সালে ১৪৮তম এবং ২০১২ সালে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫০তম।
গত ২২ জুলাই ২০১৮ ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ও প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই তথ্য প্রদান করেন। এই জরিপে মূলত: আইসিটি টুলকে ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন সেবা তৈরি এবং মোবাইল বা ওয়েব অ্যাপেসে বা উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে অনলাইন সেবাসূচকে বাংলাদেশের মূল অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। এই অগ্রগতিই প্রতিবার বাংলাদেশের অবস্থানকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করছে। তাছাড়াও টেলিকমিউনিকেশন সূচক এবং হিউমেনকেপিটাল সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি হয়েছে।

জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট র‌্যাংঙ্কিং-এ ৩৫ ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশ

সংবাদ সম্মেলনে এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি এ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী একটি উপস্থাপনায় উল্লেখ করেন, “এই জরিপে অবস্থান তৈরিতে আমরা ৫টি পদ্ধতি গ্রহন করেছি; এক. বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের ড্যাসবোর্ড তৈরি করেছি এবং এদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতার সৃষ্টি করা হয়েছে। দুই. সৃষ্ট এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি মন্ত্রণালয় এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক তৈরি হয়েছে যা এনালগ থেকে ডিজিটাল সেবার প্রতি সবগুলো প্রতিষ্ঠানকে আগ্রহী করে তুলেছে। তিন. ইউএনডেসার সহযোগিতায় আমরা সরকারি বিশাল ডাটা বা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছি এবং উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে আইসিটি ফর এসডিজি প্রকল্প চালু করা হয়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডাটা বা তথ্য-উপাত্ত নিয়ে কাজের ক্ষেত্রে আমরা অনেক পরিণত হয়েছি। চার. সরকারের বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে জনগনের সাথে বিভিন্ন পদ্ধতিতে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে। পাঁচ. আমরা এখন প্রযুক্তিগত কাঠামো তৈরী করতে বিভিন্ন প্রায়োগিক কৌশল প্রয়োগ করতে সক্ষমতা অর্জন করেছি।”

১৩. এটুআই-এর ‘মুক্তপাঠ’ পেল পিআইবি-সোহেল সামাদ স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ঃ গণ মাধ্যম ক্ষেত্রে উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে পিআইবি-সোহেল সামাদ স্মৃতি পুরস্কার-২০১৮ পেয়েছে এটুআই-এর মুক্তপাঠ। গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সেমিনার কক্ষে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পিআইবি পরিচালনা বোর্ডেও সদস্য অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাবেরী গায়েন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআইবি’র মহাপরিচালক মোঃ শাহ আলমগীর। এছাড়া বক্তব্য রাখেন এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী, সংবাদ পাঠক সমিতির সভাপতি দেওয়ান সাঈদুল হাসান ও প্রয়াত সোহেল সামাদের আত্মীয় সংবাদ পাঠক নিলুফার ইয়াসমীন করিম। মুক্তপাঠের পক্ষে পুরস্কারের চেক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের গণমাধ্যম ক্ষেত্রে নতুন একটি উদ্ভাবন নিয়ে এসেছে ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্তপাঠ’ (www.muktopaath.gov.bd)। মুক্তপাঠের মাধ্যমে অনলাইনে সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশব্যাপী লক্ষাধিক গণমাধ্যম কর্মী সাংবাদিকতা পেশায় কর্মরত আছেন কিন্তু এ বিষয়ে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ খুব সীমিত। এমতাবস্থায় পিআইবি ও এটুআই-এর যৌথ উদ্যোগে দেশব্যাপী লক্ষাধিক গণমাধ্যম কর্মীদের জন্য অনলাইন ভিত্তিক সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুক্তপাঠ’ এর মাধ্যমে। যেকোনো সময়ে, যেকোনো স্থান থেকে আগ্রহী যেকেউ সাংবাদিকতা বিষয়ক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে পেশাগত মানোন্নয়ন করতে পারছেন। ইতোমধ্যে অনলাইনে সাংবাদিকতা বিষয়ের চারটি কোর্সে ছয় (০৬) হাজারের অধিক ব্যক্তি অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া কোর্সে একাধিক প্রবাসী শিক্ষার্থী আছেন, যারা দেশের বাইরে বিভিন্ন চ্যানেল ও পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছেন। কোর্সের সকল কনটেন্ট যেমন: সাংবাদিকতার বিভিন্ন খুঁটিনাটি বিষয়ে প্রবন্ধ, পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন ও ভিডিও লেকচার সাংবাদিকরা ডাউনলোড করে রাখতেও পারছেন।

১৪. জাতীয় এ্যাপ্রেনটিসশিপ সম্মেলন ২০১৮ অনুষ্ঠিতঃ এটুআই এবং আইএলও এর যৌথ আয়োজনে গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ, শিল্প-প্রতিষ্ঠান এর মালিক/প্রতিনিধি, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তাগণ এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিদেও নিয়ে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় এ্যাপ্রেনটিসশিপ সম্মেলন-২০১৮। উক্ত সম্মেলনের উদ্দেশ্য ছিল মূলত এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের মাধ্যমে এক অঞ্চলের ভাল দিকগুলো অন্য অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়া, চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলা করা, কারখানার মালিকদেও এ্যাপ্রেনটিসশিপ এ উদ্বুদ্ধ করা এবং এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামকে টেকসই করা। আইসিটি বিভাগ, ইউএনডিপি এবং ইউএসএইড এর সহায়তায় এটুআই বর্তমানে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের আওতায় ৩৫০টি শিল্প-কারখানায় চাহিদা ভিত্তিক ট্রেডে ১৫ হাজার বেকার যুবক-যুব মহিলাকে এ্যাপ্রেনটিস হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এর মহাপরিদর্শক মোঃ সামছুজ্জামান ভূঁইয়া। সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
এ সম্মেলনে মূলত এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের বিভিন্ন সমস্যা দূরীভূতকরণ ও টেকসইকরণ নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা করা হয়। সারাদেশে শিল্প-প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক প্রশিক্ষণ বা এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রামের সম্প্রসারণে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়ন সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সম্মেলনে এ্যাপ্রেনটিসশিপ বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম ‘গ্লোবাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ নেটওয়ার্ক’ এর ১২তম নেটওয়ার্ক হিসেবে গ্লোবাল এ্যাপ্রেনটিসশিপ নেটওয়ার্ক-বাংলাদেশ (GAN Bangladesh) এর শুভ উদ্বোধন করা হয়। ২০১৭ সালে এটুআই-এর সাথে এ নেটওয়ার্ক এর একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এ নেটওয়ার্ক এর আওতায় সারাদেশে এ্যাপ্রেনটিসশিপ প্রোগ্রাম সফল ও সুচারুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, দক্ষতা উন্নয়নকারী সংস্থা ও উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা সমূহ একযোগে কাজ করবে।

১৫. উদ্যোক্তা সম্মেলন-২০১৮ঃ জনগণের দোরগোড়ায় সেবা প্রদানে ডিজিটাল সেন্টারে নিরলসভাবে কর্মরত দেশ সেরা ৩০০জন উদ্যোক্তাদের নিয়ে এটুআই গত ১৯ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজন করেছে ‘উদ্যোক্তা সম্মেলন- ২০১৮’। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। ‘উদ্যোক্তা সম্মেলন- ২০১৮’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান।
দেশ সেরা উদ্যোক্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করা ও তাদের কাজের স্বীকৃতি প্রদান, সরকারি-বেসরকারি নতুন সেবা সংযুক্তিতে মতামত গ্রহণ, শিক্ষা সফরের মাধ্যমে নিজেদেও মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন, জেলাভিত্তিক উদ্যোক্তা এম্বাসেডর তৈরি করা।

১৬. জাতিসংঘে ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারি সেবায় উদ্ভাবন’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিতঃ বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক কার্যালয় ও আস্তানা সিভিল সার্ভিস হাব-কে সাথে নিয়ে সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্ক ফর পাবলিক সার্ভিস ইনোভেশন গত ৩০ নভেম্বর জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতার মাধ্যমে সরকারি সেবায় উদ্ভাবন (Public Service Innovation through South-South Net) শীর্ষক এক কর্মশালার আয়োজন করে। জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়াবলী বিভাগ এবং এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কর্মশালাটিতে সহায়তা প্রদান করে। কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থানীয় প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন এবং জাতিসংঘের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক কার্যালয়ের পরিচালক ও জাতিসংঘ মহাসচিবের দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বিষয়ক বিশেষ দূত জর্জ সেডিয়েক (Jorge Chediek)। এশিয়ান এসোসিয়েশন ফর পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এর প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. অ্যালেক্স ব্রিলিয়ানটেস্ জুনিয়র (Alex Brilliantes Jr.) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার মডারেটর ছিলেন এটুআই এর পলিসি অ্যাডভাইজর আনীর চৌধুরী।
কর্মশালার পূর্বে নিউইয়র্কের গ্লোবাল ফিউচারস গ্রুপে (জিএফজি) একটি ফিল্ড ভিজিট এবং ম্যাচ-মেকিং এর আয়োজন করা হয়েছে। সাউথ সাউথ নেটওয়ার্কের একটি উদ্ভাবনী পদ্ধতি হলো ম্যাচ-মেকিং, যার মাধ্যমে যেসব দেশ কার্যকরভাবে বিভিন্ন জনগণের পরিষেবা চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে উদ্ভাবনী আইডিয়া প্রয়োগ করে সফল হয়েছে সেসব সমাধানগুলো অন্য যেকোন দেশের জন্য রপ্তানি করার একটি পদ্ধতি। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই ম্যাচ-মেকিং কর্মশালাটি ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল। উক্ত কর্মশালায় ১৮টি রাষ্ট্র অংশগ্রহণ করেছিল এবং মোট ৩৮টি সমঝোতার সুযোগ তৈরী হয়েছিল। কিছু সফল উদাহরণের মধ্যে একটি হলো ২০১৮ সালের জুলাইয়ে এটুআই-এর বেশ কিছু সফল উদ্যোগ নিয়ে সোমালিয়ায় অনেকগুলো কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালে কাজাকিস্তানের আস্তানায় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচ-মেকিং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

