ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে বেড়ে ওঠার কথা, সে ভাবে বেড়ে ওঠেনি

রেইজ আইটি সল্যুশনস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এ এম রাশেদুল মজিদ। দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্বের শতাধিক দেশে বহুল ব্যবহৃত জনপ্রিয় রিটস ব্রাউজারের উদ্ভাবকও তিনি।

বেসিস নির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০২০ মেয়াদের নির্বাচনে ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন টিম দূর্জয় প্যানেল থেকে অংশগ্রহণ করছেন তরুণ এ তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা।

পাঁচ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্টের পাশাপাশি দেশীয় মাকের্টের উন্নয়নের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বেসিসের সদস্যদের ওয়ান স্টপ সল্যুশনের এমন একটা স্থানে নিয়ে যেতে চান যেখানে নতুন উদ্যোক্তারা পাবেন প্রশিক্ষণ ও সমস্যায় পড়া সদস্যরা পাবেন তাঁদের সকল সমস্যার সমাধান।

সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে রেইজ আইটি সল্যুশনস লিমিটেডের কার্যালয়ে বেসিস নির্বাচন নিয়ে তাঁর ভাবনা ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সিনিউজ’র সাথে খোলামেলা আলাপ করেন কে এ এম রাশেদুল মজিদ। একান্ত আলাপের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

সিনিউজ’: বেসিস নির্বাচন নিয়ে আপনি কী ভাবছেন ?

রাশেদুল মজিদ : আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নের সুযোগ এবং সম্ভাবনার ব্যাপকতা এবারের বেসিস নির্বাচনে সকল সদস্যকে প্রচণ্ড আগ্রহী করে তুলেছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এতো প্রার্থীদের অংশগ্রহণ এবারই প্রথম। সদস্যদের মধ্যেও যাচাইবাচাই করে যোগ্য প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আকাঙ্ক্ষা লক্ষ্য করছি। আমার ধারণা যে প্রার্থী বেসিসকে সদস্যবান্ধব সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে সরকারের দেয়া সুবিধার সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার করতে পারবে, প্রবীণ, প্রতিষ্ঠিত সদস্যদের অজ্ঞিতা ও তরুণ মেধাবী সদস্যদের আগ্রহের সমন্বয় ঘটিয়ে সফটওয়্যার ব্যবসার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরি করতে পারবে, সর্বোপরি বাংলদেশে সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় কোম্পানীগুলোর স্বার্থ সংরক্ষণে নীতিমালা প্রণয়নে ভূমিকা রাখতে পারবে সে সকল প্রার্থীকেই এবার সদস্যরা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন এসকল বিষয়ে অবদান রাখার ক্ষেত্রে আমার সক্ষমতা রয়েছে।

সিনিউজ: নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন কেন?

রাশেদুল মজিদ : বেসিসের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণ হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে আমার কিছু করণীয় রয়েছে। এই তাগাদা থেকেই নির্বাচনে দাঁড়ানো। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যেভাবে বেড়ে ওঠার কথা, সে রকমভাবে বেড়ে ওঠেনি। এই কাজ না হওয়ার জায়গাটিতে আমি কাজ করতে পারব বলে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। সরকার এবং দেশীয় কম্পানিগুলোর মধ্যে পলিসি গত যে সমস্যা আছে সে বিষয়গুলো নিয়ে আমি কাজ করতে চাই।

সিনিউজ: বেসিসের উন্নয়নে কোন জায়গাগুলোতে আপনি কাজ করাতে চান?

রাশেদুল মজিদ : সরকারের ৫ বিলিয়ন ডলার এক্সপোর্টের (রপ্তানি) বিষয়টিতে কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। আমি যেহেতু সফটওয়্যার এক্সপোর্টের সঙ্গে অনেক দিন ধরে আছি সেহেতু আমি বুঝতে পারছি বাইরের কোম্পানিগুলো আমাদের দেশে এসে আমাদের দেশীয় ইন্ডাস্ট্রিগুলোকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। এর মূল কারণ আমাদের পলিসিগত সমস্যা। আমরা যদি এই সমস্যার সমাধান করতে পারি, তাহলে এ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব। আমরা যদি এই কাজটি এখন না করি, তবে ৫ বছর পরে আমাদের লোকাল ইন্ডাস্ট্রির আর কোনো ডেভলপমেন্ট থাকবে না। এই জায়গায় সরকারের সঙ্গে বেসিস একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারে।

