অপারেটরগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও; ইন্টারনেটের দাম কমাচ্ছে আইএসপিএবি   

আজ ১৮ জুন, ২০১৮ ইং তারিখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ইন্টারনেট খাতে প্রচলিত মূল্য-সংযোজন-কর কাঠামোতে সংশোধন করে একটি প্রজ্ঞাপন (এস,আর,ও নং-২০৪-আইন/২০১৮/৮০৭-মূসক) জারী করে। সংশোধিত নিয়মে, ব্রডব্যান্ড ক্রয়ে ১৫% এর পরিবর্তে ৫% এবং চূড়ান্ত ইন্টারনেট সেবায় ১৫% এর পরিবর্তে ৫% মূল্য সংযোজন কর আরোপ করার বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু ইন্টারনেট ট্রান্সমিশন (এনটিটিএন) চার্জের ক্ষেত্রে পূর্বের ন্যায় ১৫% মূসকই বহাল রাখা হয়েছে। উল্লেখিত পরিবর্তনের ফলস্বরূপ, আইএসপি অপারেটরগণ পূর্বে ব্যান্ডউইথ ক্রয় এবং ট্রান্সমিশন চার্জে যে ১৫% হারে মূসক রেয়াত পেতেন, বিধি অনুযায়ী তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অকার্যকর হয়ে যায়।

গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্য নিয়ে সরকার কর্তৃক মূসকের হার হ্রাসের সিদ্ধান্ত কে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (আইএসপিএবি) স্বাগত জানায়। ইন্টারনেট খাতে মূল্য-সংযোজন-কর কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়ায় আইএসপিএবি’র সকল সদস্য প্রতিষ্ঠান এবং গ্রাহকদের পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। সংশোধিত মূসক বিধি জারি এবং এর প্রেক্ষিতে সরকারের ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশে সবার কাছে স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমাদের সকল সদস্য প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই কাজ শুরু করেছে।

তবে সংশোধিত মূসক বিধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য কমানোর ক্ষেত্রে আইএসপি অপারেটরগণ কিছু বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। মূলত ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিশন (এনটিটিএন) চার্জে পূর্বের ১৫ শতাংশ হারে মূসক বজায় থাকা এবং রেয়াতের বিধান অকার্যকর হয়ে যাওয়ার ফলে সার্ভিস প্রোভাইডারদের ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিশন ব্যয় পূর্বের তুলনায় না কমে বরং বৃদ্ধি পাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে সাধারণত, একজন আইএসপি অপারেটরের মোট পরিচলন ব্যয়ের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই ব্যয় হয় শুধুমাত্র ব্যান্ডউইথ ট্রান্সমিশনে। সুতরাং স্বাভাবিকভাবেই, ট্রান্সমিশন চার্জের এই বৃদ্ধির প্রভাবে মোট পরিচলন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাচ্ছে। এই একটিমাত্র কারণে, গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট এর মূল্য হ্রাস, এমনকি বর্তমান মূল্য বজায় রাখাও আইএসপি অপারেটরদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান অবস্থায়, শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতি স্বীকার করেই একজন আইএসপি অপারেটরের পক্ষে গ্রাহকদের পূর্বের চেয়ে কম মূল্যে বা পূর্বের সমান মূল্য ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা সম্ভব। ইত্যবসরে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে, আমরা এ বিষয়ে বোর্ডের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা কামনা করি। আমাদের উত্থাপিত যুক্তি, তথ্য ও উপাত্ত বিবেচনায় নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড যথা-শীঘ্র মূসক-বিধি পুনর্বিবেচনা করার আশ্বাস প্রদান করেন।

আইএসপিএবি মনে করে, স্বল্পমূল্যে সবার কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ার সরকারী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সমর্থন প্রদান করাই বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশী জরুরী। তাই আমরা সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী সংশোধিত হারে মূসক আরোপের মাধ্যমে তুলনামূলক কম মূল্যে গ্রাহকদের ইন্টারনেট সেবা প্রদান করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। এর ফলে ইন্টারনেট অপারেটরগণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলেও, আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল সবার কাছে পৌঁছে দিতে সরকারের অগ্রাধিকার কে প্রাধান্য দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি। আইএসপিএবি’র সকল সদস্য প্রতিষ্ঠানকে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করার অনুরোধ করা হল।

আমরা আশাবাদী, খুব শীঘ্রই আমাদের গ্রাহকগণ তাঁদের মাসিক ইন্টারনেট বিলে হ্রাস-কৃত হারে আরোপিত মূসকের সুফল লক্ষ্য করতে পারবেন। সেই সাথে আমরা আশা করছি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও যত দ্রুত সম্ভব, মূসক-বিধিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমে আইএসপিএবি’র এই জন-বান্ধব পদক্ষেপ চলমান রাখতে সহায়তা করবেন। আইএসপি এ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ অতীতের মতো ভবিষ্যতেও দেশের ইন্টারনেট খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত সকল পদক্ষেপে সম্ভাব্য সকল ধরণের সহযোগিতা প্রদান করে যেতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

-সিনিউজভয়েস ডেক্স
Please Share This Post.