১৭. এটুআই-এর ভাস্কর ভট্টাচার্য অর্জন করেছেন ইউনেস্কো অ্যাওয়ার্ডঃ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ডিজিটাল ক্ষমতায়নের জন্য এটুআই এর এক্সেসিবিলিটি বিষয়ক ন্যাশনাল কনসালটেন্ট ভাস্কর ভট্টাচার্য প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে ইউনেস্কো/ আমির জাবের আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ অ্যাওয়ার্ড (২০১৮-১৯) অর্জন করেছেন। প্রতিবন্ধীদের ব্যবহার উপযোগী তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ‘এক্সেসিবল ডিকশনারি’ উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধীদের ক্ষমতায়নে অবদানের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারটির আর্থিক মূল্যমান ২০,০০০ মার্কিন ডলার। ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কোর সদও দপ্তরে গত ৩ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কুয়েত সরকারের প্রতিনিধি শেখ মোবারক জাবের আল আহমদ আল জাবের আল সাবাহ উপ¯ি’ত হয়ে ভাস্কর ভট্টাচার্যের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন।

এটুআই-এর ভাস্কর ভট্টাচার্য অর্জন করেছেন ইউনেস্কো অ্যাওয়ার্ডঃ

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী বান্ধব একটি অভিধান বা ডিকশনারি হলো ‘এক্সেসিবল ডিকশনারি’ (accessibledictionary.gov.bd)।  শুধু দৃষ্টি প্রতিবন্ধীরাই নয়, যেকেউ ব্যবহার করতে পারছেন। প্রয়োজনীয় সব ধরনের শব্দার্থ দেওয়া আছে এই অভিধানে। এটুআই ও ইপসা যৌথভাবে এই অভিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেছে। এই অভিধানটি চার ভাবে কাজ করছে। প্রথমতঃ accessibledictionary.gov.bd ওয়েবসাইটে ঢুকে যেকেউ ব্যবহার করতে পারবে। যাদের ইন্টারনেট নেই, তাদের জন্য রয়েছে ডেস্কটপ ভার্সন। যেখানে সাইট থেকে ডিকশনারিটি নামিয়ে কম্পিউটারে ইনস্টল করে নিলে ইন্টারনেট ছাড়াই ব্যবহার করতে পারবেন। এছাড়া রয়েছে অ্যান্ড্রয়েড ভার্সন। ফলে স্মার্টফোনে প্লে-স্টোর থেকে অ্যাপ নামিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন।
ইউনেস্কোর এই পুরস্কারটি কুয়েত সরকারের সহায়তায় ২০০২ সাল থেকে শুরু হয়েছে, যা মূলত ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে প্রতি দুই বছর পর পর প্রতিবন্ধীদের শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য প্রদান করা হয়।

১৮. দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের সমন্বয় নিশ্চিতকরণে ‘দক্ষতা বাতায়ন’এর উদ্বোধনঃ এটুআই এর আয়োজনে কক্সবাজারের হোয়াইট অর্কিড হোটেলে গত ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ জাতীয় এ্যাপ্রেনটিসশিপ সম্মেলনের ২য় দিনের প্রথম অধিবেশনে ‘দক্ষতা বাতায়ন skills.gov.bd’ এর উদ্বোধন করা হয়। প্রধান অতিথি হিসেবে এটি উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার। দক্ষতা বাতায়ন হচ্ছে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম যার মাধ্যমে এটুআই প্রোগ্রামের বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়মিত মনিটরিং ও মেন্টরিং, শিল্প প্রতিষ্ঠানের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা সংগ্রহ এবং দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠান সমূহের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা যায়।

