এই দিনেরে নেবে ওরা সেই দিনেরো কাছে

 

অমিত সম্ভাবনায় উদ্ভাসিত বাংলাদেশের বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিংয়ের (বিপিও) দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজার। এই শিল্পের যারা চালিকাশক্তি, এদেশে সেই উদ্ভিন্ন তারুণ্যের সংখ্যা বিপুল। বলা যায় মোট জনসংখ্যার ৬৪ শতাংশ। দেশি এবং বিদেশী বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশের এই বাজারটি এখনো সেই অর্থে অব্যবহৃত। অন্যদিকে আমাদের এই তরুণদল সচেতন এবং আধুনিক। এরা টেকস্যাভি আর ট্রেন্ডি। এদের তথ্য ও প্রযুক্তি অনুরাগ ঈর্ষণীয়। বিশ্বের কর্মকান্ড সম্পর্কে এরা সম্যক ওয়াকিবহাল। নিয়মিতভাবে এরা খোঁজখবর যেমন রাখে তেমনি পড়াশুনার পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর নানা উদ্ভাবনে নিজেদের মেধাকে কাজে লাগানোর চেষ্টাও করে থাকে। এই প্রয়াস লক্ষ করা যাচ্ছে একেবারেই স্কুল পর্যায় থেকে। সদর্থেই এরা আজ বিশ্বগ্রামের বাসিন্দা। ভুবনায়নের সক্ষম সারথী।
বাংলাদেশের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যত বৃদ্ধি এবং বিস্তার এদের হাত ধরেই হতে পারে। আরও নির্দিষ্ট করে আশাবাদী হয়ে বললে এরাই হবে এই শিল্পখাতের কান্ডারি। এজন্য প্রয়োজন বস্তুত এই তরুণ প্রজন্মের মেধাকে সঠিক খাতে ব্যবহার করা। কিংবা তাদেরকে সঠিক দিকনির্দেশনার মাধ্যমে আগামীর জন্য গড়ে তোলা। এটা একটা চ্যালেঞ্জ বৈকি। সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগেই এই চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করে ফল তুলে আনতে হবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কল সেন্টারস অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্য) এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কেও হাত মেলাতে হবে। কারণ তরুণ প্রজন্মকে গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি এই শিল্পখাতের জন্য উপযুক্ত সব বিষয়ে পারদর্শী তোলার জন্য শিক্ষাক্রমে জরুরি ভিত্তিতে নতুন কিছু বিষয় অন্তর্ভূক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়া মধ্যম ও উচ্চতর পর্যায়ের শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় সাধনের জন্য নীতিমালা প্রনয়ণও সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাইরের দেশের মতো শিক্ষাক্ষেত্রে ফ্লেক্সিবিলিটি একান্ত আবশ্যক। এই ব্যবস্থায় সময় আর সুবিধা মতো প্রাপ্ত সুযোগের সদ্ব্যবহার করে উচ্চতর শিক্ষায় নিজেদের শিক্ষিত করে তোলা, কাঙ্খিত ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি স্বনির্ভর পেশাদার কর্মপ্রবাহ অব্যাহত রাখতে সমর্থ হবে দেশের বিপুল সংখ্যয় তরুণ-তরুণী। এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাওয়ার আগে আমরা বরং বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্রটা একনজর দেখে নিতে পারি।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৯৬টি (৩৪ সরকারী ও ৬২ বেসরকারি) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর অন্তত দুই লাখ গ্রাজুয়েট বের হচ্ছে। এদের মধ্যে কম করে হলেও তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে গ্রাজুয়েট এবং পোস্ট-গ্রাজুয়েট হচ্ছে প্রায় ১৫ হাজার। আর অন্তত হাজার পাঁচেক ছাত্র রয়েছেন যারা সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো বিশেষায়িত ডিগ্রি অর্জন করছেন। মোট গ্রাজুয়েটদের ৪৭ শতাংশই বিজ্ঞান, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষিতে। বাংলাদেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়েরাই বাংলা মাধ্যমে পড়ে থাকে। ইংরেজি এদের দ্বিতীয় ভাষা। এরাই কিন্তু বাংলাদেশের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য তৈরি জনশক্তি। এদেরকে কোয়ালিটি রিসোর্স হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে।
আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলামধ্যম স্কুলগুলোতে, কিছু ব্যতিক্রম বাদ দিলে, ইংরেজি শিক্ষার অবস্থা আশাব্যঞ্জক নয়। একইভাবে ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে বাংলার অবস্থাও তথৈবচ। তবে যথার্থ পারঙ্গম জনশক্তি হিসাবে গড়ে উঠতে হলে ইংরেজি যেমন জানতে হবে তেমনি বাংলাও। কারণ আগামীতে আমাদের দেশের প্রচুর সরকারি কাজ বিপিও সেক্টরের মাধ্যমে হবে যার জন্য বাংলা জানা আবশ্যক। আবার এমন অনেক কাজ আসবে সেটা দেশের এবং বিদেশেরও, যার জন্য ইংরেজি জ্ঞান অবশ্যই পূর্বশর্ত হিসাবে গণ্য হবে। অতএব উভয়ভাষায় দক্ষতা ভীষণ জরুরি।
বতর্মান সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় স্কুলগুলোতে কম্পিউটারভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম চালু হয়েছে। তবে সারা বাংলাদেশে এটা এখন সম্ভব হয়নি। এই পরিকল্পনার অংশ হিসাবে একটা সময়সীমা নির্ধারণ করে সারা দেশেই অন্তত পঞ্চম শ্রেণি থেকে কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক যত দ্রুত করা যাবে ততই মঙ্গল। বলতেই হয় শহরের কিছু অগ্রসারির বাংলামাধ্যম বা ইংরেজি ভারসান স্কুল এবং অবশ্যই ইংরেজিমাধ্যম স্কুলগুলো এদিক থেকে বেশ এগিয়ে রয়েছে।
কেবল যান্ত্রিকশিক্ষা নয়। তাদেরকে এ বিষয়ে আগ্রহী করে তুলত হবে। ওয়ার্ড প্রসেসর, নেট সার্ফিংয়ের পাশাপাশি প্রোগামিং শেখানো যেতে পারে। ছোটদের স্বচ্ছ মস্তিষ্ক নতুন বিষয় গ্রহণ করতে সক্ষম। আর মজা পেয়ে গেলে তো কথাই নেই। এখানে রবীন্দ্রনাথের কথা শেয়ার করতে ইচ্ছা করছে। তিনি কিছুদিন শিক্ষাকতা করেছিলেন। বাঁধাধরা শিক্ষার বাইরে ছাত্রদের আগ্রহ তৈরির জন্য উঁচু ক্লাসের যে কোন বিষয় তাদের ধরিয়ে দিতে পারলে শ্রেয়তর ফল পাওয়া সম্ভব বলেই তাঁর মনে হয়েছে। কম্পিটার-রিলেটেড শিক্ষা সংযোজনের বিষয়ে রবীন্দ্রনাথের এই অভিজ্ঞতাকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে কাজে লাগিয়ে সুফল পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া সুকুমারবৃত্তিকে প্রস্ফূটিত করতে অভিনয়, আঁকা, গান গাওয়া, বিতর্ক, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ তাদের মানসিক বিকাশে সহায়তা করবে। এখানে আরেকটু বলা প্রয়োজন একেবারে প্রি-প্রাইমারি লেভেল থেকেই ইংরেজি বলা এবং লেখা রপ্ত করার শিক্ষা দেয়া প্রয়োজন। এটা যে কেবল তাদের ভবিষ্যতে বিপিও উপযোগী করের তুলবে তা নয় বরং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রের উপযোগীও হয়ে উঠতে পারবে।
বাংলাদেশের বিপিও ইন্ডাস্ট্রির জন্য দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে বেশ কয়েকটি বিষয়ে নজর দিতে হবে। প্রথমত. তারা হবে আত্মবিশ্বাসী। তাহলে কাজের প্রতি আগ্রহী থেকে অন্যকে প্রভাবিত করতে সক্ষম হবে। দ্বিতীয়ত. কার্যকর শ্রবণক্ষমতা ও স্পষ্টবাচনভঙ্গি দিয়ে ভাববিনিময়ে মুন্সিয়ানা দেখাতে হবে। তৃতীয়ত. কোন বিষয়ে গভীরে ভাবার ক্ষমতা যেমন থাকতে হবে তেমনি থাকতে হবে উদ্ভাবনী মন। চতুর্থত. জানার আগ্রহ বাড়িয়ে সামাজিক সম্পর্ক উন্নয়ন এবং যোগাযোগে দক্ষ হয়ে উঠতে হবে।
