ই-জেনারেশনের সহায়তায় রাজশাহীতে আইসিটি ডিভিশনের মেলা

‘আমরা হবো জয়ী, আমরা দুর্বার, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে আইসিটি হবে হাতিয়ার’- প্রতিপাদ্যে রাজশাহীতে ২৫ ডিসেম্বর দিনব্যাপী ‘লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহী কলেজ মাঠে সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম, এমপি। দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানই-জেনারেশন এবং গ্রে অ্যাডভারটাইজমেন্ট।

রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী আশরাফ উদ্দীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হাবিবুর রহমান, প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার নাথ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই পরিচালক এবং ই-জেনারেশনের চেয়ারম্যান শামীম আহসান, ট্রেনিং অপারেশন ম্যনেজার নাঈন আল আমিন, বাক্যর সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ হোসেন এবং অন্যান্য স্থানীয় ব্যাক্তিবর্গ।

মেলায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রকল্পের পরিচালক তপন কুমার নাথ ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মেলার কো-অর্ডিনেটর মাহবুবর রহমান শাকিল। অতিথিবৃন্দ উদ্বোধন শেষে মেলা পরিদর্শন করেন ও আলোচনা সভায় মিলিত হন।

মেলায় প্রধান অতিথি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম বক্তৃতায় বলেন, ‘প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীর অনেক দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর জন্য প্রশিক্ষণের ভূমিকা অপরিসীম। আমরাও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে দুর্বার গতিতে এগিয়ে যেতে চাই।’ প্রযুক্তির এই শক্তিকে দেশের স্বার্থে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং প্রকল্প পরিচালক তপন কুমার নাথ তার স্বাগত বক্তব্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং অর্থাৎ ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং এর ব্যাপারে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। এ ব্যাপারে রাজশাহীর তরুণদের সম্ভাবনা নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

ই-জেনারেশনের চেয়ারম্যান শামীম আহসান তার বক্তব্যে বলেন, ‘তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে সরকার নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর ফলে দেশে তথ্য ও প্রযুক্তি নির্ভর অনেক বড় বাজার সৃষ্টি হচ্ছে। কিন্তু দেশে দক্ষ জনশক্তির অভাব রয়েছে। সরকার এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১৩,০০০ দক্ষ জনশক্তি তৈরি করবে যা বিশ্ববাজারে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশকে অনলাইন আউটসোর্সিং এর অন্যতম গন্তব্যস্থল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে অত্যন্ত সহায়তা করবে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ই-জেনারেশন বেসিক তথ্যপ্রযুক্তি ও মোবাইল অ্যাপস তৈরি প্রশিক্ষণ সহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমরা অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে অবদান রাখতে চাই।’

মেলায় আইসিটি বিষয়ক সেমিনার ও ওয়ার্কশপের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও লার্নিং ও আর্নিং সম্পর্কেও মুক্ত আলোচনা এবং অভিজ্ঞতা বর্ণনা করা হয়। মেলায় শিক্ষক, বিপুলসংখ্যায় শিক্ষার্থী, আগ্রহী, উদ্যোক্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রায় ৪০টি সরকারি বেসরকারি সেবাপ্রদানকারী, আউটসোর্সিং, ফ্রিল্যান্সিং ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের স্টলগুলো মেলায় তাদের সম্পর্কে তথ্য ও সেবা প্রদান করে। স্টলগুলোতে ছিল লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং নিয়ে ফ্রি প্রশিক্ষণ, রেজিস্ট্রেশন, সাক্ষাতকার গ্রহণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয় এবং নাটোর জেলার তিনজন সেরা ফ্রিল্যান্সারকে পুরস্কার বিতরণ করেন অতিথিরা।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.