১৯. শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্য এবং নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ বিষয়ক দু’টি চ্যালেঞ্জ ফান্ড উদ্বোধনঃ পরিবেশ অধিদপ্তর এবং এটুআই এর যৌথ উদ্যোগে শিল্প কারখানার দূষিত বর্জ্য এবং নদী দূষণ নিয়ন্ত্রণে ‘ইটিপি মনিটরিং সিস্টেম’ ও রিমোট রিভার ওয়াটার মনিটরিং সিস্টেম’ শীর্ষক পরিবেশ চ্যালেঞ্জ ফান্ড উদ্বোধন করা করেছে। ঢাকাস্থ’ আগারগাঁওয়ে অবস্থিত পরিবেশ অধিদপ্তর এর সম্মেলন কক্ষে পরিবেশ রক্ষা এবং পর্যবেক্ষণ বিষয়ক চ্যালেঞ্জ ফান্ড দুটি উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী।
পরিবেশ চ্যালেঞ্জ ফান্ড একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া, যা জাতীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনী আইডিয়ার মাধ্যমে ইটিপি মনিটরিং সিস্টেম অনলাইনে শিল্প কারখানায় দূষিত বর্জ্য নিয়ন্ত্রণ এবং রিমোট রিভার ওয়াটার মনিটরিং সিস্টেম নদীর পানির বিভিন্ন মানের নিয়মিত তথ্য দিয়ে দূষণের হাত থেকে রক্ষা করবে। উদ্ভাবকদের কাছ থেকে আসা আইডিয়া কিংবা প্রজেক্ট বাস্তবায়নে উক্ত চ্যালেঞ্জ ফান্ড প্রদান করা হবে। এই চ্যালেঞ্জ ফান্ডের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ খুঁজে বের করা, নাগরিকদের যুক্ত করে সমস্যা সমাধানে প্রচেষ্টা গ্রহণ, উদ্ভাবকদের মধ্যে উদ্ভাবন এবং বিজয়ী হওয়ার সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা তৈরি করা, জাতীয় পর্যায়ে উদ্ভাবনকে ত্বরান্বিত করা এবং আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান। প্রতিটি শিল্প কারখানা থেকে নির্গত বর্জ্যে দূষিত সংক্রামক পদার্থ মিশে থাকে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জলাধার কিংবা নদীর পানিকে দূষিত করে। এজন্য পরিবেশ ছাড়পত্রের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিল্প কারখানায় এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই ইটিপি সিস্টেম সঠিকমাত্রায় মান নিয়ন্ত্রণ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে একটি অনলাইন পদ্ধতি চালুর উদ্দেশ্যে এই চ্যালেঞ্জ ফান্ড ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে পানির গুনগত মান যাচাই পরিবেশ পর্যবেক্ষণের জন্য অন্যতম একটি বিষয়। যখন পানির কোয়ালিটি নষ্ট হতে থাকে তখন শুধু জলজ জীবনের উপরই কেবল প্রভাব পড়ে না, বরং পুরো ইকোসিস্টেমের উপর প্রভাব বিস্তার করে। পানির গুনগত মান মনিটরিং গবেষকদের ইকোসিস্টেমের উপর মানব জাতির প্রভাব নির্ণয়ে সহায়তা করে।

২০. সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বৈততা পরিহার শীর্ষক প্রকল্পের উদ্বোধনঃ সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বৈততা যাচাইয়ের লক্ষ্যে এটুআই প্রোগ্রাম এর সহায়তায় ১৮ অক্টোবর ‘উন্নয়ন প্রকল্পের দ্বৈততা পরিহার’ শীর্ষক পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন করেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন।
এই অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমে যখনই বাংলাদেশের কোনো উপজেলায় নতুন প্রকল্পের প্রস্তাব উত্থাপিত হবে, সফটওয়্যারটি খুব সহজেই সেটি পুরোনো কোনো প্রকল্পের সাথে নতুন প্রকল্পটির দ্বৈততা রয়েছে কিনা তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করবে যা বিদ্যমান পদ্ধতিকে অনেকাংশে সহজ করে তুলবে এবং স্বল্প সময়ে, নূন্যতম খরচে কাজটি করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দূর্নীতি হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি ৪৯২টি উপজেলায় সঠিক ডাটাবেজ ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। এই সিস্টেমের মাধ্যমে উন্নয়ন খাতে সরকারের খরচ প্রতি বছর আনুমানিক ২৪৬ মিলিয়ন ডলার হ্রাস পাবে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা প্রশাসন সরাসরি এই সিস্টেমের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে উপকৃত হবে।

