আপনার উইন্ডোজ পিসিতে ইনস্টল এসব ফ্রি অ্যাপস

আপনি সবেমাত্র নতুন একটি উইন্ডোজ পিসি কিনেছেন, বা একটি ডেস্কটপ তৈরি করিয়েছেন। নতুন কম্পিউটার পাবার মজাই আলাদা। জিনিসটাকে এক মুহূর্তের জন্যও চোখের আড়াল করতে মন চায় না। এখন যেটা দরকার তা হচ্ছে, কম্পিউটারটাতে মনের মত সব অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা। কোনগুলো করবেন সেটা নিয়েই চিন্তায় পড়েছেন? চিন্তার কারণ নেই। আসুন, এরকম কিছু প্রোগ্রামের কথা জানি যেগুলো সংগ্রহ করতে আপনার এক টাকাও খরচ হবে না, কিন্তু এগুলো আপনাকে সবসময়ই সাহায্য করবে। এসব প্রোগ্রাম নানা ধরনের কাজ করে, যা আপনার কাজের গুণমান যেমন বাড়াবে, তেমনি আপনাকে সাহায্য করবে নানা কাজে সফল হতে।

১। ব্রাউজার

উইন্ডোজ ১০-এ আছে এজ (Edge) যেটি চমৎকার একটি ব্রাউজার। বলতে কি, ভাল একটি ব্রাউজারের যেসব গুণাবলী থাকা উচিত তার সবই এতে আছে। তারপরও, সত্যিকারের নির্ভরযোগ্য ফ্রি ব্রাউজার বলতে আমরা কিন্তু গুগলের ক্রোম আর মজিলার ফায়ারফক্সকেই জিনি। এ মুহূর্তে ক্রোম বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। এটির একটি বড় গুণ এটি সম্প্রসারণযোগ্য বা এক্সটেনসিবল। সম্প্রতি অবশ্য ক্রোমের পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, গুগল এসব সমস্যা ঠিক করার জন্য কাজ করছে। ক্রোম আসলে অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি ভাল, বিভিন্ন ডিভাইসের মধ্যে সিনক্রোনাইজ করার ক্ষেত্রেও এর পারফরম্যান্স বেশ ভাল। এদিকে ফায়ারফক্সও কিš‘ বহুদিন ধরে নির্ভরযোগ্য ব্রাউজার হিসেবে বেশ নাম করেছে। শুরু থেকেই এটি কোনো না কোনো নতুন ফিচার যোগ করার মাধ্যমে এগিয়ে চলেছে। সত্যি বলতে কী, এটির আর ক্রোমের মধ্যে কাউকে ভাল আর কাউকে মন্দ বলার উপায় নেই। আপনি যদি এক্সপেরিমেন্ট করতে চান তাহলে অপেরাকে বেছে নিতে পারেন। ক্রোম-এর ইঞ্জিনের উপর ভিত্তি করে তৈরি এই অপেরা, যেটি নানা ফিচারের দিক দিয়ে খুবই ভাল। এদিকে নতুন আমদানি হিসেবে ভিভাল্ডি (Vivaldi)-ও বেশ ভাল করছে। এটির ইউজার ইন্টারফেস খুব একটা ভাল না হলেও এটি দারুণ রকমের কাস্টমাইজেবল এবং পাওয়ার ইউজারদের জন্য এর আছে বেশ কিছু গ্রহণযোগ্য ফিচার।

২। ক্লাউড স্টোরেজ

আপনার হাতিয়ারগুলোর মধ্যে ক্লাউড স্টোরেজ যদি না থাকে তাহলে কিন্তু আপনাকে বেশ বেকায়দায় পড়তে হবে। যে কোনো স্থান এবং যে কোনো ডিভাইস থেকে আপনার ডাটাতে অ্যাকসেস নেয়ার চাইতে ভাল আর কী হতে পারে, আর বিভিন্ন ডিভাইসে ডাটাকে সিনক্রোনাইজ করাও একটা দারুণ ব্যাপার। প্রয়োজনীয় তথ্য ব্যাক আপ করা এবং বিপদে পড়লে ব্যাক আপ করার চাইতে নিরাপদ আর কী হতে পারে। বর্তমানে ক্লাউডভিত্তিক ফ্রি স্টোরেজের ভুবনে বেশ চাঞ্চল্য এবং অনেকেই নতুন নতুন সেবা নিয়ে আসছেন। তবে এখনও সবচেয়ে বেশি মানুষ ড্রপবক্সকেই পছন্দ করেন। বর্তমানে অবশ্য গুগল ড্রাইভ একটি বড় বিকল্প হয়ে আবির্ভুত হয়েছে। একইরকম জনপ্রিয়তা লাভের পথে আছে মাইক্রোসফট-এর ওয়ানড্রাইভ। এটি কিন্তু উইন্ডোজ ১০-এ ইন্টিগ্রেট করা আছে। এই তিনটি প্রধান ক্লাউড স্টোরেজের যে কোনো একটির ওপর নির্ভর করা যেতে পারে।