বেসিসের সদস্যরা নানা সমস্যায় পড়ে থাকেন। হয়তো তাদের আইনি সহায়তা প্রয়োজন, তারা জানেন না কী করবেন তারা। এ সব কাজে সহায়তা করবে বেসিস। আমরা একটা অ্যাপ এর মাধ্যমে সদস্যদের এই সেবা দিব। এ ছাড়া বেসিসকে ট্রাস্টেড ট্রেড বডি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবো। যারা তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যবসা করবে, তাদের মনে গেঁথে দিযে যাবো- বেসিস মানে আস্থার জায়গা। তাদের মনে স্থাপন করে যাবো, বেসিসে গেলেই আমি সমাধান পাব, বেসিসে গেলেই আমি সহযোগিতা পাব।

সিনিউজ: নতুন মেয়াদে কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো কি হতে পারে?

রাশেদুল মজিদ : দেখুন এই ইন্ডাস্ট্রিতে সবাই অত্যন্ত সচেতন এবং বিচক্ষন। নতুন মেয়াদে কমিটির সামনে চ্যালেঞ্জগুলো হবে ইন্ডাস্ট্রির স্কিল ডেভলপ (দক্ষতা বৃদ্ধি) করা। ফান্ডিংয়ের যে সমস্যা রয়ে গেছে, এটিকে ফোকাস করে যারা এগিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছেন তাঁদের সহযোগিতা করা। বেসিস কে দেশের সকল আইটি কম্পানির কাছে আস্থার জায়গাতে নিয়ে যাওয়া ।

সিনিউজ: দেশীয় মার্কেট নিয়ে কি ভাবছেন ?

রাশেদুল মজিদ : দেশিয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের সক্ষমতা সরকারের কাছে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরা। আমাদের দেশিয় প্রতিষ্ঠানসমূহ আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদান ও সফটওয়্যার প্রস্তুত করতে সক্ষম, সফটএক্সপোর মাধ্যমে দেশিয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর আস্থা বহুগুণ বাড়বে বলেই বিশ্বাস আমার। আর দেশিয় প্রতিষ্ঠানসমূহ শক্তিশালী হলে খুব সহজেই তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বহুল প্রতীক্ষিত ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় অর্জন করা সম্ভব।

সিনিউজ: দুই বছর সময় কি কাজের জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন?

রাশেদুল মজিদ : আমি জানি, আমার এই চাওয়া পাওয়া পূরণে দুই বছর খুব কম সময়। কিন্তু আমরা যদি এখন শুরু না করি, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এসে কিছুই করতে পারবে না। তাই আমরা শুরু করে যাবো।

সিনিউজ: নির্বাচিত হলে বেসিসকে কোন স্তরে দেখতে চান ?
রাশেদুল মজিদ : যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে আজকে বেসিসকে আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বের জায়গায় নিয়ে এসেছেন তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এটুকুই শুধু বলতে চাই, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকাকে ঘুর্ণায়মান চাকায় পরিণত করার ক্ষেত্রে বেসিসই একমাত্র সংগঠন হিসেবে অপরিহার্য হয়ে উঠবে। এবং সারা বিশ্বে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

সিনিউজ: নির্বাচন উপলক্ষে বেসিস সদস্যদের কিছু বলুন ।
রাশেদুল মজিদ : বেসিসের সম্মানিত সদস্যদের উদ্দেশে বলতে চাই, প্রার্থীদের সক্ষমতা, দক্ষতা, যোগ্যতা দেখে আপনার মূল্যবান ভোট দিন। কারণ নির্বাচনের আগে দলাদলি, কাদা ছোড়াছুড়ি বৈরীতা তৈরি করে। পরে সেটি শত্রুতায় পরিণত হয়। নির্বচিত হওয়ার পর ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে অ্যাসোসিয়েশন বাধাগ্রস্ত হয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে ওয়ার্কিং গ্রুপ তৈরি করার সুযোগ দিন। আপনারা যদি আমাকে যোগ্য মনে করেন তাহলে আপনার মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাকে নির্বাচিত করুন। আমি কথা দিচ্ছি নির্বাচনে বিজয়ী হলে নেতা হিসেবে নয়, আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের সাথে থাকবো, বিজয়ী না হলেও আপনাদের সাথে থাকবো। আপনাদের সহযোগিতা, পরামর্শ আমার পাথেয় হয়ে থাকবে।

সিনিউজ: আপনাকে ধন্যবাদ সিনিউজ’কে সময় দেয়ার জন্য।
রাশেদুল মজিদ: আপনাকে ও সিনিউজ’কে ধন্যবাদ।

সিনিউজভয়েস—-

Please Share This Post.