ইন্টারনেট সেবা খাতের জন্য ৯দফা দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছে আইএসপিএবি

দেশে করোনাভাইরাস এর ভয়াবহতা বিবেচনা করে ৯ দফা দাবি দিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এর মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এর বরাবর অনুদান চেয়ে গতকাল চিঠি দিয়েছে আইএসপি এসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ। এসোসিয়েশন এর সভাপতি আমিনুল হাকিম এর স্বাক্ষরিত চিঠিতে ৬১০ কোটি টাকার অনুদান চাওয়া হয়েছে। এদিকে সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল ইমদাদুল হক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরবিচ্ছিন্ন ও জরুরী সেবা খাত ইন্টারনেট সেবা অব্যহত রাখতে সরকার ও সংস্লিষ্ট মন্ত্রালয়ের সহযোগিতার বিকল্প নেই ।

সভাপতি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের এই মহামারীতে আইএসপিদের সেবা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম অব্যহত রাখার জন্য আমাদের ব্যবসায়িক ক্ষতিপুরণে আর্থিক অনুদানসহ নিম্নের খাতগুলোতে আপনার সহযোগীতার জন্য আবেদন।

“ডিজিটালি যদি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তাহলে ইন্টারনেটই তো একমাত্র ভরসা। ইন্টারনেট সেবাদাতারাই সারা দেশকে এখন পর্যন্ত সক্রিয় রেখেছে। সচল রেখেছে ইন্টারনেট। এটা না থাকলে দেশ স্থবির হয়ে পড়তো। দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তো। তাই ইন্টারনেটকে সাশ্রয়ী ও সুলভ করে সকলের কাছে পৌঁছে দেয়াই সরকারের লক্ষ্য।” আপনার এই বক্তব্যের মাধ্যমে আমরা অনুপ্রানিত ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। যথাবিহিত সম্মান প্রদর্শনপূর্বক আমাদের অভিভাবক হিসেবে আপনার কাছে কয়েকটি বিষয় নিবেদন করছি। আমাদের ইন্টারনেট সেবাদাতারা করোনাভাইরাসের এই ক্রান্তিলগ্নে, ২৪ ঘন্টা সেবা প্রদান ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত মাঠ পর্যায়ে ফাইবার টিম ও নেটওর্য়াক টিম কাজ করে যাচ্ছে; সরকারী নির্দেশনায় সারা দেশ আজ কোয়ারান্টাইন অবস্থায় আছে, কিন্তু বন্ধ হয়নি ইন্টারনেট সেবা, যার ফলে বাসায় বসেই প্রায় সকল কাজ অনলাইনে চলছে, এর পিছনের চালিকা শক্তিরূপে আইএসপিরা কাজ করে যাচ্ছে, আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে এখন পর্যন্ত ব্যাংক, বীমা, আউটসোর্সিং, কলসেন্টার, সফটওয়্যার, টেলি-মেডিসিন, পোষাক শিল্প, মেডিয়া, হাসপাতাল, ই-কমার্স এবং সকল জরুরীসেবা খাত সাবলীলভাবে চলছে। কিন্তু করোনার প্রভাবে এই বিরূপ পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিকভাবে আমাদের টিকে থাকার ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের খাতে প্রায় দুই লক্ষাধিক মাঠকর্মীর কর্মহীন হয়ে পড়ার আশংকা রয়েছে। নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সেবা প্রদান সচল রাখতে নিম্নোক্ত প্রস্তাবনা তুলে ধরা হল।

১। অন্য সকল জরুরী সেবা খাত হিসাবে আইএসপিদের আপদকালীন আগামী ৬ মাসের বেতনের ও অফিস ভাড়া প্রদান করে প্রতিষ্ঠানগুলো সচল রাখতে আইএসপি খাতে ৬১০ কোটি অনুদান হিসেবে প্রয়োজন হবে।

২। আগামী ন্যূনতম দুই বছর সকল ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানদের আয়কর প্রত্যাহার ও ইন্টারনেট সেবায় সকল পর্যায়ে (ITC, Submarine, IIG, NTTN, ISP) ভ্যাট প্রত্যাহার করার জন্য আপনার নিকট আকুল আবেদন।

৩। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার বহুলাংশে বৃদ্ধি পাওয়ায়, আমাদের ব্যান্ডউইথ ও transmission খরচ বেড়েছে। পক্ষান্তরে লকডাউনের কারনে আমাদের মাসিক বিল আদায় করতে পারছি না, ফলশ্রুতি আমরা আমাদের আপস্ট্রিম আইআইজি এবং এনটিটিএন-এর মাসিক বিল প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছি। এমতাবস্থায়, ইন্টারেনট সেবা সক্রিয় রাখার জন্য ব্যান্ডউইথ ও এনটিটিএন বিলের আগামি ৬(ছয়) মাসের অনুদান আশা করছি।

৪। বর্তমান দুর্যোগকালিন মুহুর্তে ইন্টারনেট বিল আদায়ে মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ/বিকাশ/রকেট) এর মাধ্যমে বিল পরিশোধের উপর সকল প্রকার সার্ভিস/ট্রানজেকশন চার্জ মওকুফ করার জন্য আবেদন করছি।

৫। আইএসপিএবি-এর স্বীকৃত ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান হতে সহজ শর্তে ২% সুদে, জামানতবিহীন ও এক বছরের জন্য গ্রেস পিরিয়ডসহ স্বল্প/দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করা।

৬। গ্রাহক প্রর্যায়ে সেবা প্রদানে যে সকল ফাইবার ক্যাবল ও নেটওয়ার্ক পন্য উপর থেকে আমদানি শুল্ক আগামী দুই বছরের জন্য রহিতের মাধ্যমে মুল্য হ্রাসে সুযোগ করে দেয়ার ব্যবস্থা গ্রহন।

৭। আগামী দুই বছরের জন্য সকল প্রকার লাস্ট মাইল ঝুলন্ত তার অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে। বিদ্যুৎ মন্ত্রনালয় ও আইএসপিএবি যৌথ উদ্যোগে অব্যবহৃত ঝুলন্ত তারসমূহ অপসারণ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে শহর সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

৮। ইন্টারনেট সেবাকে জরুরী সেবা ঘোষনার পরিপ্রেক্ষিতে, আমাদের মাঠকর্মীদের সরকারী স্বাস্থ্য ঝুঁকিভাতায় আওতাধীন করার জন্য আবেদন করছি।

৯। বিটিআরসি কর্তৃক সকল প্রকার রেভিনিউ শেয়ার প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করছি। এহেন পরিস্থিতিতে আমরা আপনার তথা সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি। আশা করছি, এই দুর্যোগে সেবা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ব্যবসায় টিকিয়ে রাখতে সরকার উপরোক্ত নয়টি অনুরোধ বাস্তবায়নে আপনার সহযোগীতা একান্ত কাম্য।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/৫এপি./২০

 

 

Please Share This Post.