আরো ১৫ হাজার নারীকে প্রশিক্ষণ দেবে মাস্টারকার্ড

 

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য চতুর্থ পর্যায়ে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম বা আর্থিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছে। এই পর্যায়ে চলতি ২০১৭ সালে দেশের ১৫ হাজার স্বল্প আয়ের এবং বেকার নারীকে আর্থিক ও ব্যবসায়িক কর্মকান্ড সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর ফলে মাস্টারকার্ডের চারটি পর্যায়ের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ সুবিধা পাওয়া নারী উদ্যোক্তার মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১ লাখ ৫০ হাজার। মাস্টারকার্ডের এই কর্মসূচি শুরু হয় ২০১৩ সালে।

বিশ্বব্যাপী মাস্টারকার্ড নারী ও শিশুদের আর্থিক কর্মকান্ডে অন্তর্ভূক্তিকরণে যেভাবে কাজ করে তারই ধারাবাহিকতায় এবার এই কার্যক্রমে দেশব্যাপী নারীদেরই অধিকসংখ্যায় প্রশিক্ষণ প্রদানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে ক্ষুদ্রঋণ ব্যবহারে তাদের দক্ষতা বাড়ে এবং তারা সফল উদ্যোক্তা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারেন।

মাস্টারকার্ড বাংলাদেশে তার প্রথম অফিস খোলার বিষয়টিকে স্মরণীয় করে রাখতে ২০১৩ সালে প্রথম পর্যায়ের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম হাতে নেয়। এর পরে ২০১৫ সালে শুরু করে দ্বিতীয় ও ২০১৬ সালে তৃতীয় পর্যায়ে পর্যায়ের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম। ব্যুরো বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করে মাস্টারকার্ড এ পর্যন্ত অর্থাৎ প্রথম দুটি পর্যায়ের কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে এক লাখেরও বেশি উদ্যোক্তাদের আর্থিক ও ব্যবসায়িক দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ দিয়েছে। সেই সাথে ১০ টাকার ব্যাংক হিসাবধারীদের জন্যও একই ধরনের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করেছে।

নারী ও শিশুদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাস্টারকার্ডের নেওয়া বৈশ্বিক কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে চতুর্থ বারের মতো এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মাস্টারকার্ড। বিশেষ করে সারাদেশের নারী উদ্যোক্তাদের নেওয়া মাইক্রোফিন্যান্স বা ক্ষুদ্রঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই কর্মসূচিটি নেওয়া হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর শিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে মাস্টারকার্ডের নেওয়া এই চতুর্থ পর্যায়ের ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মিজানুর রহমান জোদ্দার। এতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাস্টারকার্ডের দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকাস ভার্মা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল এবং ব্যুরো বাংলাদেশের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর জাকির হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর শিতাংশু কুমার সুর চৌধুরী বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশে কঠোর পরিশ্রমী ও দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ অনেক নারী আর্থিক ও ব্যবসা বিষয়ে প্রশিক্ষণ পেলে সফলতা অর্জন করবেন। মাস্টারকার্ড ও ব্যুরো বাংলাদেশ তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের আওতায় নেওয়া তৃতীয় পর্যায়ের এই ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রামে জনগোষ্ঠী আর্থিক কর্মকান্ড শুরু ও উদ্যোক্তা হয়ে উঠার বিষয়ে প্রশিক্ষণ পাবে। এতে শুধু তাদের দক্ষতাই বাড়বে না, সেই সঙ্গে ব্যবসা শুরু করার আস্থাও জোরদার হবে। ফলে তাদের স্ব-কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে সেটি পূরণ হবে এবং তারা উদ্যোক্তা হয়ে উঠবেন।’

মাস্টারকার্ডের দক্ষিণ এশিয়ার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ভিকাস ভার্মা অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ২০২০ সালের মধ্যে ৪ লাখ নারী এবং মেয়েকে অন্তর্ভূক্তিমূলক আর্থিক কর্মকান্ডের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার লক্ষে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি প্রোগ্রাম নিয়ে মাস্টারকার্ড কাজ করছে। আমরা গর্বিত, আমাদের পার্টনারদের সহযোগীতায় লক্ষ্যমাত্রার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে। এই প্রশিক্ষণের ফলে অংশগ্রহণকারীদের আর্থিক এবং ব্যবসায়িক জ্ঞান ও দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে তারা নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবেন। এরই বদৌলতে তারা দীঘমেয়াদে শুধু নিজেদের জন্যই নয়, বরং তাদের পরিবার এবং সমাজেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।’

মাস্টারকার্ড বিশ্বব্যাপী শুধু নতুন উদ্যোক্তা তৈরি এবং তাদের নিজ নিজ উদ্যোগে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে অনেক সংগঠন ও কর্মসূচির মাধ্যমে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি নিয়েই কাজ করছে না, বরং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের উন্নয়ন এবং বিকাশের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিক সহায়তাও দিয়ে চলেছে।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক