আসছে বৈশাখ, বাড়ছে অনলাইনে প্রতারণা!

ঢাকা: অনলাইনে কেনাকাটা চালুর প্রায় ১০ বছর পার হলেও ই-কমার্স সাইটের জন্য কোনো নীতিমালা তৈরি হয়নি। সুনির্দিষ্ট নীতিমালার অভাবে এসব সাইটের মাধ্যমে কেনাকাটা করতে গিয়ে প্রায়ই প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতা। পাশাপাশি সরকারও বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে।

আসছে বৈশাখ, বাড়ছে অনলাইনে কেনাবেচা। অন্য সময়ের তুলনায় অধিক কেনাবেচা হবে অনলাইনে। এই সুযোগে একদল প্রতারণাকারী সুযোগ খোঁজবে প্রতারিত করা জন্য।

নগরজীবনের ব্যস্ততা ও বাজারে যাওয়ার ঝক্কিঝামেলার কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অনলাইনে কেনাকাটা। আসছে নতুন নতুন পোর্টাল, ক্রমেই বাড়ছে এর প্রসার। নতুন পণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন পুরনো পণ্য বেচাকেনা হচ্ছে এসব সাইটে। কিন্তু এর মাধ্যমে অনেক সময় ক্রেতার প্রতারিত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সুনির্দিষ্ট কোনো নীতিমালা না থাকায় এসব প্রতারণার প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। শুধু ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছে সেটাও ঠিক না, পাশাপাশি প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহকেরাও।

অনলাইনে পণ্য কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছেন, সাইফুল আহমেদ মুরাদ নামের একজন শিক্ষার্থী। ফেসবুক থেকে এড থেকে তিনি একটি ট্যাব কিনেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির কোন ওয়েবসাইট ছিল না। শুধু মাত্র ফেসবুক পেজ। যে ফোন নাম্বারটি দিয়ে তার সাথে যোগাযোগ করা হয়েছিল পরবর্তিতে নাম্বারটিতে ফোন দিলে নাম্বারটি বন্ধ মিলে।

ঠিক একই ভাবে রাজ্জাক মানের এক চাকরিজীবি মোবাইল কিনের, অর্ডার দেওয়ার পর পণ্যটি বাসায় এনে পৌঁছে দেই একজন লোক। রাজ্জাক ফোনটি হাতে পাওয়ার দেখে ফোনটি ভালো , কিন্তু পরবর্তিতে দেখে নষ্ট ফোন। পরে আর তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

দেশে বর্তমানে বিক্রয় ডটকম, ওএলএক্স ডটকমডট বিডি, লামুদি ডটকমডট বিডি, সেলবাজার ডটকম, ক্লিকবিডি ডটকমসহ বেশ কয়েকটি সাইট রয়েছে, যেগুলোর মাধ্যমে সহজেই কেনাবেচা করা যায়। এসব সাইটে একজন বিক্রেতা তাত্ক্ষণিকভাবে অ্যাকাউন্ট খুলে পণ্য বিক্রির সুযোগ পেয়ে থাকেন। এজন্য কোনো ফিও দিতে হয় না।

ক্রেতারা যেমন পণ্য কিনে প্রতারিত হয়, তেমনি পণ্য বিক্রেতারাও প্রতারিত। অনেক সময় দেখা যায় পণ্য বাসায় পৌঁছে দিতে গিয়ে অনেকেই ভয় দেখিয়ে পণ্য রেখে দেই। আবার কুরিয়ারে পণ্য পাঠানোর পর অনেকে তা গ্রহণ করে না। তাতে করে ক্ষতির মুখে পাড়তে হয় ব্যবসায়ীদের।

দেশে প্রতিষ্ঠিত বেশ কয়েকটি ই-কমার্স সাইট রয়েছ। এসব সাইটের মাধ্যমে ঘরে বসে পণ্য কেনা যাবে এবং পণ্য হাতে পাওয়ার পর মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে ই-কমার্সভিত্তিক সেবার মূল মাধ্যম ওয়েবসাইট খুলতে ডোমেইন ও হোস্টিংয়ের খরচের বাইরে কোনো অর্থ পরিশোধ করতে হয় না উদ্যোক্তাকে। এ কারণে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে ই-কমার্স সাইট। এগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় কিছু ওয়েবসাইট ছাড়া বাকিগুলোর বিরুদ্ধে কম-বেশি অভিযোগ রয়েছে ক্রেতাদের।

প্রযুক্তিবিদরা মনে করেন, যখনই কোনো ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি হয়, সেখানে ভালো-মন্দ দুই ধরনের কর্মকাণ্ডই পরিচালিত হয়। সরকারের দায়িত্ব এগুলোকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা। অনুমোদনবিহীনভাবে এ ব্যবসা গজিয়ে ওঠার ফলে প্রতারণার সুযোগ সৃষ্টি হয়। তখন অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানও ক্রেতার বিশ্বাস হারায়।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে দেশে প্রথমবারের মতো অনলাইনে বেচাকেনা শুরু হয়। ২০১০ সালে বেসরকারি ব্যাংক ডাচ্-বাংলা সর্বপ্রথম ই-পেমেন্ট সুবিধা চালু করে। আর ২০০৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক অনলাইনে কেনাকাটার অনুমতি দেয়।

সিনিউজভয়েস/অঞ্জন

Please Share This Post.