আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে জার্মান বিনিয়োগ পেল ওয়ালটন

বাংলাদেশ জয় করে এখন ওয়ালটনের টার্গেট বিশ্ববাজার। আর ওই বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণে ওয়ালটন নিচ্ছে বেশকিছু সাহসী পদক্ষেপ। আন্তর্জাতিক পরিসরে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে ওয়ালটনের প্রয়োজন বিশাল বিনিয়োগ। এ অবস্থায় বিশ্বের দ্রুত অসরসরমান ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হিসেবে ওয়ালটনের পাশে দাঁড়াচ্ছে জার্মান বিনিয়োগ এবং উন্নয়ন সংস্থা (ডিইজি)। নতুন করে ওয়ালটনে ২০ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করছে ডিইজি। এ অর্থ ওয়ালটনের কারখানার সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন, গবেষণা ও মানউন্নয়নে ব্যয় করা হবে।

ওয়ালটনের ব্র্যান্ড ইমেজ এবং দ্রুত অগ্রসর হওয়ার কারণে তাদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে ডিইজি। তৃতীয়বারের মতো তারা বিনিয়োগ করছে ওয়ালটনে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ওয়ালটনের বিভিন্ন প্রকল্পে দুই দফায় আরো ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২৩ মিলিয়ন ইউরো বিনিয়োগ করেছিলো।

সংশ্লিষ্টদের মতে, জার্মান এ বিনিয়োগ বাংলাদেশের বেসরকারি শিল্পখাতকে সমৃদ্ধ করবে। এর ফলে দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদন শিল্প এবং এসব পণ্যের বিশ্বব্যাপী বাজারজাতকরণ কার্যক্রম গতিশীল হবে। যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ উপলক্ষ্যে সম্প্রতি জার্মানির ফেডারেল মিনিস্ট্রি ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এর হেড অব ডিভিশন (কেএফডব্লিউ অ্যান্ড ডিইজি) লারস নিডার বাংলাদেশ সফর করেছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জার্মানির রাষ্ট্রীয় মালিকাধীন উন্নয়ন ব্যাংক কেএফডব্লিউ-ডিইজি’র ঢাকা কার্যালয়ের ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজার ফাইয়াজ হোসেন।

গত ৫ ডিসেম্বর গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন কারখানা পরিদর্শনকালে তাদের স্বাগত জানান ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম আশরাফুল আলম। সেসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের সিএফও আবুল বাশার হাওলাদার, রেফ্রিজারেটর বিভাগের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গোলাম মুর্শেদ, টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার ইতসুরু সুজুকি, চিফ টেকনিক্যাল অফিসার ইয়োন মং ইয়াং, গ্লোবাল আরএন্ডডি প্রধান তাপস কুমার মজুমদার, চিফ কোঅর্ডিনেটর আলমগীর আলম সরকার, ডেপুটি চিফ কোঅর্ডিনেটর ইউসুফ আলী প্রমূখ।

জার্মান প্রতিনিধিদলটি ওয়ালটন কারখানায় বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। সে সময় ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার ভূয়সী প্রশংসা করেন তারা।

লারস নিডার বলেন, ওয়ালটন কারখানা দেখে আমি মুগ্ধ। গত এক দশকে ওয়ালটন যা করেছে তা অবিশ্বাস্য। রকেটের গতিতে তাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটা সত্যিই বিস্ময়কর। অন্যদের জন্য ওয়ালটন সফলতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। সব ধরনের যন্ত্রাংশ তারা নিজেরাই উৎপাদন করছে। কাঁচামাল তৈরি থেকে শুরু করে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পণ্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায় উচ্চমান নিশ্চিত করা হচ্ছে।

ওয়ালটনের আন্তর্জাতিক বিপণন বিভাগের প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড কিম বলেন, বর্তমানে বিশ্বের ৩৫টিরও বেশি দেশে ওয়ালটন পণ্য রপ্তানি হচ্ছে। বর্হিবিশ্বে ওয়ালটন ব্র্যান্ডের বিজনেস ভলিউম বাড়াতে জোরোসোরে কাজ চলছে। ওয়ালটন পণ্যের ডিজাইন, উৎপাদন এবং বিশ্বব্যাপী বিপণন নিয়ে কাজ করছেন ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়াসহ দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা। উৎপাদন প্রক্রিয়া, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরএনডি), মান নিয়ন্ত্রণ বা কোয়ালিটি কন্ট্রোলসহ বিভিন্ন বিভাগে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মেশিনারিজ ও যন্ত্রপাতি।

তিনি জানান, পণ্য রপ্তানিতে ওয়ালটন সিই, সিবি, আরওএইচএস, আরইএসিএইচ, ইএমসি, ইইউ, ইউএসএ ইত্যাদি আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড এবং কোয়ালিটি সার্টিফিকেট পেয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ওয়ালটন এবং জার্মানির যৌথ উদ্যোগ দেশের রপ্তানি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এর ফলে এ খাতে রপ্তানি আয় যেমন বাড়বে, তেমনি শিল্পোন্নত দেশ হিসেবে বহিঃবির্শ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলতর হবে। ব্র্যান্ডিং হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/১৫ডিসে./১৯

Please Share This Post.