আবার আঘাত হানছে ভয়ঙ্কর ব্লু হোয়েল

ইন্টারনেটভিত্তিক মরণনেশার গেমে ‘ব্লু হোয়েল’ আবারও মৃত্যুর খবর বেরিয়েছে। এবার এই মরণফাঁদে পা দিয়েছে মিসরের সাবেক এমপি হামদি আল ফাখরানির ছেলে। সোমবার রাতে সে আত্মহত্যা করেছে।

এর আগে গত বছরের শেষের দিকে বাংলাদেশে ৬১ জন, ভারতে ১৩০ জন এবং রাশিয়াতে ১৮১ মারা যায় বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল। অক্টোবর মাসে ঢাকায় এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

দীর্ঘদিন এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য না পাওয়া গেলেও সোমবারের ঘটনায় বিষয়টি আবার আলোচনায় এসেছে। নতুন করে ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্লু হোয়েলের উদ্বাবক ফিলিপ বুদেকিনকে কারাদণ্ড দেয়া হলেও তার সৃষ্টি এখনো ইন্টারনেটে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে ধারণা করছে বিশেষজ্ঞরা।

সোমবার মিসরের এমপির ছেলের মরদেহ যে কক্ষে পাওয়া গেছে, সেখানে বিভিন্ন কাগজে হিজিবিজি হাতের লেখা ছিল। এ ছাড়া যেসব আলামত রেখে গেছে, তাতে প্রমাণিত হয়েছে, সে ব্লু হোয়েল খেলেই আত্মহননে গিয়েছে।

নিহতের বোন ইয়াসমিন আল ফাখরানি ফেসবুক পোস্টে বলেন, তার ভাই ব্লু হোয়েল গেম খেলে আত্মহত্যা করেছে। মৃত্যুর আগে এই ভয়ঙ্কর গেম খেলার বিভিন্ন আলামত রেখে গেছে।

তিনি বলেন, তার ভাই ধর্মচর্চা করত। কাজেই সহজেই তার আত্মহত্যার করার কথা নয়। সে এমন কোনো সমস্যার মধ্য দিয়ে যায়নি, যাতে তাকে মৃত্যুর পথ বেছে নিতে হবে।

ইয়াসমিন বলেন, পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে এমন- শিশুরা অল্পতেই ইন্টারনেটভিত্তিক এই ভয়ঙ্কর খেলায় ডুবে যেতে পারে। কারো স্বজন যাতে এমন ঘটনার শিকার না হন, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ইয়াসমিন জানান, তার ভাই যে হিজিবিজি হাতে লেখা রেখে গেছে, তাতে ৫০টি ধাপের কথা রয়েছে। গেমের সর্বশেষ নির্দেশনা হচ্ছে, সব কিছু গোপনীয় রাখতে হবে। আত্মহত্যার আগে সব কিছু মুছে ফেলতে হবে।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আলজেরিয়াসহ কয়েকটি আরব দেশের কিশোরদের এই মরণঘাতী খেলায় আসক্ত হয়ে পড়তে দেখা গেছে। তিউনিশিয়ার সরকার তাদের সন্তানদের ওপর কড়া নজর রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

২০১৩ সালে রাশিয়ায় এই গেম তৈরি হয়। রাশিয়ায় শুরু হলেও এই গেমের শিকার এখন এশিয়ার অনেক দেশ। সাধারণভাবে গোপন গ্রুপের মধ্যে অপারেট করা হয় এ গেম। এক্ষেত্রে ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপের মতো জনপ্রিয় স্যোশাল প্লাটফর্মকে কাজে লাগায় অ্যাডমিনরা।

২০১৬ সালে রাশিয়ায় ব্লু হোয়েল গেমের কিউরেটর সন্দেহে ফিলিপ বুদেকিন নামের ২২ বছরের এক তরুণকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জেরায় ফিলিপ স্বীকার করে, এই চ্যালেঞ্জের যারা শিকার তারা এই সমাজে বেঁচে থাকার যোগ্য নয়। তাদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে আমি সমাজ সংস্কারকের কাজ করছি।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/

Please Share This Post.