আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশ

ব্যাংকিং, আইডিন্টিটি ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন, ম্যানুফ্যাকচারিং প্রভেন্যান্স, পাবলিক রেজিস্ট্রি এবং অন্যান্য অনেক লেনদেনের ব্যবসায়কে উদ্ভাবনী প্রক্রিয়া এবং নতুন ব্যবসা দিগন্তের একটি সুদূরপ্রসারি মডেলের সুচনা করেছে ব্লকচেইন টেকনোলজি।

বাংলাদেশে ব্লকচেইন টেকনোলজির দ্রুত বিকাশ ও গ্রহণযোগ্যতা লাভের জন্য ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ (বিসিওএলবিডি) নামে একটি বিজনেস সল্যুশন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সরকার, একাডেমিয়া এবং শিল্পের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও নেতাদের সমন্বয়ে একটি ত্রিপক্ষীয় সাংগঠনিক কমিটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশের প্রথম ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছে। দেশের ব্লকচেইন টেকনোলজির প্রথম প্রতিযোগিতার সাংগঠনিক সহযোগী সংস্থা গুলো হল সরকারের আইসিটি বিভাগ এবং এলআইসিটি প্রকল্প, হংকংয়ের আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড এবং টেকনোভেন কোম্পানি লিমিটেড। অন্যান্য সহযোগীরা হচ্ছে এফবিসিসিআই, বেসিস, ও আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী, জুনায়েদ আহমেদ পলক, এমপি, জাতীয় অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরী, বিশিষ্ট লেখক, অধ্যাপক জাফর ইকবাল এবং এফবিসিসিআই সভাপতি, শেখ ফজলে ফাহিমকে উপদেষ্টা হিসাবে পেয়ে বিসিওএলবিডি সম্মানিত । এমআইটি প্রফেসর অ্যালান এডেলম্যান, হংকং ব্লকচেইন সোসাইটির সভাপতি ডঃ লরেন্স মা এবং ম্যাক্কিনজি অ্যান্ড কোংয়ের সিনিয়র নলেজ এক্সপার্ট, সাম সামদানি, পিএইচডিকে আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা হিসেবে পাওয়ার সৌভাগ্যও আমাদের হয়েছে।  বিগত মার্চ মাস থেকে দেশে করোনা ভাইরাস মহামারীর হুমকির মদ্ধেও  আয়োজক কমিটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বিসিওএলবিডি প্রতিযোগিতাটির আয়োজন চালিয়ে নিতে সক্ষম হয়। ২০-২১শে মার্চ বিসিওএলবিডি ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর একটি দুই দিনের অনলাইন কর্মশালা (ওয়েবিনার) আয়োজন করেছিল যাতে ৪৫০ টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সাম্প্রতিক স্নাতকদের উপস্থিত ছিল। এটি ছিল দেশের ব্লকচেইনের বৃহত্তম একটি ওয়েবিনার যা হংকং ব্লকচেইন সোসাইটির শীর্ষস্থানীয় ব্লকচেইন বিশেষজ্ঞ দ্বারা পরিচালিত হয়।

আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক অনলাইনেই এই কর্মশালার উদ্বোধন করেন এবং এতে অংশগ্রহণকারীদের সম্বোধন জানান। বিসিওএলবিডির অংশগ্রহণকারীরা ১৪ এপ্রিলের সময়সীমার মধ্যে ৬৩ টি ব্লকচেইনের প্রকল্প জমা দিয়েছে যা এই ব্লকচেইন প্রতিযোগিতাটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম প্রতিযোগিতায় পরিণত করে।  সরকার, একাডেমিয়া এবং শিল্পের শীর্ষস্থানীয় ৫৫ জন নেতা-কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে জুরি বোর্ড এই প্রকল্পগুলির রায় দিচ্ছে।

প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের নাম আগামী ৩০ এপ্রিলের পরে ঘোষণা করা হবে। প্রতিযোগিতায় পুরস্কারপ্রাপ্তদের নগদ পুরষ্কার প্রদানের পাশাপাশি চলতি বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিতব্ব আন্তর্জাতিক ব্লকচেইন অলিম্পিয়াডে অংশ নেওয়ার জন্য স্পনসরও করা হবে।

ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ ২০২০ এর উপদেষ্টা, আয়োজক কমিটি এবং জুরিদের সম্পর্কে আরো বিস্তারিত তথ্যের জন্য ভিজিট করুন bcolbd.org। আয়োজকরা বিশ্বাস করেন যে দেশের এত বড়সংখ্যক উদ্যোগী শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশটির তরুণ প্রতিভাবানদেরকে ব্লকচেইনে দারুণভাবে উৎসাহিত করবে।

আয়োজক এবং জুরিদের নিবেদিত মেন্টরিং এর মাধ্যমে খুব শীঘ্রই এই ব্লকচেইন এর আন্তর্জাতিক ইভেন্ট থেকে দেশের জন্য জয়মালা নিয়ে আসবে।  বিসিওএলবিডি তরুণ পেশাজীবিদের মধ্যে ব্লকচেইন টেকনলজির প্রতি আগ্রহ জন্মাতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হব। ব্লকচেইন পেশাজীবিদের অভাব যা বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ৫০০,০০০ এরও বেশি, সেই ঘাটতি পূরণে ভুমিকা রাখবে। আগামী দশ বছরে এই সংখ্যাটি কয়েক মিলিয়ন ছাড়িয়ে যেতে পারে। ব্লকচেইন ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটাবে যেভাবে ইন্টারনেট যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

ব্লকচেইন অলিম্পিয়াড বাংলাদেশ এই নতুন টেকনোলজির বিপ্লবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

-সিনিউজভয়েষ/জিডিটি/২০এপি./২০

 

Please Share This Post.