আধুনিক শিক্ষায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ

একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রয়োজন যুগোপযোগী ও আধুনিক মানসম্পন্ন শিক্ষা। অথচ ঢাকা মহানগরীতে চাহিদার তুলনায় মানসম্পন্ন আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা অপর্যাপ্ত এবং সেগুলোতে আসনসংখ্যাও সীমিত। ফলে ঢাকা মহানগরীর এবং বাংলাদেশের মফস্বল শহর ও গ্রাম থেকে আসা ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীরা ঢাকা মহানগরীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি হতে না পেরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। এরকম একটা প্রতিকূল বাস্তবতাকে সামনে রেখে এবং মানসম্পন্ন শিক্ষার ব্যাপক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ২০০৩-২০০৪ শিক্ষাবর্ষে রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্র ধানমন্ডির কোলাহলমুক্ত পরিবেশে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

এর প্রতিষ্ঠাতা ডেফোডিল গ্রুপের কর্ণধার, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবী মো. সবুর খান। কলেজটি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত (ইআইআইএন: ১৩৪৫৬৪, কলেজ কোড: ১০৬৫)। এখানে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি (বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা) চালু আছে। উল্লেখ্যযোগ্য যে, এখানে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ইংরেজি, বিবিএ, সিএসই, ফিন্যান্স ও মার্কেটিংয়ে অনার্স কোর্স চালু হতে যাচ্ছে।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: ১. অভিজ্ঞ ও মেধাবী শিক্ষকম-লী দ্বারা মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা। ২. নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন যোগ্য নাগরিক সৃষ্টি। ৩. শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীল গুণাবলির বিকাশ ঘটানো। ৪. প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে দেশে ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য উপযুক্ত করে গড়ে তোলা। ৫. কলেজটিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা।

বৈশিষ্ট্য: ১. ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি অনুযায়ী বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে শিক্ষা। ২. নিয়মিত অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা ও মূল্যায়নের ব্যবস্থা। ৩. নিয়মিত Guide Teacher-এর তত্ত্বাবধান। ৪. আবশ্যিকভাবে কম্পিউটার শিক্ষার ব্যবস্থা। ৫. অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সুবিধা। ৬. রাজনীতি ও ধূমপানমুক্ত পরিবেশ।

সুবিধাদি: ১. নিজস্ব সুপ্রশস্ত কলেজভবন ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শ্রেণিকক্ষ। ২. কলেজের অবস্থান অনুযায়ী উন্নত যোগাযোগ সুবিধা। ৩. A+ প্রাপ্তদের জন্য বিশেষ সুবিধা। ৪. উন্নতমানের ল্যাব, লাইব্রেরি ও ইন্টারনেট সুবিধা। ৫. ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য হোস্টেলের সুবন্দোবস্ত। ৬. HSC-তে মান উন্নয়নসহ শতভাগ পাসের সুযোগ। ৭. ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ (ডিআইসি) থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ ছাত্র/ছাত্রীদের ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)-তে ভর্তির ক্ষেত্রে ২০% থেকে ১০০% পর্যন্ত বৃত্তি। ৮. অনার্সসহ উচ্চশিক্ষার সুযোগ।

নিয়ম-কানুন: শিক্ষাবর্ষ তিনটি টার্ম/পর্বে বিভক্ত। একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণিতে প্রমোশন পেতে হলে ৭৫% ক্লাসে উপস্থিত থাকতে হবে। তাছাড়া কলেজে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় নির্ধারিত গ্রেড পয়েন্ট (বিজ্ঞান শাখায় জিপিএ ৩ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় জিপিএ ২.৫) না পেলে এবং শ্রেণি-উপস্থিতি সন্তোষজনক না থাকলে বোর্ড পরীক্ষার অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া হয় না। ইউনিফর্ম ও আইডি কার্ডসহ কলেজে আসা আবশ্যিক। কলেজ ক্যাম্পাসে ধূমপান ও রাজনৈতিক কার্যকলাপ সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

আমাদের সফলতা: বোর্ড পরীক্ষায় পাসের হার জিপিএ-৫ সহ শতভাগ । কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা দেশের স্বনামধন্য সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, কেউ কেউ বিদেশেও উচ্চশিক্ষা নিচ্ছে। এটা আমাদের জন্য কৃতিত্ব ও গৌরবের বিষয়। সম্প্রতি প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

ভর্তি ফরম বিতরণ ও ভর্তি: মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী ভর্তি-কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ভর্তিচ্ছুদের সহয়তার জন্য কলেজ অফিসে হেল্পডেস্ক খোলা হয় এবং বিনামূল্যে অনলাইনে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। উল্লেখ থাকে যে, ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদেরকে আবেদন ফরম পূরণসহ এসএসসি/সমমান পরীক্ষা পাসের মূল প্রশংসাপত্র, মূল মার্কশিট এবং চার কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি কলেজ অফিসে জমা দিতে হয়। একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান শাখায় এসএসসি/সমমানের পরীক্ষায় কমপক্ষে জিপিএ ৩.৫ ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় কমপক্ষে জিপিএ ৩.০০ প্রাপ্তরা আবেদন করার সুযোগ পায়। শুক্রবার কলেজ অফিস খোলা থাকে।

যোগাযোগ: ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। ৩/৩ ব্লক-এ, লালমাটিয়া (ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুলের পশ্চিম পাশে), ঢাকা-১২০৭, ফোন: ৯১২৬১৯৮, ০১৭১৩৪৯৩২২৭, ০১৮৪৭০২৭৫৪২-৪৫।

 

– সিনিউজভয়েস ডেস্ক

Please Share This Post.