এক মাসেই বেসিসের মেম্বার সার্ভিস অটোমেটেড হচ্ছে-আলমাস কবির

সৈয়দ আলমাস কবির
সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যসোসিয়েশন অফ সফটওয়্যার এন্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড।

১৯৮৯ সালে ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়রিংয়ে গ্র্যাজুয়েট করেছি। ১৯৯৯ সালে দেশে ফিরে কনকর্ড ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড কন্সট্রাকশন লিমিটেডে সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করি। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস সম্পন্ন করে রেডিও সাক-এ ‘ট্যান্ডি সার্টিফায়েড কম্পিউটার সেলস স্পেশালিস্ট’ হিসেবে যোগ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গরাজ্যের সেলসের দায়িত্ব পালন করেছি। পরবর্তীতে আবার দেশে ফিরে এসে আইইউবি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছি।

২০০১ সালে মেট্রোনেট প্রতিষ্ঠা করি। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক মেট্রোনেটের। সারা বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় ৪৭০টির বেশি শহরে মেট্রোনেটের নেটওয়ার্ক রয়েছে। পুরো নেটওয়ার্ক সিসকোর তৈরি। এটি দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় সিসকো নেটওয়ার্ক। সবগুলো ব্যাংক আমাদের কাস্টমার, বড় বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান কাস্টমার।
মেট্রোনেটের এর পাশাপাশি মেট্রো টেল নামে আমাদের একটা ব্র্যান্ড রয়েছে। আইপি টেলিফোনি সেবা। ০৯৬১২১ হচ্ছে আমাদের প্রিফেক্স। এটাতেও আমরা মার্কেট লিডার। মাল্টি ন্যাশনাল ব্যাংক, সরকারি সংস্থা ব্যবহার করে। জাতীয় জরুরি সেবা নম্বার ৯৯৯, এটা মেট্রো টেলের লাইনে চলে।

মেট্রো স্কাই নামে বাংলাদেশের প্রথম এবং একমাত্র ক্লাউড কম্পিউটিং প্লাটফর্ম রয়েছে আমাদের। ডেটা সেন্টার অনেকেই করেছে কিন্তু দেশে ক্লাউড প্লাটফর্ম আর কেউ করেনি। মেট্রো স্কাই ক্লাউড প্লার্টফর্মটি পুরোপুরি অ্যামাজন ক্লাউড প্লাটফর্ম এডব্লিউএস এর মতো বরং তার থেকেও বেশি কিছু ফিচার রয়েছে যেমন ম্যানেজ সার্ভিসটা আমরা দেই, এডব্লিউএস ম্যানেজ সার্ভিস দেয় না। আমরা অ্যামাজনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছি এবং কয়েকটা জায়গায় সফলও হয়েছি। যেমন বাংলাদেশে অ্যামাজন ব্যবহার করতো কিন্তু এখন আর প্রয়োজন পড়ছে না। অ্যামাজন থেকে সরে এসে মেট্রো স্কাই ব্যবহার করছে। মেট্রো স্কাইতে শুধু বাংলাদেশের ব্যবহারকারী নয়, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এমনকি ভারতের থেকেও ব্যবহারকারী রয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা বেশ সফল। এছাড়াও মেট্রো নেট আরো বিভিন্ন ধরনের কাজ করছে, যার মধ্যে পজ মেশিন অন্যতম।

