আনচার্টেড ফোর: এ থিফ’স এন্ড

আনচার্টেড ফোর সিরিজের গেমগুলো এরই মধ্যে গেমারদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। ফলে এই সিরিজের নতুন গেম ‘এ থিফস এন্ড’ বাজারে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই এই গেমের ভক্তরা নড়েচড়ে বসেছিলেন। গেমটি খেলার পর আনচার্টেড ফোর সিরিজ নিয়ে তাদের উৎসাহ একবিন্দুও না কমে বরং বেড়েছে। কারণ সিরিজের মান রাখতে পেরেছে এই গেমটিও। শুধু তাই নয়, এই গেমটিই সিরিজের সেরা কিনা এ নিয়ে জম্পেশ আলোচনা শুরু হয়ে গেছে।

click june 2016
নটি ডগ নামে একটি গেম নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তৈরি এই সিরিজের আগের আনচার্টেড ফোর গেমগুলোতে আমাজন রেইনফরেস্ট থেকে শুরু করে হিমালয় পর্বত পর্যন্ত নানা জায়গায় অভিযান চালানো হয়েছে। ‘এ থিফস এন্ড’ গেমের শুরুতে দেখা যায়, গেমের মূল চরিত্র নাথান ড্রেইক তার স্ত্রী ফ্রিল্যান্ড সাংবাদিক এলেনা ফিশারের সাথে নিউ অরলিয়েন্স শহরে নিরিবিলি জীবনযাপন করছে। ভিডিও গেম খেলা ছাড়া বলতে গেলে আর কিছুই তারা করছে না। কিন্তু দ্রুতই পরিস্থিতি বদলে যায়। দৃশ্যপটে আবির্ভুত হয় নাথানের বড় ভাই স্যাম, যে পনের বছর আগেই মারা গেছে বলে সবাই জানে। সে নাথানের কাছে সাহায্য চায় কিছু অপরাধীর কাছে তার যে ঋণ আছে তা শোধ করার জন্য। ভাইকে সে উৎসাহ জোগায় হেনরি আভেরি নামে এক ইতিহাসখ্যাত এই জলদস্যুর লুকানো গুপ্তধন উদ্ধারে। আর এখানেই শুরু হয়ে যায় নাথানের নতুন অভিযান।

click june 20168
আগের গেমগুলোর মত এটিরও মূলে আছে থার্ড পারসন কমব্যাট, পাহাড়ে চড়ার মত কষ্টসাধ্য কাজ এবং ধাঁধাঁর সমাধান। তবে এই গেমের নতুন একটি সংযুুক্তি হচ্ছে, শত্রুর অগোচরে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যুহের মধ্যে ঢুকে পড়া, কিন্তু তাদের কোনো ক্ষতি না করেই আবার বেরিয়ে আসা। এই গেমের শক্তিশালী দিক হল, এর ন্যারেটিভের সাথে মিল রেখে অবিরাম অ্যাকশন, যা গেমের মসৃণ গতিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না। সব মিলিয়ে এই গেম গেমারের মনে বিশ্বাসযোগ্যতার একটি অনুভূতি সৃষ্টি করে, যে কারণে গেমের গল্পের সাথে তিনি একাত্ম হয়ে যান। এই গেমের আরেকটি শক্তিশালী দিক হল, চমকে দেবার ক্ষমতা।

 

click june 20164

যে কোনো মুহূর্তেই নতুন কোনো চমক এসে হাজির হয়ে যেতে পারে, যা গেমের উপভোগ্যতায় নিঃসন্দেহে নতুন একটি মাত্রা যুক্ত করেছে। গেমটির লেভেল ডিজাইনে খোলোমেলা একটি স্টাইল গ্রহণ করা হয়েছে। মাঝেমাঝেই চোখে পড়বে ছোট আকারের স্যান্ডবক্স, যেগুলো ব্যবহার করে টাওয়ারে ওঠা, লেআউট মুখস্থ করা, শত্রুর অবস্থান চিহ্নিত করা এবং কীভাবে তাদের সাথে যুদ্ধ করা হবে সে কৌশল গ্রহণ করার মত কাজ করা যাবে। নানা জায়গায় শত্রুর সাথে মরণপণ যুদ্ধে লিপ্ত হতে হয়। এসব পরিস্থিতিতে প্রান নিয়ে পালাবেন নাকি শত্রুর মুখোমুখি হয়ে তাকে পরাস্ত করবেন, এসব সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেকেন্ডের ভগ্নাংশের মধ্যে। ব্যস্ত শহরের মধ্যে শত্রুর পিছু ধাওয়া, স্কটল্যান্ডের পাহাড় চূড়ায় আরোহন কিংবা নেমে আসা, মাদাগাস্কারের সমুদ্র সৈকতে কাদামাটির মধ্যে গড়াগড়ি করে শত্রুর মোকাবেলা করা – ইত্যাদি নানা রোমহর্ষক পরিস্থিতিতে নিজের সাধ্যের চূড়ায় পৌঁছে যেতে হবে। আর এসব কারণেই এই গেম এত দ্রুত জনপ্রিয়তারও শীর্ষে পৌঁছে গেছে।

সিনিউজভয়েস/ডেক্স