‘ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট নিয়ে কাজ করতে চাই’


আমেরিকার মেরিল্যান্ড কলেজ পার্ক ইউনিভার্সিটি থেকে ইকনোমিকসে অনার্স ও কানাডা থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করলেও ছাত্রজীবন থেকেই প্রোগ্রামিং করেন নূর খান। দেশের বাইরে পড়াশুনা করার পাশাপাশি ফ্রিল্যান্সিং করার সুবাদে বিভিন্ন ক্লায়েন্টদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে তার। ওই ক্লায়েন্টরাই এক সময় হয়ে উঠেন তাঁর ব্যবসার পুঁজি। দেশে ফিরে শুরু করেন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা। এভাবেই গড়ে তোলেন ‘রাইট ব্রাইন সল্যুশনস’। বর্তমানে তিনি একজন সফল আইটি ব্যবসায়ী। রাইট ব্রাইন সল্যুশনস এর প্রাধন নির্বাহী কর্মকর্তা। ১৭ বছর ধরে দেশের আইসিটি খাতের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন তিনি।

এবারের বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮–২০২০ নির্বাচনে দোহাটেক নিউ মিডিয়ার চেয়ারম্যান লুনা শামসুদ্দোহা’র ‘উইন্ড অব চেইঞ্জ’ প্যানেলে অংশ নিয়েছেন তিনি।

বেসিস নির্বাচন নিয়ে এ আইসিটি ব্যবসায়ী বলেন, সময়ের মাপকাঠিতে বেসিসের গুরুত্ব আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীরা এখানে সবাই নেতৃত্ব দিতে চান। তাই নির্বাচন অনেক বেশি প্রতিযোগিতামূলক এবং সদস্যদের অংশগ্রহণও বেড়েছে। এ নির্বাচনের এটি খুবই ইতিবাচক দিক।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রসঙ্গে নুর বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে ও বাইরে আইসিটি ব্যবসা করে যেসব ক্লায়েন্টদের সাথে পরিচয় হয়েছে, যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তাতে বুঝতে পেরেছি আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের আইসিটি ব্যবসার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আসলে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের যেভাবে ব্যবসা করার কথা সেভাবে বেড়ে উঠেনি। আন্তর্জাতিক বাজার বেসিসের জন্য একটা বড় ফোকাসের জায়গা। আমার মনে হয়েছে এ জায়গাটাতে আমার কাজ করার বড় সুযোগ আছে। আরেকটি বড় ফোকাস হলো বেসিস সেক্রেটারিয়েটকে এমপাওয়ারড করা, সুষ্ঠুভাবে স্ট্রাকচারড করা, যেন সেক্রেটারিয়েট নিজে সব কিছু সুন্দরভাবে করতে পারে। এখানে একশ জন সদস্য না রেখে দক্ষ অল্প কিছুসংখ্যক সদস্য রাখতে হবে যারা আইসিটি ব্যবসা বুঝেন, বিদেশি ক্লায়েন্টদের সাথে ভাল সম্পর্ক ও অভিজ্ঞতা আছে। বাইরে থেকে কাজ আনতে হলে বিদেশি কোম্পানীদের সাথে পরিচিতি থাকতে হবে। যারা এখানে বেসিস ট্রেডবডিতে থাকবেন তাদের যদি এ সক্ষমতা না থাকে তাহলে ব্যবসা ভাল হবে না। ব্যবসা ভাল না হলে প্রতিষ্ঠানও ভাল চলবে না। তখন সদস্যরা ব্যবসা থেকে বঞ্চিত হবেন। একজন সদস্য হিসেবে আমার মনে হয় এখানে কাজ করে বেসিসের জন্য ভাল কিছু করতে পারবো।

নূর আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আইসটি ব্যবসার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমাদের বিশাল একটা বাংলাদেশি স্বীকৃত জনগোষ্ঠী সান ফ্রান্সিস্কো, বোস্টন, নিউইয়র্ক, টরন্টোতে বিভিন্ন টেকহাবগুলোতে আছে। আমার মতে, তাদের সাথে ব্যবসা নিয়ে কথা বলা যায়। আমরা যদি তাদের কাছে গিয়ে বলি যে, আমরা বেসিস নিয়ে এভাবে কাজ করতে চাচ্ছি, এটা আমরা কীভাবে করতে পারবো বা আমরা একটা ভ্যাঞ্চার ক্যাপিটাল দেশে আনতে চাচ্ছি কীভাবে এটা আনা যায়।তাহলে তারা এ বিষয়ে আরো আগ্রহী হবে বলে আমার বিশ্বাস।

দেশীয় মার্কেট নিয়ে ভাবনা সম্পর্কে নুর বলেন, দেশীয় মার্কেটে প্রচুর ডিমান্ড আছে। আমাদের সারাদেশের আইসিটি মার্কেটের কথা যদি চিন্তা করি তাহলে সাইজ কিন্তু কম না। তবে সফটওয়্যার ব্যবহারটা কম, সফটওয়্যার সম্পর্কে সচেতনতা কম। প্রথমে দেশের মানুষদের সফটওয়্যার সম্পর্কে সচেতনতা দিতে হবে, সফটওয়্যার তাদের কী সুবিধা দেবে তা বোঝাতে হবে। তারা তখনই আমাদের সাথে ব্যবসা করবে যখন তারা সফটওয়্যার ব্যবসাটা বুঝবে। তবে আমাদের সফটওয়্যার মার্কেটটা অনেক সম্ভাবনাময়।

বেসিসকে সদস্যবান্ধব করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে নুর বলেন, বেসিসের স্ট্রাকচারটাকে একটা ফ্রেন্ডলি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা জরুরি। বেসিস একটা ব্র্যান্ড। সবাই চেনে। একটা প্রোগ্রাম হলে সবাই আসেন। কিন্তু এর মূল্যটাকে সবাই বোঝে না। যারা ট্রেডবডিতে ছিলেন তারা হয়তো মেম্বার ও নন-মেম্বারদের কাছে বেসিসের মূল্যটা বোঝাতে পারেনিন। কেননা বেসিসে সদস্যরা কম আসেন। সদস্যবন্ধব না। এটা একটা মেম্বারদের প্রতিষ্ঠান। বেসিস স্ট্রাকচারটা এমন হওয়া উচিত যাতে সেখানে সবাই সহজভাবে যেতে পারেন। সবাই এসে যেন নিজের পরিবারের মত করে এক সাথে কাজ করতে পারেন। আমি চাই যারাই ট্রেডবডিতে আসুক না কেন এ বিষয়গুলোকে যেন গুরুত্ব দেন।

বেসিসের সদস্যদের উদ্দেশে নুর বলেন, আমি দীর্ঘ দিন ধরে দেশ ও বিদেশে আইসিটি ব্যবসার সাথে জড়িত। আমার কোম্পানি ভালভাবে চলছে। আমি আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই। ১৭ বছর ধরে কাজ করার যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি সেগুলো বেসিস সদস্যদের জন্য দিতে চাই। একই সাথে আমি মনে করি বেসিস মেম্বারদের একটা সঠিক সময় আসছে যখন তাঁরা উপযুক্ত প্রার্থীকে তাদের মূল্যবান ভোটটা দেবেন। বেসিসের পরিবর্তন আনার জন্য সদস্যরা সঠিক প্রার্থীকে ভোট দেবেন এটাই আমার প্রত্যাশা।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/