প্রশ্নঃ স্বল্প সময়ের জন্য বেসিস সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেয়েছেন, এ বিষয়ে আপনার মতামত কি?
উত্তরঃ আমাদের ইন্ডাস্ট্রির জন্য বড় একটা সুবিধা হচ্ছে, বেসিসের প্রেসিডেন্ট যিনি ছিলেন মোস্তাফা জব্বার তিনি এখন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী। বেসিসের কাজ হচ্ছে, ইন্ডাস্ট্রির সমস্যাগুলো নিয়ে দেনদরবার করা সরকারের সঙ্গে। তো এখন সুবিধাটা হচ্ছে, বর্তমানে যিনি মন্ত্রী তিনি নিজেই ইন্ডাস্ট্রির লোক। যেহেতু তিনি নিজেই ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্ব পালন করে গিয়েছিলেন, তাই উনাকে আর এগুলো বোঝাতে হচ্ছে না। এই সুযোগটা আমি কাজে লাগাতে পারছি। যেমন কয়েকটা উদাহরণ দেই, এনবিআরের সাথে আমাদের কিছু ইস্যু আছে, ডিউটি নিয়ে, ট্যাক্স নিয়ে কিছু সমস্যা আছে, আমরা এক্সপোর্টে যে ইনসেনটিভ পাওয়ার কথা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে কিছু ইস্যু আছে, উনাকে বলার সঙ্গে সঙ্গে উনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আগে মন্ত্রীকে কনভিন্স করা লাগতো, তারপর অনুরোধ করতাম, এখন ওই একটা স্টেপ আমার কমে গেছে। এটা আমার সবচেয়ে বড় সুবিধা।
আর চ্যালেঞ্জ যেটা সেটাতো অবশ্যই সময়। কারণ যখনি কেউ নতুন দায়িত্ব নেয়, যেকোনো অ্যাসোসিয়েশনের ক্ষেত্রে, সদস্যদের অনেক প্রত্যাশা থাকে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করার জন্য সময়ের দরকার হয়, সেই সময়টা আমার কাছে কম, এটাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। তারপরও আমি খুব আশাবাদী, তার কারণ হচ্ছে, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বেসিসের সদস্যদের সম্পৃক্ত করতে পেরেছি। বেসিসের ২৪টি স্ট্যান্ডিং কমিটি আছে। এই স্থায়ী কমিটিগুলো অনেকদিন ধরেই একটু নীরব ছিল, আমি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরেই সব স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যানদেরকে অনুরোধ করি, আপনারা ৩১ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১টা মিটিং করেন, মিটিং করে স্ট্যান্ডিং কমিটি থেকে রিকোমেন্ডেশন আমাদেরকে পাঠান, এরপর একাধিক অনেকগুলো মিটিং হয়েছে এবং অনেকগুলো রিকোমেন্ডেশন চলে এসেছে। ২৪টা স্ট্যান্ডিং কমিটিতে প্রায় ৪০০ এর বেশি সদস্য। অর্থাৎ হঠাৎ করে অনেক সদস্য অ্যাকটিভ হয়ে গেছে। দায়িত্ব নিয়েছি বেশি দিন হয়নি এর মধ্যে অনেক সদস্য সক্রিয় হয়ে গেছে।

প্রশ্নঃ আপনার এই তিন মাস মেয়াদে ইন্ডাস্ট্রিকে ঘিরে বাস্তবায়নযোগ্য কি কি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন?
উত্তরঃ এক্সপোর্ট ইনটেনসিভের যে ১০ শতাংশ সরকার ঘোষণা করেছে, এজন্য সরকারকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি প্রথমেই। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে এবং অর্থমন্ত্রীকে। আমাদের ওপর উনারা কনফিডেন্স রেখেছেন যে, আমরা করতে পারবো। এখন বেসিস যেটা করছে, বেসিস একটা গাইডলাইন প্রপ্রোজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যে, এই কাজটা কিভাবে হবে। একজন এক্সপোর্টার সফটওয়্যার বা সফটওয়্যার সার্ভিস যখন এক্সপোর্ট করবে, সে ১০ শতাংশ ইনসেনটিভের জন্য কিভাবে আবেদন করবে, তাকে তার কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে- এটাকে যাচাই বাছাই করবে? এই যাচাই বাছাইয়ের কাজটা বেসিস করে দেবে। এটার গাইডলাইনটা সরকারের কাছে প্রপ্রোজ করা হয়েছে। এটা আমার সবচেয়ে বড় কাজ, গাইডলাইনটাকে তাড়াতাড়ি পাশ করে নিয়ে আসা। এটাই প্রধান পরিকল্পনা।
দ্বিতীয় কাজ হচ্ছে, আমাদের ডিউটি এবং ট্যাক্স সম্পর্কিত কিছু সমস্যা আছে। এনবিআরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইতিমধ্যে একবার আলোচনা করেছি, শিগগির আবারো আলোচনায় বসবো। আমাদের কিছু কিছু সফটওয়্যার যেমন অপারেটিং সিস্টেম, মাইক্রোসফট অফিস, ডেটাবেজ, সিকিউরিটি সফটওয়্যার- ফায়ারওয়্যার, অ্যান্টিভাইরাস এগুলো কিন্তু বাংলাদেশ তৈরি হয় না। এই জাতীয় সফটওয়্যারগুলো যদি আমরা সহজলভ্য না করতে পারি, তাহলে কিন্তু আমরা এগুতে পারবো না। এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই তো অন্য সফটওয়্যার তৈরি হবে, ডেটাবেজের ওপর ভিত্তি করেই তো ইআরপি তৈরি হবে অথবা অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াতো কম্পিউটার অন হবে না। সুতরাং এই সফটওয়্যারগুলোর ওপর যেন ডিউটি না রাখা হয়। এটা আমি বোঝাবার চেষ্টা করছি, ইতিমধ্যে বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার মিটিং করেছি।