৩। মেসেজিং

তথ্যই শক্তি, আর সঠিক সময়ে সঠিক তথ্যটি হাতের কাছে পাওয়ার চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে! ভিডিও কল করার জন্য আমাদের অনেকেরই এখনও পছন্দ স্কাইপ। আর মেসেজিং অ্যাপ-এর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় বোধ হয় হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুক মেসেঞ্জার। তবে কেবলমাত্র হোয়াটসঅ্যাপই আপনাকে দেবে একটি ডেস্কটপ অ্যাড যেটি পিসিতে কাজ করার সময় খুবই উপকারী বলে বিবেচিত হতে পারে। বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের সাথে যুক্ত থাকার চাইতে ভাল আর কী হতে পারে, কিন্তু আপনি যদি চান কোলাবরেশন বা ভাচুয়াল টিম গঠনের মাধ্যমে কাজ করবেন তাহলে আপনার দরকার হবে স্ল্যাক (Slack), স্পার্ক (Spark) বা হিপচ্যাট (ঐরঢ়পযধঃ)-এর মত প্রোগ্রাম। আর আপনার সব ধরনের কমিউনিকেশন সার্ভিসগুলোকে যদি একসাথে পেতে চান তাহলে আপনার লাগবে ফ্রাঞ্জ (http://www.techspot.com/downloads/6892-franz.html))। ট্রাই করে দেখুন।

৪। নিরাপত্তা

এ মুহূর্তে নিরাপত্তা এমন একটি বিষয় যেটি সবার দরকার। উইন্ডোজ ১০ অপারেটিং সিস্টেমে আছে নানা রকমের নিরাপত্তা সুবিধা। মাইক্রোসফট-এর বিল্ট-ইন টুলগুলো আর কমন সেন্স – এ দুটোকে মিলিয়ে কাজ করলে আপনারও খুব একটা সমস্যা হবে না নিরাপত্তার হুমকিগুলোকে সামলাতে। তবে আপনি যদি আরো বাড়তি কিছু পেতে জান তাহলে সুরক্ষার আরেকটি স্তর যুক্ত করতে পারেন এর সাথে, যেটি আপনার সিস্টেমের জন্য কোনো বোঝা বলে বিবেচিত হবে না। এটি হচ্ছে ম্যালওয়্যারবাইটস (Malwarebytes)। ম্যালওয়্যার এবং রুটকিট আক্রমণ ঠেকানোর জন্য এটি দীর্ঘদিন ধরে চমৎকান একটি প্রোগ্রাম বলে বিবেচিত হয়ে আসছে। এটি কাজ করে চমৎকার এবং ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে কোনো পয়সা লাগে না। এরকম আরেকটি টুল হচ্ছে ভাইরাসটোটাল.কম (Virustotal.com)। যে কোনো ডাউনলোড করা ফাইল ওপেন করার আগে স্ক্যান করে নেয়ার জন্য এটি বেশ নির্ভরযোগ্য সফটওয়্যার।

৫। গেমিং

ফ্রি গেমিং-এর জন্য আমরা বেছে নিতে পারি ফ্রি গেমিং প্লাটফর্ম স্টিম (Steam)। এটি তৈরি করেছে ভাল্ভ (Valve) নামে একটি প্রতিষ্ঠান। সব ধরনের পিসি গেমিংয়ের জন্য অসাধারণ একটি ওয়ান স্ট শপ হিসেবে ইতোমধ্যে প্রচুর খ্যাতি কুড়িয়েছে স্টিম। গেমিং কমিউনিকেশন-এর হাব বা কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও এটি চমৎকার। তবে মনে রাখতে হবে গেমের জগতের নামকরা কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি স্টিম থেকে এখনও অনুপস্থিত- যাদের মধ্যে আছে EA, Ubi এবং Blizzard। স্টিম-এ আছে Origin, Uplay এবং GOG Galaxy -র জন্য ডাউনলোড করার উপযোগী শর্টকাট।

