ই-কমার্সে আরোপিত ৫% মূসক আদায়ের ব্যাখা প্রদান

সম্প্রতি, অনলাইনে পণ্য বিক্রয় সেবার বিপরীতে আরোপিত ৫% মূসক আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ব্যাখা প্রদান করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। ২০১৯-২০ অর্থবছরে ‘অনলাইনে পণ্য বিক্রয় সেবা (সেবা কোড ৯৯.৬০)-এর বিপরীতে ৫% মূসক আরোপ করার ফলে মাঠ পর্যায়ে ভ্যাট আদায় নিয়ে নানা ধরণের জটিলতা তৈরি হয়। এই জটিলতা দূরীকরণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে ই-কমার্স ইকোসিস্টেমসের অংশিজনদের সাথে নিয়ে যৌথভাবে কাজ শুরু করে বেসিস।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার পরপরই ১৯ জুন, ২০১৯ ই-কমার্স খাতের ব্যবসায়ী এবং ই-কমার্স ইকোসিস্টেমসের অংশিজনদের নিয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস-বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির উদ্যোগে একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর কারওয়ানবাজারে বেসিস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় এ গোলটেবিল বৈঠক।

উপস্থিত ছিলেন বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান জনাব সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, কো-চেয়ারম্যান জনাব আশিকুল আলম খান, কো-চেয়ারম্যান জনাব জিসান কিংশুক হক, কো-চেয়ারম্যান জনাব আশিষ চক্রবর্তী। পাশাপাশি, ই-কমার্স খাতের প্রসারে এবং ভ্যাট জটিলতা নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে দফায় দফায় আলোচনা করে বেসিস। পরবর্তীতে আরোপিত সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট ৫% এ নামিয়ে আনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড।

আরোপিত ৫% ভ্যাট নিয়ে জটিলতা দেখা দিলে সেটি নিরসনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে কাজ শুরু করে বেসিস। জটিলতা দূরীকরণে ই-কমার্স ইকোসিস্টেমসের অংশিজনদের মতামতের প্রেক্ষিতে ৩০ জুলাই ২০১৯ তারিখে প্রেরিত পত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর ওপর চাওয়া হয় সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনাঃ

১। অনলাইনে পণ্য বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানসমূহ বিভিন্ন উৎস হতে মূসক পরিশোধপূর্বক পণ্য সংগ্রহ করে গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছে দেয় এবং এর বিনিময়ে কমিশন, ফি, রেভিনিউ শেয়ারিং ইত্যাদিভাবে সেবামূল্য পেয়ে থাকে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন কমিশনারেট হতে প্রযোজ্য হারে মূসক পরিশোধিত পণ্য সরবরাহের সময় পুনরায় সম্পূর্ণ মূল্যের উপর, তথা ইনভয়েসে উল্লেখিত সম্পূর্ণ মূল্যের উপর পুনরায় ৫% হারে মূসক দাবী করা হচ্ছে যা দ্বৈত করস্বরূপ হয়ে যাচ্ছে । সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেবার বিনিময়ে প্রাপ্ত কমিশন/ ফি-এর উপরই কেবলমাত্র ৫% হারে মূসক আরোপযোগ্য হবে। কেননা, মূসক আরোপযোগ্য পণ্য মূসক পরিশোধপূর্বক ক্রয় করেই কেবলমাত্র গ্রাহকের কাছে সরবরাহ করা হয়।

২। মূল উৎপাদনকারী / ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী / গ্রামীণ সরবরাহকারীর যদি মূসক নিবন্ধন না থাকে, সেক্ষেত্রে অনলাইনে পণ্য বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সেবা প্রদানকারীর প্রাপ্য কমিশন / ফি হিসেবে প্রাপ্ত সেবামূল্যের উপর ৫% হারে প্রযোজ্য মূসক নির্ণয়ে কী পন্থা অবলম্বন করা হবে, তা সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।

৩। মূসক অব্যহতিপ্রাপ্ত পণ্য, যেমন শাকসবজি, মাছ, মাংস, ইত্যাদি) অনলাইনে বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সেবামূল্যের উপর মূসক প্রদেয় হবে কিনা, এবং যদি হয়, তাহলে সেই মূসক নির্ধারণের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকা প্রয়োজন।

৪। সেবা-প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মার্কেট সম্প্রসারণের প্রয়োজনে, হ্রাসকৃত মূল্যে এবং কোনো প্রকার কমিশন / ফি ছাড়া তথা শূন্য সেবামূল্যে – অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করলে, সেক্ষেত্রে শূন্য সেবামূল্যের উপর কোন মূসক আরোপিত হবে না, এবং হ্রাসকৃত মূল্যের ক্ষেত্রে, সেই হ্রাসকৃত সেবামূল্যের উপরই শুধুমাত্র মূসক আরোপিত হবে, এই মর্মে যথাযথ নির্দেশনা একান্ত প্রয়োজন।

উপরিউক্ত বিষয়সমূহের আলোকে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সুস্পষ্ট ব্যাখা প্রদান করেছেন। এসআরও নং: ব্যাখাপত্র নং-২/মূসক/২০১৯ (সংযুক্ত)

এরই পরিপ্রেক্ষিতে রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া, এনডিসিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন বেসিস সভাপতি  সৈয়দ আলমাস কবীর, পরিচালক এবং বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক দিদারুল আলম, বেসিস ডিজিটাল কর্মাস স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল, কো-চেয়ারম্যান আশিকুল আলম খান, কো-চেয়ারম্যান আশিষ চক্রবর্তী, কো-চেয়ারম্যান জিসান কিংশুক হক।

-সিনিউজভয়েস/ডেক্স/২৩সেপ্টে/১৯

Please Share This Post.