এছাড়া আমাদের ট্যাক্স এক্সামশন সার্টিফিকেট লাগে। বাংলাদেশ সরকার খুব দূরদর্শী একটা কাজ করেছিলেন সেটা হচ্ছে, ২০২৪ সাল পর্যন্ত আমাদেরকে ট্যাক্স হলিডে দিয়েছে। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, ট্যাক্স হলিডে সুবিধাটা নেওয়ার জন্য, প্রতিষ্ঠানকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। ব্যাংকে যখন টাকা আসে বা কাস্টমার যখন বিল দেয় তারা কিন্তু অ্যাডভান্সড ১০ শতাংশ টাকা কেটে রাখে। সে যখন বলে আমি ট্যাক্স হলিডে উপভোগ করি, তখন ব্যাংকার বলে প্রমাণ দেখাও। প্রমাণ দেখাতে গেলে এনবিআরের একটা চিঠি লাগবে, এই চিঠি বার করতে গেলে অনেক ঝামেলা হয়। এটার বিষয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে ইনফারমালি কথা বলেছি। ফরমালি হয়তো শিগগির বলবো। উনি রাজি হয়েছেন যে, এ ধরনের ঝামেলা পোহাতে হবে না। এটা হয়তো বেসিসের মাধ্যমেই আমরা সবাধান করার চেষ্টা করবো। বেসিসের পক্ষ থেকে এনবিআরকে বলে দেওয়া হবে যে, হ্যাঁ এই কোম্পানিটা জেনুইন।
আরেকটা বড় কাজ হচ্ছে, বেসিস তো মেম্বারদের অ্যাসোসিয়েশন। মেম্বারদের অ্যাসোসিয়েশনে মেম্বারদেরকে যে সার্ভিস দেওয়া হয়, এই সার্ভিসটা আমরা এনহ্যান্স করার চেষ্টা করছি। ২টা উদাহারণ বলছি- আমাদের অনেক মেম্বার কিন্তু ট্যাক্স সম্পর্কিত বা বিভিন্ন ধরনের ইস্যু নিয়ে ঝামেলায় পড়ে। অনেক সময় তার এমপ্লয়ী তাকে না বলে চলে গেছে, তার কাস্টমার নিয়ে চলে গেছে, তথ্য নিয়ে চলে গেছে ইত্যাদি অনেক ধরনের সমস্যা হয়। খুব শিগগির খুব বড় এবং ভালো একটা লিগ্যাল ফার্মের সঙ্গে আমরা চুক্তি স্বাক্ষর করতে যাচ্ছি, যেখানে এই লিগ্যাল ফার্ম আমাদের বেসিসের সব সদস্যদের ফ্রি আইনী পরামর্শ দেবে। বেসিস সদস্যরা বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ নিতে পারবে। পরবর্তীতে যদি মামলার দরকার হয়, আইনজীবীর দরকার হয় তখন তারা ডিসকাউন্টেড ফিতে কাজটা করে দেবে।

একই ধরনের আরেকটা জিনিস করতে যাচ্ছি, যারা ইন্টালেকচুয়াল প্রোপার্টি (আইপি) বা পেটেন্ট নিয়ে কাজ করবেন, মুশকিলটা হচ্ছে, যদি এই কপিরাইট বা পেটেন্ট আপনার না থাকে, আপনি অনেক সময় কেস করে বা দাবি করে জিততে পারবেন না। সেজন্য আমি এনকারেজ করি সবাইকে যে, আপনার প্রোডাক্টটিকে আপনি কপিরাইট করেন, পেটেন্ট করেন। কিন্তু মুশকিলটা হয়ে গেছে বেশিরভাগ লোক, ৯৯ শতাংশ লোক কিভাবে এটা করতে হয় তা জানে না। পেটেন্টের জন্য অ্যাপ্লাই প্রক্রিয়া বেশ জটিল। এজন্য পেটেন্ট বা ইন্টালেকচুয়াল প্রোপার্টি (আইপি) বিষয়ক যে আইনজীবীরা রয়েছেন, আইপি ফোরাম আছে বাংলাদেশে, এই আইপি ফোরামের সঙ্গে চুক্তিস্বাক্ষর করে আমাদের সদস্যদের জন্য ফ্রি পরামর্শের ব্যবস্থা করবো। ফ্রিতে তথ্য জানাবে, পরবর্তীতে ডিসকাউন্টেড মূল্যে কাজটা করে দেবে।