আগে আমরা গ্রাজুয়েটদের একটা পরিসংখ্যান দিয়েছি। সেখানে আবারও একটু ফিরতে চাই। আমাদের দেশে গতানুগতিক শিক্ষার প্রতি অদ্ভূত আকর্ষণ লক্ষ্য করা যায়। অথচ এদের একটা বড় অংশেরই শিক্ষাটা কোন কাজে আসে না। এমনকি যে ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে আমরা কথা বলছি, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছি সেই ইন্ডাস্ট্রির জন্যও তারা সেই অর্থে উপযোগী নয়। বরং তাদেরকে পুনরায় দক্ষ করে তুলতে হবে নানান ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ট্রেনিংয়ের মধ্য দিয়ে।
এই ইন্ডাস্ট্রির জন্য প্রয়োজন আসলে আইটি ও ম্যানেজমেন্ট স্কিল, ফাস্ট ট্র্যাক ফিউচার লিডারশিপ, সি লেভেল ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং (লোকাল ও ইন্টারন্যাশনাল)। এই বিষয়গুলোতে দক্ষ করে তোলা সম্ভব বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থায়। বর্তমানে সরকার দাতাসংস্থাদের অর্থায়নে বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। সেখানে ৭টি অগ্রাধিকার খাতের মধ্যে রয়েছে আইটি এবং আইটিইএস। ৫০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১৫ লাখ তরুণকে টপ আপ এবং ম্যানেজমেন্ট ট্রেনিং দেয়া হবে।
এসবের প্রয়োজন হয়না বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষাক্রমে আইটি ও সফটস্কিলকে অন্তর্ভূক্ত করলে। এই ইন্ডাস্ট্রির একটি সস্তম্ভই হলো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। আইসিটি মন্ত্রণালয় এমন ট্রেনিং কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বাক্য এটাকেই নীতিগতভাবে ট্রেনিং ইন্সস্টিটিউটের ফ্রেমওয়ার্ক হিসাবে গণ্য করছে। ভার্চুয়াল ট্রেনিং, প্র্যাকটিকাল ট্রেনিং, বিডিআইটি ইঞ্জিনিয়ার্স এগজামিনেশন (আইটইই) বা অন্যান্য দেশী ও বিদেশী সার্টিফিকেশন আর ট্রেনারদের ট্রেনিং দিতে হবে।
বাংলাদেশে বিপিও সেক্টরে যে ধরণের ওয়ার্কফোর্স প্রয়োজন তারা উচ্চমাধ্যমিক পর্যায় শেষ করা বা গ্রাজুয়েট হলেই চলে। এই সংখ্যাটাই সবচেয়ে বেশি। অন্তত ৫০ শতাংশ। এর বাইরে এসএসসি, গ্রাজুয়েট, মাস্টার্স ডিগ্রি আর ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী মিলিয়ে বাকী ৫০ শতাংশ।
তবে বাংলাদেশে বেশ কিছু বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের কাজের বেলায় গ্রাজুয়েট বা ডিপ্লোমাধারীদের অগ্রাধিকার দেয়। অনেকে আবার টোয়েফেল স্কোরকে বাধ্যতামূলক করেছে।
আমাদের বিপিও মার্কেটে বতর্মানে দেশীয় কাজের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। যেটা অন্তত ৮০ শতাংশ। বাকিটা বিদেশী কাজ। আসলে একটা মাত্র সাবমেরিন কেবল ব্যবহার করে অধিক চার্জ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজার ধরে কাজ করা যথেষ্ট কঠিন। তা সত্ত্বেও কেউ কেউ করছে। এদের মধ্যে একটি হচ্ছে হ্যালো ওয়ার্ল্ড কমিউনিকেশনস। একটি বিপিও। এরা বছরখনেক ধরে যুক্তরাজ্যের চারটি প্রতিষ্ঠানকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে।
যাহোক, বাংলাদেশের বিপিও বাজারে এখনও পর্যন্ত ভয়েসবিপিও সর্বোচ্চ অবস্থানে আছে। এরপর আর যেসব কাজ হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে ফাইনান্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস, হিউম্যান রিসোর্সেস, হেলথকেয়ার অ্যান্ড ফার্মাসিটিকালস, লার্নিং অ্যান্ড কেলাবোরেশন সাপ্লাই চেইন এবং অন্যান্য।
আমাদের সামনে সুযোগ অবিরত। সেখানে বেসিক আইটি স্কিল হিসবে ধরা হচ্ছে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিকস এবং হার্ডওয়্যার সাপোর্ট। তবে উচ্চতর দক্ষতার ক্ষেত্র এখনো নির্ধারিত হয়নি। এখানে নজর দেয়ার অবকাশ রয়ে গেছে।
এছাড়া বৈশ্বিক ও স্থানীয় বাজার উপযোগী পাঠক্রম পর্যালোচনা এবং মূল্যায়নের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া বিভিন্ন পুরস্কার, সম্মাননা আর ডিপ্লোমা প্রদানের বিষয়টিও কার্যক্রমে গুরুত্বের সঙ্গে অন্তর্ভূক্ত করাটা বাঞ্চনীয়। তাহলে আমরা একটা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মতো আধুনিক, প্রযুক্তিজ্ঞান সম্পন্ন, কর্মদক্ষ প্রজন্ম গড়ে তুলতে পারব।
