এখন ঘরে বসে করা যাবে জিডি

এখন আর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে থানায় যেতে হবে না। ঘরে বসে অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আপনি নিজেই করতে পারেন সাধারণ ডায়েরি। আপনার দলিল, সার্টিফিকেট, পরিচয়পত্র ইত্যাদি হারানো, চুরি, ছিনতাই সংক্রান্ত তথ্য জানিয়ে বাসায় বসেই নিরাপদে অনলাইনে জিডি করতে পারেন।

শুরুতে শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটনের সব থানার আওতায় বসবাসকারীরা এ সুযোগ পাচ্ছেন। পাসপোর্ট, ব্যাংকের চেক বই, সার্টিফিকেটসহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারিয়ে গেলে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি করা যাবে। সকল তথ্য পাওয়া যাবে ডিএমপির ওয়েবসাইটে

পাইলট প্রকল্প হিসেবে নতুন সার্ভারে একটি অথবা দুটি থানায় এটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। ইতিবাচক ফল (ফিডব্যাক) পাওয়া গেলে দেশের সব থানা (৬৪৩টি) অনলাইন জিডি কার্যক্রমের আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই (একসেস টু ইনফরমেশন) প্রকল্পের আওতায় এটি চালু করা হচ্ছে। এদিকে, চলমান অনলাইন জিডি কার্যক্রমের সার্ভারে প্রবেশাধিকার নেই পুলিশের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীর দেশে ফেরার পর চলতি মাসের শেষ সপ্তাহে এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতরে বৈঠক হবে। বৈঠকে আপডেট ভার্সনে অনলাইন জিডি কার্যক্রম উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে কোন থানায় অনলাইন জিডি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে তা এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই প্রকল্পের অধীনে ২০১০ সালের ৩ মার্চ উত্তরা মডেল থানায় অনলাইন জিডির উদ্বোধন করা হয়। ওই বছরের এপ্রিলে ডিএমপির সব থানায় অনলাইন জিডির সেবা চালু করা হয়। সাধারণ বিষয়ে থানায় গিয়ে সময় নষ্ট বা হয়রানির শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়া এবং ডিজিটাল বাংলাদেশের অংশ হিসেবে থানায় থানায় এ সেবা চালু করা হয়। চালুর পরবর্তী তিন বছরে লক্ষাধিক জিডি হয় অনলাইনে। সার্ভার ব্লক থাকায় অনলাইন জিডির সবশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

ডিআইজি হাবিবুর রহমান জানান, নতুন সিস্টেমে অনলাইন জিডি করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে অনলাইনে কিছু বাধ্যতামূলক তথ্য চাওয়া হবে। প্রথমেই এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) নম্বর চাওয়া হবে। এনআইডি নম্বর সঠিক হলে নাম ঠিকানা চাওয়া হবে। সঠিক নাম-ঠিকানা পুলিশের হাতে আসার পরই জিডির বিষয়বস্তু লিখে মেইল পাঠাতে পারবেন ওই ব্যক্তি।

যেসব জিডিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য থাকবে ওইসব জিডি নিয়ে আমরা কাজ করতে পারব। এরপর পুলিশ সদর দফতর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে থাকে। আপডেট ভার্সনে কেউ জিডি করতে চাইলে প্রথমেই আমাদের সামনে জিডিকারীর নাম-পরিচয় (জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য) ভেসে আসবে।
পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত ডিআইজি মনিবুর রহমান বলেন, এবারের অনলাইন জিডির প্রক্রিয়াটি খুবই ভালো। আশা করা যাচ্ছে, নতুন পদ্ধতিতে অনলাইন জিডি চালু করা হলে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না। টুকটাক সমস্যা দেখা দিলে সেসব সমাধান করা যাবে। কাজ শুরু করার আগে তো আমরা সমস্যা বুঝতে পারব না। ২০১০ সালে কাজ শুরু করতে না পারলে আজকে এ আপডেট হতো না। তিনি বলেন, অনলাইন জিডি কার্যক্রম বেশ কিছুদিন ধরে স্থগিত আছে। তাই নতুন ভার্সনে অনলাইন জিডি কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। নতুন ভার্সনের জিডিতে এনআইডির লিংক থাকায় কেউ হয়রানিমূলক জিডি করতে সাহস পাবে না।

পাসপোর্ট, পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেকবই, সার্টিফিকেট বা অন্য যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলিল হারালে এবং গৃহকর্মী, দারোয়ান, কেয়ারটেকার, নৈশপ্রহরীর অ-আমলযোগ্য অপরাধের বিষয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পুলিশ সহজে সেবা দিতে পারত।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/২৫এম/১৯