‘উন্নয়ন উদ্ভাবনে জনপ্রশাসন – ২০১৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সামিটের সমাপনী

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়নে উদ্ভাবনে জনপ্রশাসন-২০১৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সামিট ২৯ জুলাই শুক্রবার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আন্তর্জাতিক সামিট এর সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়/বিভাগ ও মাঠ প্রশাসনে বহুবিধ উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ সকল উদ্যোগ নিয়ে প্রথমবারের মতো এই আন্তর্জাতিক সামিটের আয়োজন করা হয়েছে। এই সামিটটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম যৌথভাবে আয়োজন করেছে।

সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুটান সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডি.এন ডানগায়েল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম, মালদ্বীপের অর্থ এবং রাজস্ব প্রতিমন্ত্রী ও ইনচার্জ অব ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফরমেশন টেকনোলজির মোহামেদ আসমালে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী।

আন্তর্জাতিক সামিটের শেষদিন ২৯ জুলাই সন্ধ্যা ৬.৩০ টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার-এর অডিটোরিয়ামে ভুটান সরকারের ‘ডিপার্টমেন্ট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড টেলিকম (ডিআইটিটি)’-এর সঙ্গে এটুআই প্রোগ্রামের মধ্যে সমঝোতা স্মারক (জিটুজি) স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং এটুআই প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কবীর বিন আনোয়ার এবং ভূটান সরকারের ডিআইটিটি’র আইসিটি কর্মকর্তা জিগমে তেনজিং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এ সময় ভুটান সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডি.এন ডানগায়েল উপস্থিত ছিলেন।

সমঝোতা স্মারকের আওতায় বাংলাদেশ সরকার ভুটান সরকারকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, ডিজিটাল সেন্টার, ই-হেলথ, ই-পেমেন্ট, পোর্টাল, সেবা পদ্ধতি সহজিকরণ, তথ্যপ্রযু্ক্তি প্রশিক্ষণ ও গভর্নমেন্ট এন্টারপ্রাইজ আর্কিটেকচার বিষয়ে সহযোগিতা প্রদান করবে। এ উদ্যোগ সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন জোরদার করতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বছর মালদ্বীপ সরকারের ‘ন্যাশনাল সেন্টার ফর ইনফরমেশন টেকনোলজি’ (এনসিআইটি) এর সঙ্গে এটুআই প্রোগ্রামের সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটুআই প্রোগ্রাম তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে মালদ্বীপ সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে। এ উদ্যোগ সাউথ সাউথ কো-অপারেশন জোরদার করতে ভূমিকা রাখছে।

অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটারে বিকাল ৩.০০ টায় জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারগণের সঙ্গে ‘উন্নয়ন-উদ্ভাবনে জনপ্রশাসনঃ মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা’ শীর্ষক একটি বিশেষ সেমিনার আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেগম ইসমাত আরা সাদেক, এমপি, প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এনডিসি বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্যসচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠপ্রশাসন অনুবিভাগ) মো. মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এপিডি অনুবিভাগ) সবীর কিশোর চৌধুরী মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ও এটুআই এর প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার এবং এটুআইয়ের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা প্রদান করেন।

এ সময় কম খরচে, কম সময়ে এবং সহজ পদ্ধতিতে নাগরিক সেবা প্রদানে উদ্ভাবনচর্চা, বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থা, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা, উন্নয়নে মাঠপ্রশাসনের ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় জেলা প্রশাসকগণ বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশ করেন।

দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক সামিটে মোট ৯টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিন আয়োজিত ৪টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনারগুলোর মধ্যে ছিল ‘দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের জন্যে শিক্ষায় পরিবর্তন আনয়ন’, ‘দরিদ্রদের জন্যে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণ’, ‘উন্নয়ন উদ্ভাবনে জনপ্রশাসনঃ মাঠ প্রশাসনের ভূমিকা’ এবং ‘জাতীয় উদ্ভাবন ইকোসিস্টেমঃ জনপ্রশাসনের ভূমিকা’।

এ সকল সেমিনারে দেশ-বিদেশের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই সেমিনারগুলোর আলোচনা থেকে প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ রূপকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। সামিটের দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত উদ্ভাবনী উদ্যোগসমূহের প্রদর্শনী সকলের জন্য উন্মুক্ত ছিল এবং সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও জনসাধারণের উপচে পরা ভিড় ছিল শেষ দিনে।

শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী চর্চা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং নাগরিক জীবনে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে এটুআই প্রোগ্রাম ‘সল্ভ-এ-থন’ নামক প্রতিযোগিতা আয়োজন করেছিল যেখানে ৬৪টি জেলা থেকে স্নাতক পর্যায় শিক্ষার্থীরা দলগতভাবে অংশগ্রহণ করে। ‘উন্নয়ন উদ্ভাবনে জনপ্রশাসন-২০১৬’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সামিটে ‘সল্ভ-এ-থন’ প্রতিযোগিতার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলগুলোর মধ্যে ক্রেস্ট ও প্রাইজমানি বিতরণ করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি সামিটে আগত সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, বিদেশ থেকে আগত কুটনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মিডিয়া বন্ধু এবং সকল দর্শকদের এই সামিটে অংশগ্রহণের জন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে সামিটের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.