এজন্য কিছু চ্যালেঞ্জ যে নেই তা বলা যাবে না। প্রথমত পরিবার এবং সমাজকে এ বিষয় সচেতন করতে হবে। কারণ এসব কাজ অনেকটাই খন্ডাকালীন। যেখানে ছেলে এবং মেয়েরা তাদের সুবিধা মতো সময় বেছে নিতে পারে। অতএব পড়াশুনা চালিয়েও তারা কাজটা করতে পারে। পরিবারকে এটা বুঝতে হবে। সামাজিকভাবেও এ ব্যাপারে তাদের সহযোগীতা করতে হবে। তাদেরকে দিন বা রাতের যে কোন সময়ে কাজ করতে হয়। ছেলেদের জন্য বিষয়টা কঠিন না হলেও মেয়েদের জন্য অবশ্যই দূরুহ। অনেক পেশাতেই মেয়েরা রাতে কাজ করেন। বিশেষত মিডিয়াতে তো বটেই। তবে সেই সংখ্যাটা এখনো ততটা উল্লেখযোগ্য নয় যতটা হয়ে উঠতে চলেছে বিপিও। এখানে আশানুরূপ ক্যারিয়ার করার সুযোগ যে রয়েছে সে সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে দিতে হবে। এমপ্লয়মেন্ট ভ্যালু চেইন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকতে হবে। এছাড়া আশার কথা বিপিওর পরিবেশ ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের জন্যই সুরক্ষিত এবং কর্মবান্ধব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শিক্ষাব্যবস্থা। এজন্য শিক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান এবং নীতিমালা প্রণয়নকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় থাকতে হবে। একইভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কতৃপক্ষ এবং ইন্ডাস্ট্রি লিডারদের মধ্যেও থাকতে হবে নিয়মিত যোগাযোগ এবং অংশীদারিত্ব। নিয়মিত কর্মশালা পরিচালনার মাধ্যমে মধ্যম এবং উচ্চতর মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। ভার্চুয়াল লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ এবং একে জনপ্রিয় করে তোলা বর্তমান প্রেক্ষাপটে একান্ত আবশ্যক। পরিশেষে যে বিষয়টি জরুরি যে সেটা হলো উচ্চতর শিক্ষার সুযোগকে অবারিত করা। যাতে করে ক্রেডিট ট্র্যান্সফারের মাধ্যমে একজন ডিপ্লোমাধারীও যেন যে কোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েট বা পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিগ্রি নিতে পারে। এজন্য অবশ্যই শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে আন্তরিকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করে কাযর্কর পদেক্ষপ নিতে হবে।
বিপিও ইন্ডাস্ট্রি হতে পারে এটি লক্ষ বা উপলক্ষ্য। কিংবা অনুঘটক। বস্তুত আমাদের শিক্ষাব্যবস্থাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে যাতে করে আমরা সমসময়ে কিংবা তার চেয়ে এগিয়ে থাকতে পারি। আমাদের সবকিছুই আছে ইচ্ছা, মেধা, শেখার আগ্রহ; এমনকি বিশ্বের অন্যান্য দেশের ছেলেমেয়েদের চেয়ে আমাদের ছেলেমেয়েদের বৈশ্বিক জ্ঞানও বেশি। আপাতত প্রয়োজন আন্তরিক উদ্যোগ ও মানসিকতার পরিবর্তন। তাহলে সময়ের যেমন অপচয় হবে না, অপচয় হবে না অপরিমেয় মেধার। প্রজন্ম শিক্ষাশেষে যথাযথ কাজের অভাবে ডুবে যাবে না অহেতুক হতাশায়। বরং আমাদের মেধাবী জনশক্তিকে সঠিকভাবে পরিচালিত করার মধ্যে দিয়ে মেধাউজ্জ্বল, অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ম্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা তখন হয়ে দাঁড়াবে ¯্রফে সময়ের ব্যাপার। আমরা সবাই সেই দিনেরই প্রতীক্ষায়।

লেখক॥ তৌহিদ হোসেন
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ কলসেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং।

Please Share This Post.