‘আইসিটি খাতের ৫ বিলিয়ন রপ্তানীর লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করতে চাই’

তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) নির্বাহী কমিটির ২০১৮-২০ মেয়াদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ। এই নির্বাচনে ‘টিম হরাইজন’ প্যানেলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ড্রিম৭১ বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশাদ কবির। উল্লেখ্য, তিনি এই নির্বাচনে সর্বকনিষ্ঠতম প্রার্থী।
৯টি দেশে এখন সফটওয়্যার রপ্তানি করছে তার প্রতিষ্ঠান ড্রিম৭১। জাপানেও রয়েছে ড্রিম৭১ এর অফিস। মালদ্বীপের প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী থোরিক আলী লুতফির সাথে মালদ্বীপেও শুরু করেছেন ড্রিম৭১ এর কার্যক্রম । পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েই চার বছর আগে রাশাদ কবির জীবনের যাত্রা শুরু করেন আইটি ব্যবসায়ী হিসেবে। পড়েছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে।
ব্যবসার পাশাপাশি গত চার বছর ধরে সরকার, বেসিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আয়োজিত তথ্যপ্রযুক্তি আয়োজনের সঙ্গে জড়িত রাশাদ কবির। কাজ করেছেন বেসিসের বিভিন্ন অর্গানাইজিং কমিটিতেও। তার রয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করার অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে দেশের আইটি শিল্পের উন্নয়ন করতে চান রাশাদ।
রাশাদ কবির তার ইশতেহারে আইসিটি খাতে ৫ বিলিয়ন রপ্তানীর যে লক্ষ্যমাত্রা তা অর্জনে ভূমিকা রাখার বিষয়ে জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‌‘আমরা এখন পর্যন্ত আমাদের টার্গেট মার্কেট বলতে শুধু ইউরোপ-আমেরিকাকেই ধরে রেখেছি । কিন্ত আফ্রিকা সহ মালদ্বীপ,আফগানস্থানে যে বিশাল মার্কেট পড়ে আছে, সেটাকে আমরা সবসময়ই গুরুত্ব না দিয়ে এসেছি । আমাদের এখন সময় এসেছে এই মার্কেটটাকে গুরুত্ব দেওয়া । আমরা এক্সপোর্ট বাড়ানোর জন্যে পুরো মার্কেটটাকে ‘ইস্টাব্লিষ্ট’, ‘এমার্জিং’ এবং ‘স্ট্রাটেজিক’ এই তিন ভাগে ভাগ করতে চাই এবং সেখানে প্রয়োজন লোকাল অফিস তৈরি করা । ছোট খাটো কাজ হয়তো অনলাইনে পাওয়া সম্ভব, কিন্ত বড় কাজ পেতে হলে অবশ্যই লোকাল অফিস থাকা প্রয়োজন । বাইরের দেশে লোকাল অফিস তৈরি করা একটি কোম্পানির পক্ষে সম্ভব না । কিন্ত ১০/১৫টি কোম্পানি মিলে যদি ইপিবি এবং আইসিটি ডিভিশনের সহায়তায় লোকাল অফিস তৈরি করা যায়, তাহলে এক সাথে যেমন অনেক কোম্পানি কাজ পাবে,তেমনি আমাদের রপ্তানিতেও সেটা নতুন মাত্রা যোগ করবে।’
দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে চান এই তরুণ আইটি ব্যবসায়ী। রাশাদ কবির বলেন, ‘আগের বছরগুলাতে আমরা অনেক ট্রেনিং প্রোগ্রাম দিয়েছি টেকনিক্যাল রিসোর্স তৈরির জন্য। কিন্তু আমরা আইটি মার্কেটিং/সেলস পার্সন তৈরির ব্যাপারটাকে কখনোই সেভাবে গুরুত্ব দেইনি । আমরা ভালো প্রোডাক্ট তৈরি করলাম, কিন্ত সেটা যদি বিক্রিই করতে না পারি, তাহলে প্রোডাক্ট বানিয়ে লাভ কি হবে! নির্বাচিত হলে টেকনিক্যাল রিসোর্স তৈরির পাশাপাশি দক্ষ আইটি  মার্কেটিং/সেলস রিসোর্স তৈরির দিকেও নজর দিতে হবে।’
তরুণদের নিয়ে কাজ করতে চান রাশাদ কবির। তিনি বলেন, ‘বয়সে যেহেতূ আমি তরুণ, বেসিসের তরুণ মেম্বারদের প্রত্যাশা অবশ্যই আমার কাছে অনেক বেশি থাকবে। আমার দেখা অনেক তরুণ আছে, যারা অসম্ভব মেধাবী এবং অনেক ইনোভেটিভ প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করছে, কিন্ত গাইডেন্সের অভাবে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারছে না। নতুন সদস্যদের নিয়ে একটা ইয়ুথ ফোরাম করতে চাই, যেখানে সবাই একসাথে বসে আলোচনা করবে , সেই সাথে আমাদের ইন্ড্রাস্টির যে সকল সিনিয়র সদস্য আছেন, তারা সেখানে এসে তরুণদের বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিবেন।’
টিম হরাইজন’ প্যানেল থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণ হিসেবে রাশাদ কবির বলেন, ‘এই প্যানেলে যে নয়জন আছেন তাদের মধ্যে তিনজন বর্তমান বেসিস নির্বাহী কমিটিতে রয়েছেন। তিনজন আগের বিভিন্ন কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। আর তিনজন একেবারে নতুন, যারা বয়সে তরুণও বটে। অর্থাৎ অভিজ্ঞতা যেমন এখানে স্থান পেয়েছে, একই সাথে নতুন নেতৃত্ব তৈরী করার ব্যপারেও তারা মনোযোগী হয়েছেন। সব মিলিয়ে মনে হয়েছে কাজ করার জন্যে চমৎকার একটি প্লাটফর্ম। তাই এই প্যানেলটিকেই বেছে নিয়েছি। আমাদের প্যানেলের নয়জনের প্রত্যেকে নিজেদের আলাদা খাতে খাতে বেশ অভিজ্ঞ। যে যেই বিষয়ে অভিজ্ঞ তিনি সে বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন। আর এই নয়জনের পুরো এজেন্ডাই টিম হরাইজনের ইশতেহার। আমরা ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে বড় হতে চাই।’
রাশাদ কবির আরও জানান, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে তার দক্ষতা বেশ ভালো। তার প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ আয়-ই আসে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে। বেশ আত্ববিশ্বাসী তরুণ এই আইটি ব্যবসায়ী প্রত্যয়ের সুরেই বললেন, আন্তর্জাতিক বাজারে আমার যে সাফল্য ও অভিজ্ঞতা তা ইন্ড্রাস্টিতে কাজে লাগিয়ে ছোট-বড় সব প্রতিষ্ঠানকে একসঙ্গে নিয়ে বেড়ে উঠতে চাই।’
সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/
Please Share This Post.