আজ শেষ হচ্ছে নারীদের জন্য গার্লস ইনোভেশন বুটক্যাম্প

উদ্ভাবনের সাথে তথ্য প্রযুক্তির সংযুক্তি ঘটিয়ে বিশ্বের কর্মবাজারে প্রবেশ করছে বর্তমান তরুণ সমাজ। তৈরী হচ্ছে অসংখ্য উদ্যোক্তা। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে উদ্যোক্তা হবার পথে হাটছেন অনেক বাংলাদেশী তরুণ। নারীরাও পিছিয়ে নেই।

তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের নারীদের সংযুক্তি বাড়াতে নিজেদের উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে একজন নারী নিজেই হয়ে উঠতে পারেন একটি সংগঠন – এই উদ্ভাবনী পথের প্রতি ধাপের সাথে পরিচিত করাতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে নারীদের জন্য তিনদিন ব্যাপী আবাসিক বুটক্যাম্প। “গার্লস ইনোভেশন বুটক্যাম্প” শীর্ষক এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীরা যারা নিজেদের উদ্ভাবনী ধারণাকে একটি বাণিজ্যিক বা সামাজিক উদ্যোগে পরিণত করতে চান। ২৮ নভেম্বর শুরু হয়ে এই ক্যাম্প চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।

সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বুটক্যাম্পে যোগ দিতে আসেন শিক্ষার্থীরা। একটি আবাসিক ডরমেটরি তে দিনভর চলতে থাকে নানা সেশন। দিনের প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের সাথে সেশনে অংশ নেন বিডি ভেঞ্চার এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর শওকত হোসেন এবং প্রথম আলোর দৈনিক প্রথম আলোর যুব কর্মসূচীর প্রধান এবং বিডিওএসএন এর সাধারন সম্পাদক মুনির হাসান।

প্রত্যেক অংশগ্রহণকারির মাঝে পরিচয়পর্ব এবং তাদের আইডিয়া নিয়ে কথা বলেন তাঁরা। এছাড়াও তথ্য-প্রযুক্তি ভিত্তিক উদ্যোগ এবং ব্যাবসায় নারীরা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় তার একটি সম্যক ধারণা দিতে ক্যাম্পে উপস্থিত হন স্টার কম্পিউটার সিস্টেমস লিমিটেড এর ডিরেক্টর এন্ড চিফ অপারেটিং অফিসার রেজওয়ানা খান। এছাড়াও “বিল্ডিং ইয়োর হাই পার্ফরমেন্স টিম” শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত হন গিগা টেক এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সামিরা জুবেরি হিমিকা। এছাড়াও বিভিন্ন সেশনের ফাঁকে খেলার মাধ্যমে অংশগ্রহনকারীদের বিনোদনের মাধ্যমে ক্যাম্প পরিচালনা কর হয়।

এই ক্যাম্পে সকল অংশগ্রহণকারীর আইডিয়া থেকে ভ্যালিডেশন সেশনের মাধ্যমে সবার আইডিয়া থেকে বিভিন্ন বিবেচনায় ৭-১০টি আইডিয়াকে নির্বাচিত করা হবে যা নিয়ে সম সংখ্যক দল কাজ করবে। ক্যাম্পের প্রথম দিন প্রত্যেকেই দলে বিভক্ত হয়ে দলীয় কাজে অংশ নি্যেছে। এই প্রতিকী আইডিয়ার মাধ্যমে একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগের বিষয়াদি জানা হয়ে যাবে সকলের। আইডিয়া ভ্যালিডেশনর পর দুইভাবে কাজ হবে। দলীয়ভাবে নিজেদের আইডিয়াকে একটি স্টার্টআপের দিকে নিয়ে যাওয়া এবং পাশাপাশি একটি স্টার্টআপ গড়ে ওঠার ধাপ সমূহ সম্পর্কে প্রয়োজনীয় ধারণা লাভ। ক্যাম্পের বিভিন্ন সময়ে হাজির হবেন সফল উদ্যোক্তারা যারা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন।  তৃতীয় দিন শেষে দলীয় প্রেজেন্টেশন থাকবে।

দেশের উত্তর প্রান্তের শহর রংপুর থেকে আগত উম্মে কুলসুম পপি বলেন, সারা রাত জার্নি করে এসেও বুটক্যাম্পের প্রত্যেক সেশন এবং বিভিন্ন কার্যক্রম এতো বেশী মনোযোগ ধরে রেখেছিল যে ক্লান্তি একটুও পেয়ে বসতে পারেনি। রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অন্বেষা চাকমা জানান, বুটক্যাম্পে আসার একমাত্র কারণ নিজের উদ্যোগকে আরও বেশী সাংগঠনিক করার খুঁটিনাটি জানা। এছাড়াও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইজা ফিরোজ বলেন, তথ্য প্রযুক্তির সাথে আমার নিজের উদ্যোগকে কিভাবে সমন্বয় করলে আমি সবচেয়ে বেশী ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারব সে সম্পর্কে জানতে এই বুটক্যাম্পে আসা।

উল্ল্যেখ্য, বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের তিন বছর মেয়াদি ‘এনাবিলিং সাসটেনএবল ডেভেলপমেন্ট গোলস ফর বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত হচ্ছে এই ক্যাম্প। আয়োজনটির সাথে রয়েছে ইন্টারনেট সোসাইটি-বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, স্টার্ট আপ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ ওমেন ইন টেকনোলজি।

 

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/৩০নভে./১৯

Please Share This Post.