উপহারের ফ্রিজ কিনে মিলিয়নিয়ার হলেন রাজমিস্ত্রি

কয়েকদিন আগেই নাতনি জামাই নাজমুল হাসানকে উপহারস্বরূপ ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে দেন কুমিল্লা বুড়িচং এর হাজী আনোয়ার। নানা শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ফ্রিজটি রেজিস্ট্রেশনের করতেই ১০ লাখ টাকা পান নাজমুল। একসঙ্গে এতো টাকা পেয়ে খুশিতে আত্মহারা তিনি। তার পরিবারের সবাই এখন অনেক খুশি।

এ উপলক্ষ্যে গত বুধবার (২৪ জুলাই) কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে ময়নামতি সেনা কল্যাণ মার্কেটে ওয়ালটনের এক্সক্লুসিভ পরিবেশক ‘নীলাচল ইলেকট্রনিক্স’ এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ক্রেতা নাজমুল হাসানের হাতে তুলে দেয়া হয় প্রাপ্ত টাকার চেক।

সেসময় উপস্থিত ছিলেন নাজমুল হাসানের নানা শ্বশুর হাজী আনোয়ার, ওয়ালটনের নির্বাহী পরিচালক মো. হুমায়ুন কবীর, ডা. রফিকুল ইসলাম রনক, ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট ব্র্যাঞ্চের প্রধান মোহাম্মদ শাহাদাত উল্ল্যাহ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মাহবুবুর রহমান, নীলাচল ইলেকট্রনিক্সের সত্ত্বাধিকারী আসাদুল্ল্যাহ ও সফিউল্ল্যাহ, স্থানীয় ব্যক্তিগণ।

উল্লেখ্য, ঈদুল আযহা উপলক্ষ্যে ঘোষিত ‘কে হবেন আজকের মিলিয়নিয়ার’ শীর্ষক ক্যাম্পেইনের আওতায় জুলাই’র ১ তারিখ থেকে কোরবানি ঈদ পর্যন্ত যে কোনো শোরুম থেকে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে রেজিস্ট্রেশন করলে প্রতিদিনই এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ টাকা পেতে পারেন ক্রেতারা। এছাড়া রয়েছে কোটি কোটি টাকার নিশ্চিত ক্যাশ ভাউচারসহ হাজার হাজার পণ্য ফি পাওয়ার সুযোগ। এর আওতায় ইতোমধ্যে ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে ১০ লাখ টাকা করে পেয়েছেন ৭ জন।

নাজমুল হাসানের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা বুড়িচং থানার রামপুরা গ্রামে। বাবা কৃষক হলেও নাজমুল পেশায় রাজমিস্ত্রি। বছরখানেক হয়েছে বিয়ে করেছেন। বাড়িতে কোনো ফ্রিজ না থাকায় তার নানা শ্বশুর হাজী আনোয়ার একটি ফ্রিজ উপহার দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

গত ১৩ জুলাই নীলাচল ইলেকট্রনিক্স থেকে ৩০ হাজার টাকায় একটি ফ্রিজ কিনে নাতনি জামাই নাজমুলকে উপহার দেন তিনি। ফ্রিজটি কেনার পর নাজমুলের মোবাইল নাম্বার দিয়ে তা রেজিস্ট্রেশন করা হয়। এর কিছুক্ষণ পরেই তার মোবাইলে ওয়ালটনের কাছ থেকে ম্যাসেজ আসে। সেটি খুলতেই দেখেন- তিনি ১০ লাখ টাকা পেয়েছেন! খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়েন তিনি ও তার নানা শ্বশুর। খবরটি সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে তার গ্রামে। প্রতিবেশীসহ পুরো গ্রামে পড়ে যায় হৈ চৈ।

নাজমুল হাসান বলেন, আমার সম্পত্তি বলতে তেমন কিছু নাই। নেই কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট। দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে যা আয় করি তা সংসার খরচেই চলে যায়। এরমধ্যে নানা শ্বশুরের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ওয়ালটন ফ্রিজ কিনে পেয়েছি ১০ লাখ টাকা। এটা যে কত বড় আনন্দের- তা বুঝানো যাবে না।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/জুলাই২৭/১৯

Please Share This Post.