আমাদের অগ্রাধিকার হচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া

মোহাম্মদ আরিফ হোসেন (পাটনার মাকেটিং এ্যাডভাইজর, মাইক্রোসফট এসইএ এনএম কান্ট্রিস্)
আমি আইটি ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ শুরু করি ১৯৯৭ সাল থেকে। আমরা যখন আইটিতে ক্যারিয়ার শুরু করেছি তখন আইটিতে অতটা জনপ্রিয় কর্মসংস্থান ছিল না। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়েছে আইটি অন্যতম একটা সেরা সেক্টর যেখানে আসলে শেখার অনেক কিছুই আছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বনামধন্য দেশীয় বিভিন্ন আইটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছি, ২০১২ সালে মাইক্রোসফটে যোগদান করি। শুরুতে আমি মাইক্রেসফট পার্টনার এ্যাকাউন্ট ম্যানেজার হিসেবে অরিজিনাল ইকুপম্যান্ট ম্যানুফ্যাকচারার পার্টনার ম্যানেজ করতাম। সেই সেগমেন্ট দু’বছর দেখার পর আমি মাইক্রোসফটের আরেকটা ফিল্ড ওপেন সলিউশ্যন সফটওয়্যার – সেখানে পার্টনার ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হিসেবে ২০১৭ সাল পর্যন্ত কাজ করি। আমার রোলটা আসলে ছিল বাংলাদেশে পার্টনার ইকো সিস্টেমে যারা মাইক্রোসফটের বিভিন্ন ওপেন সলিউশ্যন নিয়ে কাজ করে তাদেরকে সাহায্য করা, তাদের সামর্থ্য উন্নয়নে সহায়তা করা এবং মাইক্রোসফটের সলিউশনগুলো যেন তারা বিভিন্ন কাস্টমারের কাছে পৌঁছে দিতে পারে সেজন্য তাদেরকে গাইড করা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশের মাইক্রোসফট থেকে আমি নতুন একটা দায়িত্ব পেয়েছি, বাংলাদেশ, ভুটান, ব্রুনাই, কম্বোডিয়া, লাওস, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা – এই নয়টি দেশ নিয়ে আমাদের দক্ষিণ এশীয় যে জোনটি হয়েছে, সেখানে পার্টনারদের ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশনে সহায়তা করা। এর অংশ হিসেবে আমি এখন এই নয়টি দেশের পার্টনার ডেভেল্পমেন্ট অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছি। এই দেশগুলোতে মাইক্রোসফটের পার্টনারদের ব্যবসা উন্নয়নও মার্কেটিং পরামর্শ ও সহযোগিতা করাই আমার বর্তমান কাজ, যার অনেকটা ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে।

আপনারা জানেন যে, মাইক্রোসফট তার পার্টনারদের মার্কেটিং ফান্ড ডিস্ট্রিবিউট করে এবং এই ফান্ডগুলো দিয়ে আসলে আমাদের পার্টনাররা আমাদের কাস্টমারদেরকে বিভিন্ন ভাবে আমাদের প্রোডাক্ট সম্বন্ধে আপডেট করে। এতদিন যেটা ছিল পার্টনার তাদের মতো করে কাজ করতো। কিন্তু এখন যেহেতু আমরা ডিজিটাল রূপান্তরের দিকে যাচ্ছি সেহেতু ফোকাসটাও করছি ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের ওপর। আমরা আমাদের পার্টনারদেরকে বিভিন্ন টুলস দিচ্ছি, যেগুলোতে তারা তাদের সলিউশ্যনগুলো ডিজাইন করে রাখে এবং ডিজিটাল মার্কেটিং কনটেন্ট-এর মাধ্যমে দুনিয়ার সব দেশের ক্রেতাই এটা দেখতে পারে। এখন ব্রুনাই থেকে একটা কাস্টমার যদি বাংলাদেশের এই সলিউশ্যনটা কিনতে চায় তাহলে আর পার্টনারকে ব্রুনাই যেতে হবে না। সে ডিজিটাল টুলের মাধ্যমে সেই সলিউশ্যনটা গ্রহণ করতে পারবে, সলিউশ্যনটা সাবস্ক্রাইব করতে পারবে। তাই এই জিনিসগুলোকে একটি নির্দিষ্ট অবস্থায় আনতে হলে তাদের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে এবং ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে পারদর্শী হতে হবে। সেই জায়গাটাতে আমি এখন কাজ করছি। আপাতত আমি পার্টনারদের ক্যাপাসিটি বিল্ড করছি, তারা যেন বুঝতে পারে ডিজিটাল মার্কেটিং কিভাবে আমাদের পার্টনাদের গ্লোবালি পজিশন করতে পারবে। এজন্য আমরা সবার সহযোগিতা চাই এবং আমি সবার কাছে খুব কৃতজ্ঞ কারণ আমি বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে নয়টি দেশে একটা দায়িত্ব পেয়েছি যেটা মাইক্রোসফটের বাংলাদেশী কোনো কর্মীর জন্য গর্ভের।

