আলোক দিবস উদযাপন

গতকাল ১৬ মে, বাংলাদেশে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আলোক দিবস। ইউনেস্কো ঘোষিত এই দিবসটি উদযাপনে ‘আলো ভুবন ভরা’ নামে দিনব্যাপী একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে। বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুস্থানটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হয়।

এই আয়োজনে ছিল Tales of Light বা আলোর গল্প নামক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, পোস্টার প্রদর্শনী, হাতে-কলমে আলো নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট, শিশু-কিশোরদের জন্যে আলো ও আলোক-প্রযুক্তি বিষয়ক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, কুইজ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

১৯৬০ সালের ১৬ মে মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও প্রকৌশলী থিওডোর মাইম্যান প্রথমবারের মতো সফলভাবে লেজার পরিচালনা করতে সক্ষম হন। ৬৯৪ ন্যানোমিটারের লাল এই লেজারটি ছিল আলোক-প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় একটি বড় উদ্ভাবন। লেজারের আবিষ্কার চিকিৎসাশাস্ত্র থেকে শুরু করে টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাসহ সর্বক্ষেত্রে আলোর ব্যবহারকে ছড়িয়ে দেয়। বর্তমানে আমাদের জীবনে আলো ও আলোক প্রযুক্তির ভূমিকা অন্য যেকোন সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো সেজন্যে মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতিতে আলোর ভূমিকাকে উদযাপন করার জন্যে গত বছর ১৬ মে কে আন্তর্জাতিক আলোক দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আলোক দিবসের জাতীয় সমন্বয়কারী হিসেবে বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতি (এসপিএসবি) দায়িত্ব পালন করছে।

গতকালের আয়োজনে ‘আলোর গল্প’নামে যে আলোকচিত্র প্রদর্শনীটি ছিল, তাতে প্রায় ৯০টি আলোকচিত্র প্রদর্শিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জমা পড়া প্রায় ১ হাজার আলোকচিত্র থেকে প্রদর্শনীর জন্যে এই ছবিগুলো বাছাই করেন ওয়েডিং ডায়েরির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা প্রীত রেজা ও আলোকচিত্রী সাবিনা ইয়াসমিন। বিজয়ী নির্ধারণ করেন ‘ক্যামেরার কবি’ হিসেবে পরিচিত পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফার নাসির আলী মামুন।

আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে এসেছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইশতিয়াক আকিব। আকিব বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে এটা দেখে যে, বাংলাদেশেও আলো নিয়ে এই দিনটি উদযাপিত হচ্ছে। এখানকার ছবিগুলো ঘুরে দেখছি। শুধু আলো বিষয়ক ছবি নিয়ে এর আগে কোন প্রদর্শনী দেখা হয়নি, সেজন্যে পুরো ব্যাপারটাকেই খুব ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে।’

আলোকচিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও দুপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিশু-কিশোরদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। বিচারক হিসেবে এসেছিলেন কার্টুনিস্ট নিয়াজ চৌধুরী তুলি ও শিখা। এছাড়া ২০১৫ সালে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক আলো ও আলোক-প্রযুক্তির বছর উদপযাপনে এসপিএসবি যে আয়োজনগুলো করেছিল, সেসব আয়োজনের বেশ কিছু ছবি প্রদর্শিত হয়েছে। ছিল কুইজ প্রতিযোগিতা ও পোস্টার প্রদর্শনী।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার মুক্তি আলোয় আলোয়’ দিয়ে শুরু হয় বিকেলের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ছিল আবৃত্তি, নাচ এবং রবীন্দ্রনাথ ও আলবার্ট আইনস্টাইনের কথোপকথন। কল্পরেখার শিশু শিল্পীদের ‘আলো ভুবন ভরা’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

সমাপনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদী, বিজ্ঞানচিন্তার সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের কিপার ড. শিহাব শাহরিয়ার, অন্যরকম গ্রুপের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান সোহাগ ও বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির সহসভাপতি মুনির হাসান। তাঁরা আলোকচিত্র প্রদর্শনী, কুইজ ও চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

আন্তর্জাতিক আলোক দিবসের আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল মাকসুদুল আলম বিজ্ঞানাগার, বিজ্ঞানচিন্তা ও কিশোর আলো।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.