উৎকর্ষের ১৫ বছরে স্যামসাং টেলিভিশন

সি নিউজ ডেস্ক :সাদা-কালো আর অ্যানালগ-ডিজিটালের পর এখন ঘরে ঘরে মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছে গেছে অত্যাধুনিক স্মার্ট টিভি। সময় ও চাহিদার রূপান্তরের এই গোটা সময় জুড়ে দেশের মানুষকে উন্নত ও আধুনিক গুণগত মানসম্পন্ন টেলিভিশন উপহার দিয়েছে স্বনামধন্য ইলেকট্রনিকস ব্র্যান্ড স্যামসাং। ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরিতে বৈচিত্র্যময় উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটিয়ে স্যামসাং প্রতিনিয়ত নতুন প্রযুক্তিগত কৌশলের প্রয়োগ করেছে এবং এর ওপর ভিত্তি করেই গত ১৫ বছর ধরে টিভির বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে স্যামসাং।

সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বাড়ির চার দেয়ালের মাঝেই দূর্দান্ত ছবি ও শব্দের সমন্বয়ে টিভি দেখার প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে স্যামসাং। এর দ্রুত-বর্ধমান কিউএলইডি পোর্টফোলিও, ৫৫ ইঞ্চি অর্থাৎ লার্জ স্ক্রিন টিভির ক্ষেত্রে বাজারে অপ্রতিদ্বন্দ্বীতা, লাইফস্টাইল টিভির পোর্টফোলিও-সহ ইন্ডাস্ট্রি, ক্যাটাগরি এবং প্রোডাক্টের ক্ষেত্রে অসংখ্যবার ‘বাজারে প্রথম’ হওয়ার কৃতিত্ব মূলত স্যামসাংয়ের নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার নিবেদিত প্রচেষ্টাকেই তুলে ধরে।

১৯৭০ সালে স্যামসাং প্রথমবারের মতো বাজারে নিজেদের টেলিভিশন নিয়ে আসে। বিংশ দশকের মাঝামাঝি সময়ে স্যামসাং ওয়াল-মাউন্টেবল এলসিডি টিভিকে ভোক্তাদের মাঝে জনপ্রিয় করে তুলতে সক্ষম হয়, যার ধারাবাহিকতায় আসে এলসিডি টিভির স্বর্ণযুগ। এছাড়াও, প্রথমবারের মতো দেশের বাজারে ৪৬-ইঞ্চি এলসিডি টিভি নিয়ে আসে স্যামসাং, সে সময়ের জন্য যেটি ছিল বাজারের সবচাইতে বড় টেলিভিশন। দর্শক ও ভোক্তাদের মাঝে তুমুল সাড়া ফেলা এই টিভিটি দেশ ও দেশের বাইরে এলসিডি টিভির জনপ্রিয়তার ব্যপ্তিকে প্রসারিত করে।

ডিজাইনের প্রশ্নে গতানুগতিক ঢঙের বাইরে গিয়ে নতুন কিছু করার ক্ষেত্রেও সর্বদা একধাপ এগিয়ে রয়েছে  স্যামসাং। ২০০৬ সালে নিজেদের ‘বোর্দো টিভি’র মাধ্যমে স্যামসাং লাইটওয়েট অর্থাৎ হাল্কা আকৃতির টেলিভিশনকে রীতিমতো বিশ্বব্যাপী  পরিচিত করে তোলে। একই বছরে স্যামসাং টেলিভিশনের বৈশ্বিক বাজারে প্রথমবারের মত শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সুদীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটানা নিজেদের শীর্ষস্থানকে সফলভাবে ধরে রেখেছে স্যামসাং।

কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারির বিপর্যস্ত সময়েও স্যামসাং ২০২০ সালে বাজারের ৩১.৯ শতাংশ শেয়ার নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এটি ছিল ব্র্যান্ডটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ বাজার হিস্যা, যাকে পুঁজি করে আরো একবার স্যামসাং সফলভাবে টেলিভিশনের বিশ্ব বাজারে সর্বপ্রথম স্থানটি দখল করে নেয়।

অনন্য উদ্ভাবনী শক্তি আর প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের সমন্বয় ঘটিয়ে প্রতিনিয়ত নিজেদের সাফল্যকে নতুন মাত্রায় নিয়ে চলেছে স্যামসাং। ডিজাইন, কালার অ্যাক্যুরেসি কিংবা ছবির স্পষ্টতা – সকল ক্ষেত্রেই স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ক্রমশ নিজেদের নিপুণ পারদর্শীতার স্বাক্ষর রেখে যাচ্ছে, যা গোটা ইন্ডাস্ট্রির জন্যই উদাহরণস্বরূপ।

এছাড়াও, টিভির দেখার অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে স্যামসাং ইমেজ রেজ্যুলুশনের ক্ষেত্রেও উন্নতি ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। পরিবর্তনশীল সময়ে নতুন নতুন ধরণের কন্টেন্টকে সবচাইতে আকর্ষণীয় ছবির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার জন্য স্যামসাংয়ের টিভি নিয়মিতই উন্নততর ও আধুনিক হয়ে উঠেছে। ২০০৯ সালে এলইডি টিভি নিয়ে ব্যাপক সাফল্যের পর ২০১৭ সালে স্যামসাং নিয়ে আসে কিউএলইডি টিভি। উন্নত লাইট এফিশিয়েন্সি, স্ট্যাবিলিটি এবং আরো বড় কালার স্পেকট্রামের সংযোজনে স্যামসাং তাদের কোয়ান্টাম ডট (কিউএলইডি) প্রযুক্তিকে অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে যায়। ইনোভেটিভ ডিসপ্লে’র প্রশ্নে স্যামসাং সবসময়ই বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বীদের চাইতে একধাপ এগিয়ে রয়েছে।

কেবলমাত্র টিভি ইন্ডাস্ট্রিই নয়, বরং বাংলাদেশসহ বিশ্বের অসংখ্য দেশে দর্শকদের জীবনযাত্রার মানকেও ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে স্যামসাং। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রথম সারির ব্র্যান্ড হিসেবে আধুনিক গৃহসজ্জার অন্যতম অনুসঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে স্যামসাং টেলিভিশন। গোটা বিশ্বের অগ্রগতির সাথে তাল মিলিয়ে এখন বাংলাদেশের দর্শকরাও অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্যামসাং টিভির বিনোদন উপভোগ করতে পারছেন।

চলতি বছরেও স্যামসাং বাজারে নিজেদের অদ্বিতীয় অবস্থানকে ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী। কোর প্রডাক্টের বিস্তৃতি এবং সকল লাইন-আপের টিভিতে প্রপ্রাইটারি টেকনোলজি ও ফিচার যুক্ত করার মাধ্যমে ২০২১ সালকে স্মরণীয় করে রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এই পরিকল্পনারই অংশ হিসেবে লাইফস্টাইল টিভির সাথে স্যামসাং নিও কিউএলইডি লাইন-আপ এবং লং-টার্ম সাস্টেইনেবিলিটি প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী অপারেশন অ্যালাইনমেন্ট বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে স্যামসাং। আগামী কয়েক বছর গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করবে স্যামসাং, সেই সাথে কৌশলগত ব্যবসাক্ষেত্রেও উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে নিজেদের মূল এবং সম্ভাবনাময় অংশগুলোকে তারা আরো শক্তিশালী করে তুলবে।

Please Share This Post.