আমরা সবসময়ই নতুন কিছু করার চেষ্টা করছি। যেমন ধরুন, আগে আমাদের প্রোডাক্টগুলো ব্যবহারকারীরা বক্স কিনে বা লাইসেন্স কিনে ব্যবহার করতো, একটা নির্দিষ্ট সময় পর আপগ্রেড হলে আবার নতুন ভার্সন কিনতে হতো। এখন আমরা সেটাকে মাসিক সাবস্ক্রাইব করার একটা সলিউশ্যন বের করেছি, কাস্টমাররা তাদের অফিস এবং উইন্ডোজ মাসিক সাবস্ক্রাইব করে কিনতে পারবে। যেমন মোবাইল বিল মাসিক সাবস্ক্রাইব আসে, ইন্টারনেট বিল মাসিক সাবস্ক্রাইব আসে, এটা যদি একজন কাস্টমারের কাছ থেকে এক বছরের মোবাইল বিল নিয়ে নিত, তাহলে তো তার কাছে খুব অসুবিধাজনক মনে হতো। জিনিসটা যেহেতু মাসিকভাবে চলে এসেছে তাই তাদের কাছে খুব অ্যাফোর্ডেবল মনে হচ্ছে। সেই অফারগুলোকে আমরা মাসিক নিয়ে এসেছি, সেটা হচ্ছে এক ধরনের সলিউশ্যন। সেই সলিউশ্যনগুলো আমাদের পার্টনাররা চাইলে বাইরেও সেল করতে পারবে। বাংলাদেশের কোনো পার্টনার চাইলেই যেকোনো কান্ট্রিতে সলিউ্যশনটা সেল করতে পারবে। এই সলিউশ্যনটা আসলে দুটো প্রোডাক্টের কম্বিনেশনে হয়। একটা হচ্ছে মাইক্রোসফটের এই সাবক্রিপশন বেসড প্রোডাক্ট এবং যে পার্টনার এটা সেল করে তার একটা নিজস্ব প্রোডাক্ট। যেমন একটা কোম্পানি আছে যারা তাদের নিজস্ব সফটওয়্যার তাদের ডকুমেন্ট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার এবং আমাদের অফিস সাবস্ক্রিপশনটা বান্ডেল করে একটা সলিউশ্যন আকারে মার্কেটে ছেড়েছে। অর্থাৎ আমাদের সলিউশ্যনের পাশাপাশি পার্টনারও তার একটি সলিউশ্যন যুক্ত করে এটাকে একটা কমবাইন্ড সলিউশ্যন হিসেবে মার্কেটে সেল করছে।

মাইক্রোসফট বাংলাদেশে প্রায় ১১ বছর ধরে আছে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে এখানে তাদের কার্যকারিতা রাখছে এবং সব ধরনের সরকারি বাধ্যবাধকতা পূরণ করছে। তার পাশাপাশি সিএসআরটা আমাদের প্রথম পজিশন কারণ আমরা জানি যে আমরা যদি সিএসআরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না পারি তাহলে প্রকৃত সফলতা আসবে না। আসল সফলতা হচ্ছে মানুষের ভালোবাসা ও গ্রহনযোগ্যতা পাওয়া। মাইক্রোসফট এত বছর ধরে এদেশে আছে এবং বিনিয়োগ করে হচ্ছে এই বিনিয়োগ আসলে এখানে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মিশে থাকার জন্যই, তাদেরকে বোঝার জন্যই এবং তাদেরকে সাহায্য করার জন্যই। ভালো ব্যবসা করাটা আমাদের প্রায়োরিটি নয়, আমাদের প্রায়োরিটি হচ্ছে ডিজিটাল রূপান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া -জনগণ এবং আমাদের অংশীদারদের জন্য। ভবিষ্যতেও আমরা এই জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতা নিয়েই থাকতে চাই।

ধন্যবাদ আপনাকে, ধন্যবাদ সিনিউজকে।

গোলাম দাস্তগীর তৌহিদ
Please Share This Post.