আমি দায়িত্ব নেওয়ার পরে এই সার্ভিসগুলো আমি নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছি। আর আমাদের ইতিমধ্যে যে সার্ভিসগুলো আছে, সেগুলো অনেক মেম্বার জানে না যে বেসিস থেকে কি কি সুবিধা বা সার্ভিস দেওয়া হয়। সেগুলো সবাইকে জানানোর জন্য আমরা ওয়েবসাইটটাকে আরো ইন্টারঅ্যাকটিভ করছি, ওয়েবসাইটে সব সার্ভিস উল্লেখ থাকবে এবং পুরো জিনিসটাকে অটোমেটেড করা হচ্ছে। ওয়েবসাইট অটোমেটেডের ফলে সদস্যরা সব সার্ভিস অনলাইন থেকে নিতে পারবে, অনলাইনে অ্যাপ্লাই করতে পারবে, টিকেটিং সিস্টেম থাকবে অর্থাৎ আমরা বেসিসে যারা ম্যানেজমেন্টে থাকবো আমরা দেখবো অর্থাৎ বেসিসের যে সেক্রেটারিয়েট স্টাফ আছে তারা দেখবো, কে যোগাযোগ করেছে, কবে যোগাযোগ করেছে, কোনো মেম্ব^ার যদি কোনো কমপ্লেইন দিয়ে থাকে কতদিন লেগেছে তার উত্তর দিতে, এই ট্র্যাকিংটা আমাদের থাকবে এবং যদি ফি জমা দিতে হয় তাহলে অনলাইন পেমেন্ট থাকবে, অনলাইন গেটওয়ে থাকবে। অর্থাৎ মেম্বার সার্ভিস পুরোটাকেই আমরা অনলাইন করে ফেলছি এবং ১ মাসের মধ্যে এটা লঞ্চ করা হবে।

প্রশ্নঃ বেসিস এর জন্য আপনার দীর্ঘ মেয়াদী কোনো পরিকল্পনা থাকবে কি না? থাকলে সেগুলো কি?
উত্তরঃ দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমার প্রধান যেটা কাজ, বাংলাদেশ সত্যিকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধান কাজটা হবে গর্ভমেন্টকে ডিজিটাল করা। ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়ন করা। বিভিন্ন ধরনের সিটিজেন সার্ভিস ডিজিটালাইজ করা। প্রায় এ ধরনের সাড়ে ৪ হাজার সার্ভিস চিহ্নিত করেছে সরকারের এটুআই প্রকল্প। এখানে একটা বড় মার্কেট রয়েছে। এই কাজগুলো আমাদের ইন্ড্রাস্টির লোকেরাই করবে। তো এখানে কিভাবে বেসিস এবং সরকার যৌথভাবে কাজ করতে পারে, বেসিস কিভাবে সাহায্য করতে পারে বা সরকার কিভাবে আমাদের পরামর্শ নিতে পারে, যে কাজগুলো বেসিসের সদস্যরা করতে সক্ষম, সেগুলো যেন বেসিস সদস্যদেরকে দেওয়া হয় এ ব্যাপারে আমরা একটা ডায়ালগ শুরু করেছি। সরকারকে ই-গর্ভনেন্স বাস্তবায়ন করার জন্য বেসিস কিভাবে সাহায্য করবে, এই কাজটা আমি শুরু করতে চাই। আমার প্রথম বোর্ড মিটিংয়ে বেসিস ই-গর্ভনেন্স সেল গঠন করেছি। এই ই-গর্ভনেন্স সেলের মাধ্যমে সরকারের সঙ্গে নেগোসিয়েশন চলছে। আমি চাই এটা চলতে থাকবে, পরবর্তী বোর্ডে যারাই আসুক না কেন, এটা যেন চলতে থাকে। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা।

দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা হিসেবে আরেকটা কাজ হাতে নিয়েছি, তা হচ্ছে খুব কমপ্রিহেন্সিভ ইন্ডাস্ট্রি সার্ভে করা, অথেনটিক সার্ভে করা। কারণ সত্যি কথা হচ্ছে অনেক পরিসংখ্যান অনুমানের ওপর ভিত্তি করা বলা হয়ে থাকে। লিখিত কোনো পেপার চাইলে দেখাতে পারবো না। বিভিন্ন ধরনের রিসার্চ হয়েছে, সরকার থেকে হয়েছে, কিন্তু সেগুলো একটু ছাড়া ছাড়া। আমরা বেসিস থেকে একটি কমপ্রিহেন্সিভ সার্ভে- লোকাল মার্কেটে কে কতটা কাজ করছে, লোকাল মার্কেটে দক্ষ জনশক্তির গ্যাপ কতটা আছে, টার্গেট পূরণের জন্য কি কি স্কিল দরকার এবং বর্তমানে কি কি স্কিল নাই আমাদের, এটার জন্য আমরা একটা সার্ভে করার পরিকল্পনা করেছি। আমি দায়িত নেওয়ার পরপরই এই কাজটা হাতে নিয়েছি। আমরা খুব শিগগির এটা করবো। এটা অবশ্যই আগামী দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে পারবো না। হয়তো ৬/৭ মাস লেগে যাবে। এটা একটা বড় পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমি শুরু করে দিয়ে যেতে চাই, যাতে পরবর্তীতে গিয়ে শেষ হয়।

প্রশ্নঃ ভাষার মাস ফেব্রুয়ারিতে আপনারা বেসিস সফটএক্সপো ২০১৮ আয়োজন করতে যাচ্ছেন। এতে আপনাদের পরিকল্পনাগুলো কি কি? মেলায় এবার কোন কোন বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে?
উত্তরঃ সফটএক্সপোর প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, বাংলাদেশি কোম্পানিগুলো যে সফটওয়্যার এবং আইটি এনাবলড সার্ভিস তৈরি করে, সেটাকে সবার সামনে তুলে ধরা। আমাদের মুল দর্শক কিন্তু ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড থেকে একটু আলাদা। আমাদের বেশিরভাগ দর্শক বিজনেস ইউজার, কর্পোরেট, ব্যাংক, সেবা গ্রহীতা। যারা কম্পিউটার সার্ভিসেস বা সফটওয়্যার ব্যবহার করেন বা সেবা নেন, তারা আমাদের টার্গেট অডিয়েন্স। মেলা সকলের জন্যই খোলা, স্টুডেন্টসহ সবাই আসতে পারে। কিন্তু আমাদের টার্গেট সেবা গ্রহীতারা। এবং সেখানে প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে, আমাদের যে ক্ষমতা, যে ক্যাপাবিলিটি এগুলো তাদের সামনে তুলে ধরা। তুলে ধরার কারণ হচ্ছে, দুর্ভাগ্যবশত আমরা বিভিন্ন সময় দেখি অনেক কোম্পানি, কর্পোরেট, ব্যাংক, এরা যখন সফটওয়্যার কেনেন, পাঁচ গুণ দশ গুণ দাম দিয়ে বিদেশি সফটওয়্যার কিনছেন, একই ফিচারসম্পন্ন দেশি সফটওয়্যার কিন্তু তারা কিনছেন না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে, কনফিডেন্সের অভাব। দেশি সফটওয়্যারের প্রতি আস্থার অভাব। আর কিছুটা তো আমাদের সবকিছুর মধ্যে বিদেশি প্রীতি কাজ করেই। সুতরাং এই প্রদর্শনী করছি যাতে তারা এসে দেখেন যে কত ভালো ভালো কাজ হচ্ছে এবং ইতিমধ্যে অনেক কোম্পানি সেগুলো ব্যবহার করছে, সেই ক্লায়েন্ট লিস্ট থাকবে। উদাহরণ স্বরূপ বলছি, ব্যাংকিং সফটওয়্যার অনেক দামি। আমাদের দেশের ব্যাংকগুলো কোটি কোটি টাকা দিয়ে বিদেশি ব্যাংকিং সফটওয়্যার কিনে। অথচ তার থেকে ছয় ভাগের এক ভাগ, আট ভাগের এক ভাগ টাকা দিয়ে লোকাল সফটওয়্যার পাওয়া যায়, একই ফিচার কাজ করে, কোনো রকম কমতি নাই সেটাতে। কিন্তু ব্যাংকগুলোর আস্থা নাই যে, দেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করবো, এটা কি চলবে, সিকিউরিটির সমস্যা আছে। সুতরাং সফটএক্সপোতে যখন তারা আসবেন, কোম্পানিগুলো যখন তাদের স্টলে দেখাবেন যে, ২৭টি ব্যাংক এই সফটওয়্যার ব্যবহার করছে অলরেডি।

