অবৈধ আমদানীকারকদের বিরুদ্ধে আইনী লড়াইয়ে স্যামসাংয়ের জয়

মোবাইল ও কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য (টিভি, মনিটর ইত্যাদি) অবৈধভাবে আমদানীকারকদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি রায় দিয়েছেন ঢাকা জেলা জজ আদালত। আদালত তার রায়ে সকল অবৈধ আমদানীকারকদের  স্যামসাং  ব্র্যান্ড পণ্যের আমদানী ও বিতরনসহ বাজারজাত করা এবং বিক্রয় করার উপর চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।

উল্লেখ্য, ১০ জন অবৈধ মোবাইল আমদানীকারক এবং ১১ জন অবৈধ কনজ্যুমার ইলেক্ট্রনিক্স পণ্য আমদানীকারকের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে স্যামসাং ইলেক্ট্রনিক্স কোং. লিমিটেড (দ: কোরিয়া) এবং স্যামসাং ইন্ডিয়া ইলেক্ট্রনিক্স লিমিটেড যৌথভাবে স্যামসাং বাংলাদেশ অফিসের মাধ্যমে ঢাকা জেলা জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন।

পণ্যের অবৈধ আমদানী এবং বিক্রয় দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর, আর এই কারণে এর অবৈধ আমদানী এবং বিক্রয় প্রচলিত আইন দ্বারা নিষিদ্ধ। যেমন, আমদানী নীতি আদেশ ২০১৫-১৮-এর ১৫ ধারা অনুযায়ী, নকল ট্রেডমার্কযুক্ত এবং মিথ্যা বাণিজ্যিক বর্ণনাযুক্ত পণ্য আমদানী নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, মোবাইলের মতো প্রযুক্তিপণ্যের অবৈধ আমদানী এবং বিক্রয় সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা ও জন-নিরাপত্তার সাথেও জড়িত। এই কারণে সম্প্রতি বিটিআরসি দেশের সকল মোবাইল ডিভাইস নিবন্ধনের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছে।

আমদানী নীতি আদেশ ২০১৫-১৮-এর ৬ ধারা অনুযায়ী, মেধাস্বত্ব সংক্রান্ত বাংলাদেশে প্রচলিত আইনে নিবন্ধিত ব্র্যান্ডের পণ্য সামগ্রী আমদানীর ক্ষেত্রে সংস্লিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যের স্বত্বাধিকারী কর্তৃক সত্যায়িত মেধাসত্ব সংক্রান্ত সনদপত্র পণ্য খালাসের সময় শুল্ক কর্তৃপক্ষের নিকট দাখিল করার বিষয়টি বাধ্যতামূলক। কিন্তু অবৈধ আমদানীকারকেরা আইনের প্রতি বৃদ্ধাক্সগুলি প্রদর্শন করে তাদের অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। প্রসঙ্গত, স্যামসাং (ঝঅগঝটঘএ) ট্রেডমার্ক ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত।

উল্লেখ্য, বর্তমানে প্রতি ১০০টি মোবাইলের ক্ষেত্রে প্রায় ৪০টি অবৈধভাবে আমদানীকৃত, টিভির ক্ষেত্রে এই সংখ্যা প্রতি ১০০টিতে প্রায় ২৫টি।

স্যামসাং বাংলাদেশ অফিসের হেড অব সাপ্লাই চেইন এবং ম্যানুফ্যাকচারিং অপারেশনস শফিকুল এম. ইসলাম বলেন, আমরা আদালতের এই যুগান্তকারী রায়কে স্বাগত জানাই। এর মাধ্যমে আইন মেনে যারা ব্যবসা করেন তারা উৎসাহিত হবেন, সরকার তার প্রাপ্য রাজস্ব পাবেন এবং ব্যবহারকারীগণ অসাধু আমদানীকারকদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পাবেন। এই রায়ের প্রেক্ষিতে আমরা আশা করছি, পণ্য চালান ছাড়ের ক্ষেত্রে শুল্ক কর্তৃপক্ষ আরো সজাগ হবেন এবং একই সঙ্গে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাসমূহ অবৈধ এই সকল ব্যবসায়িক কর্মকান্ড রোধে আরো তৎপর হবেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা সম্মানিত ক্রেতাসাধারণকে শুধুমাত্র অনুমোদিত শোরুম থেকে আসল স্যামসাং পণ্য কেনার জন্য অনুরোধ করে থাকি। অনুমোদনহীন বা অবৈধ পণ্য ক্রয়ে অরিজনাল স্যামসাং ওয়ারেন্টি/ গ্যারান্টি থাকে না এবং বিক্রয় পরবর্তী সেবা পাওয়া যায় না।

-সিনিউজভয়েস/জিডিটি/৭এপি/১৯

Please Share This Post.