২১. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের ন্যায় ‘এসডিজি ট্র্যাকার’ ব্যবহার করবে পেরু সরকারঃ বিশ্বব্যাপী দক্ষিণ-দক্ষিণের দেশগুলোর মধ্যে নাগরিক কেন্দ্রিক পরিষেবা সরবরাহের ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার পেরু সরকার ‘এসডিজি ট্র্যাকার’ সিস্টেম ব্যবহার করে বাংলাদেশের ন্যায় তাদের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের ট্র্যাকিং করবে। এসডিজি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে সহযোগিতার কাঠামো প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে এটুআই এবং পেরু সরকারের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব স্ট্যাটিস্টিক্স অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স (আইএনইআই) এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষে এটুআই-এর প্রকল্প পরিচালক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এবং পেরুর পক্ষে আইএনইআই-এর ডেপুটি চীফ ড. আনীবাল সানসেজ এগুইলার নিজ-নিজ দেশের পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। দুবাইয়ের ইউএন ওয়ার্ল্ড ডাটা ফোরামে গত ২৩ অক্টোবর, ২০১৮ এটুআই, আইএনইআই এবং চিলড্রেন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফাউন্ডেশন (সিআইএফএফ) যৌথভাবে সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, এটুআই কর্তৃক নাগরিক কেন্দ্রিক সেবা প্রদান সম্পর্কিত জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতার পাশাপাশি জাতীয় উন্নয়ন পর্যবেক্ষণ এবং এসডিজি ট্র্যাকারের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের জন্য একটি শক্তিশালী পদ্ধতি, এসডিজি ট্র্যাকার ব্যবহার করবে।

২২. নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেতে মোবাইল অ্যাপ জয় এর শুভ উদ্বোধনঃ এটুআই এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের যৌথ আয়োজনে গত ২৯ জুলাই, ২০১৮ বাংলাদেশ শিশু একাডেমির অডিটোরিয়াম-এ নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেতে মোবাইল অ্যাপ জয় এর উদ্বোধন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মেহের আফরোজ চুমকি।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে তাৎক্ষণিক সহায়তা পেতে মোবাইল অ্যাপ জয় এর শুভ উদ্বোধন
জয় মোবাইল অ্যাপস হল এটুআই প্রোগ্রামের অর্থায়নে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে মাল্টিসেক্টরাল প্রোগ্রামের উদ্ভাবিত একটি অ্যাপলিকেশন সফটওয়ার। অ্যাপসটি নির্যাতনের শিকার বা নির্যাতনের আশংকা রয়েছে এমন নারী ও শিশুকে তাৎক্ষনিক সহায়তা প্রদান করার প্রয়াসে উদ্ভাবিত। যেকোন অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সম্পন্ন ফোন থেকে গুগল অ্যাপস্টোরের সার্চ অপশনে গিয়ে ‘জয় ১০৯’ লিখে সার্চ করে অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে। উক্ত অ্যাপের মাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি নির্যাতনের জরুরী মুহূর্তে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সুপার, মেট্রো এলাকার উপ-পুলিশ কমিশনার, নির্দিষ্ট ৩টি এফএনএফ নাম্বার এবং নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে ন্যাশনাল হেল্প লাইন সেন্টার (১০৯) এ এসএমএস আসবে। এছাড়াও, নির্যাতন/সহিংসতার মুহূর্তে মোবাইলে নির্দিষ্ট ইমার্জেন্সি বাটন চেপে ভিক্টিমের জিপিএস লোকেশন, ছবি এবং অডিও রেকর্ডিং মোবাইল মেসেজ-এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে জানানো যাবে। প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে জয় অ্যাপস সেন্টার থেকে সরাসরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। লিখিত অভিযোগ পাঠানোর জন্য অ্যাপসটির অভিযোগ করুন অপশনে গিয়ে অভিযোগের ধরণ বাছাই করে বিবরণসহ অভিযোগ করা যাবে। এছাড়াও ‘সংযুক্ত করুন’ অপশনে ছবি এবং অডিও সংযুক্ত করে প্রেরণ করা যাবে। অ্যাপস থেকে ধারণকৃত ছবি ও অডিও শুধুমাত্র বাস্তবায়নকারী সংস্থা অর্থাৎ জয় অ্যাপস সেন্টার থেকে দেখা যাবে। সেক্ষেত্রে সম্পূর্ন তথ্য গোপন রাখা হবে। সিস্টেম আপডেটের সাথে সাথে অ্যাপসটি স্বংয়ক্রিয়ভাবে আপডেট হবে।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি৩১ডি/১৮

Please Share This Post.