প্রশ্নঃ মেলায় বিদেশিদের অংশগ্রহণ ও বিনিয়োগে গুরুত্ব দেয়া হবে?
উত্তরঃ প্রধান উদ্দেশ্য, নিজেদের সক্ষমতা প্রদর্শন করা। আমরা বিদেশি অনেকগুলো কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ইউরোপ েেথকে কিছু কোম্পানির প্রতিনিধি আসবেন, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, মালয়েশিয়াসহ আরো বেশ কিছু কোম্পানি থেকে প্রতিনিধি আসবেন, কেউ কেউ এখানে স্টল দিয়ে তাদের সেবা দেখাবে কিন্তু বেশিরভাগর জন্য আমরা বিটুবি ম্যাচমেকিংয়ের ব্যবস্থা রাখছি। অর্থাৎ তাদের সঙ্গে আমাদের স্থানীয় কোম্পানির একটা সংযোগ করিয়ে দেব। হাইটেক পার্কে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা হবে। এছাড়া কিছু বিদেশি অতিথি আসবেন, আমাদের ৩০টির বেশি সেমিনার এবং ওয়ার্কশপ হবে, সেখানে তারা বক্তব্য রাখেবেন।

প্রশ্নঃ কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো (বিশেষ করে ব্যাংক/ বীমা) বিদেশি সফটঅয়্যার এর ওপর নির্ভরশীল এখনো, এটা কেন বলে আপনি মনে করেন? আমরা কি এখনো আমাদের দেশি সফটঅয়্যার কোম্পানিগুলোর সেবা এবং মানের ওপর আস্থা রাখতে পারছি না?
উত্তরঃ না। সেরকম কিছু না। বরঞ্চ আমি কয়েকটি বড় বড় ব্যাংকের সঙ্গে কথা বলেছি যে দেশি সফটওয়্যার না নেওয়ার কারণ কি। বিদেশি সফটওয়্যার দিয়ে অনেকগুলো কাজ করা যায়, দেশি সফটওয়্যার দিয়ে কম কাজ করা যায়, এই জন্য নিচ্ছেন না? কোনো ফিচারের কমতি রয়েছে? এরকম কিছু। তারা জানিয়েছে এরকম কিছু না। আসল কথা হচ্ছে, আস্থার অভাব। দেশি সফটওয়্যারের কোয়ালিটি এবং সার্ভিস নিয়ে কোনো ঘাটতি নাই। বরং বিদেশি সফটওয়্যারের কোয়ালিটি নিয়ে কোনো ঘাটতি নাই কিন্তু সার্ভিস নিয়ে অনেক সময় সমস্যা হয়। বিদেশি সফটওয়্যারের সাপোর্ট দেওয়ার জন্য বিদেশ থেকে লোক আনতে হয়, আসতে সময় লাগে, তাকে বিমান-হোটেলের খরচ দেওয়া লাগে। আরেকটা বড় ব্যাপার হচ্ছে, বিদেশি কোম্পানি যখন আপনাকে এখানে এসে সাপোর্ট দিচ্ছে, কি গ্যারান্টি আছে যে, সে আপনার তথ্য নিয়ে যাচ্ছে না। লোকাল সফটওয়্যারে সার্ভিস দ্রুত পাওয়া যায়। ফোন করার সঙ্গে সঙ্গে লোক চলে আসবে।

প্রশ্নঃ আইসিটি সেক্টর থেকে ২০১৮ সালে ১ বিলিয়ন এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানীর যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, সেখানে আপনাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনাগুলো কি কি?
উত্তরঃ ১ বিলিয়ন এবং ৫ বিলিয়ন রপ্তানী টার্গেট পূরণে আমার মনে হয় না খুব বেশি অসুবিধা হবে। কারণ ১ বিলিয়ন টার্গেট ২০১৮ সালের মধ্যে পূরণ করার কথা। এখন ২০১৮ সালের শুরু, আমরা ১ বিলিয়ন টার্গেটের কাছাকাছি পৌঁঁছে গেছি। তাই আমি খুব আশাবাদী যে, এ বছরের মধ্যে আমরা ১ বিলিয়ন রপ্তানী টার্গেট শুধু পূরণ নয় বরং আমরা টার্গেট অতিক্রম করতে পারবো। আর ২০২১ সালের মধ্যে ৫ বিলিয়ন রপ্তানীর যে টার্গেট, সেটার ব্যাপারেও আমি আশাবাদী কিন্তু এটার জন্য সরকারের প্রধান যে কাজটা করতে হবে তা হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। কারণ ৫ বিলিয়ন ডলারের কাজ বিদেশ থেকে তখনি আসবে যদি আপনার করার ক্ষমতা থাকে।

