‘ইন্ডাস্ট্রি এবং অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে বিদ্যমান গ্যাপটি দূর করতে চাই’

দেশে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনার পরিসর আরও বিস্তৃতি করা সম্ভব যদি এর মান নিয়ন্ত্রণ ও টেস্টিং করা যায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ডের (বিএসটিবি) সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সংগঠনটির মহাসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান।

বিষয়টি বাস্তবায়ন করতে মূল এজেন্ডার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে এবারের আসন্ন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮–২০২০ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান ২০০৬ সাল থেকে ইন্টারন্যাশনাল সফটওয়্যার টেস্টিং বোর্ডে (আইএসটিবি) বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

নির্বাচনে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা’র ‘উইন্ড অব চেঞ্জ’ প্যানেলের সদস্য হিসেবে আসন্ন বেসিস নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তিনি।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামা বলেন, আইসিটি খাতে সবচেয়ে প্রয়োজন দক্ষ জনবলের। যে ইন্ডাস্ট্রিতে দক্ষ জনবল যত বেশি সে ইন্ডাস্ট্রি তত এগিয়ে যাচ্ছে। আইসিটি ইন্ডাস্ট্রির ক্ষেত্রেও এর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২৮ বছরের ড্যাফোডিল গ্রুপের অভিজ্ঞতা বলে এখানে আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাকাডেমির একটা বিশাল গ্যাপ রয়েছে। একদিকে ইন্ডাস্ট্রি বলছে আমরা দক্ষ লোক পাচ্ছি না, অন্যদিকে লাখ লাখ শিক্ষিত বেকার রয়েছে। যেহেতু ড্যাফোডিল আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি এবং একাডেমিয়া দুটি সেক্টরই কাজ করছে, সেহেতু আমরা মূল গ্যাপটি ভালোভাবে জানি ও বুঝি এবং এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু একটি প্রাইভেট অর্গানাইজেশন যত বড়ই হোক না কেন, তারা যদি একাই এই কাজ করে তাহলে বড় সাফল্য আশা করা কঠিন। তবে তা যদি একটি সংগঠনের মাধ্যমে জাতীয়ভাবে করা যায় তাহলে এটি সাফল্যের সম্ভবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে। আর এই সংগঠনটি হতে পারে বেসিস।

বেসিস নির্বাচনে নিজের অবস্থান সম্পর্কে ড্যাফডিল গ্রুপের এই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, আমার প্রথম অ্যাজেন্ডা হলো ইন্ডাস্ট্রি এবং অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে বিদ্যমান গ্যাপটি দূর করা। দ্বিতীয়ত, দেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিকে টেস্টিং ও কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সফটওয়্যারের বাজার সম্প্রসারিত করা।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সফটওয়্যারগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে যেভাবে ফোকাস হওয়ার কথা সেভাবে ফোকাস হচ্ছে না। কারণ বিশ্বের নানা দেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি তথা বেসিসের কোনো প্রতিনিধি নেই। আমি যদি ড্যাফোডিল থেকে এককভাবে এই কাজটি করি তবে সাফল্য লাভ করা অত্যন্ত কঠিন। যদি বেসিস থেকে এ কাজটি করা যায় তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে এবং বেসিসের সদস্য কোম্পানিগুলো উপকৃত হবে। নামমাত্র খরচে বা বিনামূল্যে আমাদের নেটওয়ার্ক ও অ্যালামনিদের সহযোগিতায় তিন মাসের মধ্যেই ৮-১০ টা দেশে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশীয় সফটওয়্যারের বিপণনের জন্য বেসিসের অফিস স্থাপন করতে পারবো।

এই বিষয়গুলোতে বেসিসের পূর্বের কমিটি কী পূরণ করতে ব্যর্থ এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমরা সবাই জানি এই গ্যাপগুলো রয়েছে, উদ্যোগও নিয়েছেন। কিন্তু এই গ্যাপ পূরণে সংশ্লিষ্ট এরিয়াতে অভিজ্ঞদের সমন্বয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।

পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্পর্কে তিনি বলেন, আগেই বলেছি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে আমরা এ কাজ দীর্ঘদিন ধরে করে যাচ্ছি। এখন বেসিসের মাধ্যমে বড় পরিসরে জাতীয়ভাবে আমরা চাই এটি শুরু করতে। আমাদের এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কিছু ধাপ পেরোতে হবে। এর মধ্যে পলিসিসহ অন্যান্য বিষয় রয়েছে। এই ধাপগুলো পেরোলে এটি কন্টিনিউ প্রসেসে চলতে থাকবে।

মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, আমরা দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এসব কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু বেসিসের মতো প্লাটফর্ম পেলে কাজ করার ক্ষেত্রটি অনেকগুণ বেড়ে যাবে। আজ পর্যন্ত আমি যা অর্জন করেছি তা আমার কাছে অনেক মনে হয়। আমি চাই নির্বাচনে জয়ী হয়ে সেসিস মেম্বারদের কাধে কাধ মিলিয়ে কাজ করতে। আমার মনে হয়, বেসিসকে সামনে রেখে সফটওয়্যার রফতানিতে সরকার ঘোষিত ১০% ইনসেন্টিভ এর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন ডলারের যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে সেটি অর্জন করা খুব একটা কঠিন বিষয় নয়।

সিনিউজভয়েস//তুষার

Please Share This Post.