৬। মাল্টিমিডিয়া

আপনার প্রিয় মুভি ও সিরিজগুলো মজা করে দেখার জন্য আছে ভিএলসি প্লেয়ার। এর ইকুয়ালাইজার, সহজসরল কন্ট্রোল সিস্টেম ইত্যাদির কারণে এটি বেশ নির্ভরযোগ্য হিসেবে নাম কামিয়েছে। কাজেই বলা যায়, পছন্দ হিসেবে ভিএলসি প্লেয়ার চমৎকার, তবে আপনি যদি ভিএলসি প্লেয়ার নিয়ে কোনো কারণে সন্তুষ্ট হতে না পারেন তাহলেও আছে আরো বিকল্প। যেমন ধরুন উইন্ডোজ ১০-এর বিল্ট-ইন প্লেয়ার, যেটি খুব ভাল কাজ করে এবং নানা ধরনের ফরম্যাট সাপোর্ট করে। ল্যাপটপে মুভি চালানোর ক্ষেত্রে এটি আপনার ব্যাটারি লাইফ সাশ্রয় করে, কাজেই এটিকে ভাল বলতেই হবে। সময়ে সময়ে পিসিকেও কিন্তু মুভি স্ট্রিম করা বা এইচটিপিসি-র হাব হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আপনি যদি সাধারণ একটি মাল্টিমিডিয়া প্লেয়ারের চাইতে বেশি কিছু চান যেটি স্ট্রিমিং-এর চেয়েও ভাল কিছু দেবে, তাহলে Plex এবং Kodi ব্যবহার করে দেখতে পারেন।

৭। প্রোডাক্টিভিটি

লেখালেখির কাজে অনেকেরই পছন্দ লিব্রাঅফিস (LibreOffice)। প্রথম দিকে মানুষ এর কদর তেমন একটা না করলেও বর্তমানে লিব্রাঅফিস-এর ফ্যান-এর সংখ্যা কিন্তু কম নয়। মাইক্রোসফট অফিস-এর কাছে আপনি যা যা চাইতে পারেন বলা যায় তার সবই এর মধ্যে আছে। এবং এজন্য কোনো পয়সাও খরচ করতে হয় না! তবে লিব্রাঅফিস একা নয়। এর মত আরো বেশ কিছু ফ্রি বিকল্পও আছে- আরো আছে গুগলডকস। নোট নেয়ার জন্য আছে ওয়ান নোট, যেটি মাইক্রোসফট বর্তমানে একটি ক্রস প্লাটফর্ম প্লাটফর্ম হিসেবে প্রদান করছে, যার সাথে আছে ক্লাউডের সংযোগ। আপনি যদি ভিজুয়াল কাজে বেশি সম্পৃক্ত থাকেন তাহলে সংগ্রহ করতে পারে মনোস্ন্যাপ (Monosnap)। এটি আপনাকে টীকা-টিপ্পনীসহ স্ক্রিনশট নিতে সাহায্য করবে। আমাদের সবারই ইমেজ এডিটিং টুল দরকার। এই কাজে উইন্ডোজ ১০ ব্যবহারকারীরা অ্যাডোবি-র ফটোশপ এক্সপ্রেস ব্যবহার করে দেখতে পারেন, যেটি দিয়ে বিনামূল্যে মৌলিক এডিটিং-এর কাজ করা যাবে। আর কোডার ও ডেভেলপারদের জন্য ঝঁনষরসব ঞবীঃ নামের ফ্রি টেক্সট এডিটর প্রোগ্রামটি একটি নির্ভরযোগ্য অ্যাপ।

বোনাস অ্যাপ…

যদি উপরের তালিকার সাথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাপ যুক্ত করতে চাই তাহলে বলতে হবে ফ্লাক্স (F.lux)-এর কথা। এই ছোট্ট অ্যাপটি দিনের বিভিন্ন সময়ের সাথে মিল রেখে আপনার কম্পিউটারের কালার স্কিমকে পরিবর্তন করে। যেমন ধরুন, রাতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রঙ আর দিনে রোদের সাথে মেলানো উজ্জ্বল রঙ। বিশেষ করে আপনি যদি রাতের বেলা কাজ করতে চান তাহলে ফ্লাক্স চমৎকার একটি আবহ তৈরি দেবে। আপনার ভাল লাগবে।

-সিনিউজভয়েস ডেক্স

 

Please Share This Post.