প্রশ্নঃ সফটঅয়্যার খাতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে বেসিস এবং সরকার কি ধরনের পরিকল্পনা করছে।
উত্তরঃ ১ বিলিয়ন এবং ৫ বিলিয়ন টার্গেটকে মাথায় রেখে আমরা কাজ করছি। বেসিসের সহ প্রতিষ্ঠান বিআইটিএম থেকে আমরা একটা প্রজেক্টের ২৩ হাজার শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। এই ২৩ হাজারের মধ্যে ইতিমধ্যে আমরা ১৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। বাকি শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ আমরা এ বছরের ডিসেম্ব^রের মধ্যে সম্পন্ন করবো। ২০১৯ সাল থেকে আরো বড় আকারে প্রশিক্ষণের কথা চলছে। শুধু প্রশিক্ষণ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে না। শর্ত দেওয়া আছে, প্রশিক্ষণ পাওয়া ছেলেটি বা মেয়েটিকে এমপ্লয়েড হতে হবে এবং কমপক্ষে ৬০ শতাংশ এমপ্লয়মেন্ট গ্যারান্টি করতে হবে। ৬ মাস মিনিমাম তাকে এমপ্লয়েড থাকতে হবে।

প্রশ্নঃ আপনি একজন আইসিটি উদ্যোক্তা, তরুণ প্রজন্মের উদ্যোক্তা হতে গেলে তাদের জন্য আপনার কি কি পরামর্শ থাকবে?
উত্তরঃ এন্টারপ্রেনারশিপ, লিডারশিপ এগুলো কিন্তু তৈরি করা যায় না, মানে শেখানো যায় না। এগুলো ইন-বিল্ট অনেক সময় থাকে। এন্টারপ্রেনারশিপ, লিডারশিপ হওয়ার জন্য কি কি করতে হবে, সেগুলো ধীরে ধীরে শিখতে পারেন, এটা রাতারাতি হবে না। কিছু মানুষের আছে রাতারাতি তারা বাই বর্ন লিডার, বাই বর্ন এন্টারপ্রেনার, ছাত্রাবস্থা থেকেই তারা ব্যবসা শুরু করেছে এবং সফল আছে অনেকেই। যারা আসতে চাচ্ছে, তাদের জন্য আমার পরামর্শ হচ্ছে, অবজারভেন্ট হতে হবে। মানে সবদিকে নজর রাখতে হবে। একটা কথা আছে যে, নেসেসিটি ইজ দ্য মাদার অব ইনভেনশন। পাঠাও বাইক দিয়ে শুরু করেছে। বাইক উবারের ছিল না। এটা হয়েছে কারণ আমার প্রয়োজনীয়তা ছিল তাই আমি উদ্ভাবন করতে পেরেছি। সফল উদ্যোক্ত হতে গেলে, প্রথমত অবজারভেন্ট হতে হবে। বুঝতে হবে কোথায় সমস্যা আছে, কিভাবে একটা সহজ সমাধান নিয়ে আসা যাবে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে, লেখাপড়া যেটা আমরা করি, লেখাপড়া নলেজ দেয় আমাকে কিন্তু কাজের অভিজ্ঞতা একটা বড় বিষয়। আমার পরামর্শ হচ্ছে, কারো যদি ইচ্ছা থাকে একটা কিছু করবো, তাহলে হঠাৎ করে কিছু শুরু না করে কিছুদিন চাকরি করুক। সর্বনিম্ন ৩ থেকে ৫ বছর চাকরি করুক। চাকরি করার পর অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে বুঝতে পারবে যে, দৈনন্দিন কাজে কি কি লাগে কি কি লাগে না, কি কি সমস্যায় পড়তে হয়, একটা টিম কিভাবে কাজ করে। অনেক সময় দেখা যায়, যারা বুদ্ধিমান বাপ-দাদার ব্যবসা থাকার পরেও, চাকরি করে তারপর ব্যবসায় ঢুকে। আর তৃতীয়ত হচ্ছে, তাকে পিপল স্কিল ডেভেলপ করতে হবে।

প্রশ্নঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমরা কতটুকু সফল হচ্ছি?
উত্তরঃ ডিজিটাল বাংলাদেশ হচ্ছে কন্টিনিউয়াস প্রসেস। তবে অনেক কিছু এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের একটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, লাইফস্টাইলের মধ্যে আইসিটিকে নিয়ে আসা। যাতায়াতে, কেনাকাটায়, ভ্রমণে অনলাইন সেবা এখন খুবই কমন, দুই বছর আগেও এটা ছিল না। মোবাইলে বাজার অর্ডার করতে পারছি। যিনি আইটির মানুষ না, তিনি যখন আইটির ব্যবহার শুরু করবে, তার লাইফস্টালে। তখনই কিন্তু আমরা বলতে পারি ডিজিটাল বাংলাদেশের দিকে আমরা এগোচ্ছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ ততক্ষণ পর্যন্ত পরিপূর্ণ হবে না, যতক্ষণ না সরকার ডিজিটাল হবে। সরকারি সেবাগুলো কোথাও না গিয়ে পাবো। সফলভাব ই-গর্ভনেন্স তৈরি করতে পারলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ডিজিটালি সার্ভিস নিতে পারবে, ঢাকায় আসা লাগবে না। ট্রেড লাইসেন্স, ড্রাইভিং লাইসেন্স, সব ধরনের সেবা যখন ডিজিটাল হবে অর্থাৎ যেকোনো কাজ অনলাইনে বা কাছের কোন সেবা কেন্দ্রে বসে করতে পারবো। এরকম যখন হবে তখন বলতে পারবো ই-গর্ভনেন্স হয়ে গেছে এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ বলা যায়। এটার অনেক দূর কাজ এগিয়েছে। অনেকগুলো সেবা সরকার শুরু করেছে কিন্তু এখনো অনেক দূর হাটতে হবে।

প্রশ্নঃ বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর আমাদের আইসিটি সেক্টরের উন্নয়নে ভূমিকা সম্পর্কে যদি কিছু বলেন?
উত্তরঃ হার্ডওয়্যারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে হাতে গোনা কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়া ম্যানুফ্যাকচারিং কেউ করে না। আমি নিশ্চিত যে, যারা ম্যানুফ্যাকচারিং করছে, সরকারের সহায়তায় তারা পণ্যগুলো অনেক কম দামে বাজারে দিতে পারবে। সেগুলো জনপ্রিয় হবে এবং আরো অনেক কোম্পানি এগুলো করা শুরু করবে। যতক্ষণ সেটা না হচ্ছে, ততক্ষণতো আমাদের বিদেশিদের ওপর নির্ভর করতেই হচ্ছে। সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে বলবো, যে সফটওয়্যারগুলো বেসিক যেমন অপারেটিং সিস্টেম বা ডেভেলপমেন্ট টুলস বা ডেটাবেজ, এগুলো বাংলাদেশ তৈরি হয় না। কিন্তু সেগুলো আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রিকে হেল্প করছে। কারণ ওই সফটওয়্যারগুলো ছাড়া আমাদের লোকাল কোম্পানিগুলো সার্ভিস তৈরি করতে পারবে না বা সফটওয়্যার তৈরি করতে পারবে না। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত কিছু কিছু বিদেশি সফটওয়্যার আমাদের লোকাল কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে, সেগুলোর ব্যাপারে হয়তো উদার থাকবো না। লোকাল সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো ভালো কাজ করছে, সেটাকে ভালো ভাবে তুলে ধরতে হবে। সরকার এবং লোকাল ব্যবহারকারীরা যখন মার্কেট থেকে সফটওয়্যার কিনবেন, আমি আশা করবো লোকাল সফটওয়্যার কোম্পানিকে প্রায়োরিটি দিবেন। এটা কোনো অন্যায় আবদার করছি না। আমি বলছি না, আমার সফটওয়্যার খারাপ, তারপরও এটা নেন। আমার সফটওয়্যার একই কোয়ালিটির, যাচাই করে নেন। কিন্তু লোকাল সফটওয়্যার বলে এদিকে তাকাবেনই না, এটা যাতে না হয়।

প্রশ্নঃ আইসিটি সেক্টরের উন্নয়নে দেশীয় গণমাধ্যম তথা কম্পিউটার ম্যাগাজিন ও পত্রিকাগুলোর ভূমিকা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?
উত্তরঃ বিশাল ভূমিকা রয়েছে। বাংলাদেশে ১৬/১৭ কোটি মানুষ। আমরা ইন্ডাস্ট্রিতে আর কত লাখ মানুষ। আমরা যে কাজ করছি মিডিয়াইতো সবার কাছে নিয়ে যাচ্ছে, কাজগুলো তুলে ধরছে। সফল গল্পগুলো দেশের মানুষের কাছে তুলে ধরছে। আইসিটি নিয়ে কাজ করছে যেসব মিডিয়া তাদের প্রতি আমি ব্যক্তিগত ভাবে এবং ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে চাই। ইন্ডাস্ট্রির সাকসেস স্টোরিগুলো অন্যরা পড়লে ধীরে ধীরে হলেও তাদের কনফিডেন্স লেভেলটা বাড়বে।

-গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