অনলাইন শিক্ষাকে বাংলাদেশে যেভাবে বাস্তবে রূপ দিল ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি

আমাদের এ যুগে করোনা অতিমারী (কোভিড-১৯) একটি সুনির্দিষ্ট বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যার সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অদ্যাবধি আমরা যে সর্ববৃহৎ চ্যালেঞ্জটির মুখোমুখি হয়েছি তা এ করোনা অতিমারী। ২০১৯ সালের শেষদিকে এশিয়া মহাদেশে এর প্রাদুর্ভাব শুরু হলেও খুব দ্রæত এন্টার্কটিকা বাদে সবকটি মহাদেশে এ মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিনিয়তই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। প্রতিটি দেশই করোনা বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে, সামাজিক ও শারীরিক দূরত্ব মেনে চলতে বাধ্য করে, এমনকি ভ্রমনকে সীমাবদ্ধ করে, নাগরিকদের কোয়ারেন্টাইনে রাখে, এলাকা বিশেষে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়, ক্রীড়া ইভেন্ট, কনসার্ট, জনসমাবেশ এবং স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বৃহৎ সমাবেশ গুলি বাতিল করে।
বাংলাদেশের যে সেক্টরটি এখনও লকডাউনের মুখোমুখি তা হল সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থা। স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে আছে। বাংলাদেশে এবারের এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়াও সম্ভব হয়নি। শীতের শুরুতে বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ধাপ আঘাত হানতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ও এর বাইরে নয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের বিকল্প উপায় খুজঁছে সবাই। অনলাইন কার্যক্রমের গতির ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক বেড়ে গেছে। মানুষ এ ভয়াবহ পরিস্থিতিকে কাটিয়ে উঠতে প্রণান্তকর চেষ্টা করছে। তবে এতসব বাধাবিপত্তি এবং প্রতিবন্ধকতাকে পিছনে ফেলে সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক শিক্ষা কার্যক্রম সফলতার সাথে সম্পন্ন করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে যে প্রতিষ্ঠান তা কোন উন্নত দেশের নয় বরং উন্নয়নশীল আমাদের এই ডিজিটাল বাংলাদেশেরই ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ডিআইইউ)। সকল প্রকার শিক্ষা কার্যক্রমকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে ডিআইইউ যে শক্তিশালী টুলসটি ব্যবহার করছে তা হল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) এবং বেøন্ডেড লার্নিং সিস্টেম (বিএলসি)।
লক ডাউনের প্রথম দিন থেকেই ডিআইইউ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বিএলসি (মিশ্রিত শিক্ষণ কেন্দ্র) ব্যবহার শুরু করে। ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃত ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ক্লাস নেয়ার যথেষ্ট পূর্ব অভিজ্ঞতাও রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম মাহবুব উল হক মজুমদার বলেন, ৮ বছর আগেই ২০১৩ সাল থেকে হরতাল, অবরোধসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে ডিআইইউ সকল শিক্ষাকার্যক্রম বিএলসি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করে আসছে। পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় লক ডাউনের শুরু থেকেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনলাইন শিক্ষায় পারদর্শীতার প্রমাণ রেখে চলেছে এবং শিক্ষার্থীরাও প্রযুক্তির সাথে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। সকল প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনাও শিক্ষকদের জন্য শতভাগ সহজতর হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সম্পূর্ণ অটোমেশন এবং ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে ডিআইইউ বিএলসি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে ‘স্মার্ট এড’ু প্ল্যাটফর্ম সম্পৃক্ত করেছে যার মাধ্যমে প্রশাসনিক কার্যক্রমও পরিচালনা ও মনিটরিং করা হচ্ছে। ডিআইইউ’র এই ‘বিএলসি’ ডিজিাল টিচিং এবং লার্নিং এর হাব হিসেবে কাজ করছে। ‘বিএলসি’ প্লাট ফর্মের লক্ষ্য হচ্ছে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের কার্যকরভাবে সংযুক্ত রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অগ্রগতি ট্র্যাক করা ও স্বতন্ত্র মূল্যায়ন নিরীক্ষণ এবং তাদের শেখাকে সহজতর করতে অধিকতর সহযোগিতা প্রদান করা।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের পথিকৃৎ ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রসেস অটোমেশন এবং ডিজিটাল শিক্ষা দান এবং শেখার ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা অর্জন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সমস্ত কর্মপ্রক্রিয়া এবং কার্যক্রম ডিজিটাল অবকাঠামো, ওয়েব এপ্লিকেশন এবং সফট্ওয়্যার দ্বারা পরিচালিত হয়। একাডেমিক বিভাগগুলোও দ্রততম সময়ের মধ্যে বিএলসি প্লাটফর্মের টুলস্ গুলোকে রপ্ত করে নিয়ে নিজেদেরকে দক্ষভাবে প্রস্তুত করে নিয়েছে। ফলশ্রæতিতে কোভিড-১৯ অতিমারীকালেও ডিআইইউ বিএলসি প্লাটফর্ম ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলতার সাথেই অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের পরিষেবা দিচ্ছে যা বাংলাদেশে অভূতপূর্ব ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। সম্পূর্ণ অনলাইনে ক্লাস চালুর শুরুতে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত শিক্ষার্থীদের দুর্বল ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে কিছু সমস্যা থাকলেও বিএলসি প্লাটফর্মের স্বল্প মাত্রার নেটে ডেটা কার্যকারিতা নির্বিঘœ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খুব একটা বেশী বেগ পেতে হয়নি। তারপরও ডিআইইউ শিক্ষার্থীদের জন্য ‘গ্রামীন ফোন’ ও ‘রবি’র সাথে তুলনামূলকভাবে স্বল্পমূল্যের ডেটা প্যাকেজের চুক্তির মাধ্যমে এ সমস্যাটি কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়। বর্তমানে বিএলসি প্লাটফর্মে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২৯ হাজারের বেশী শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা একযোগে কাজ বরতে পারছে এবং শক্তিশালী ক্লাউড ভিক্তিক অবকাঠামো ব্যবহার করে প্রায় চার হাজারের বেশী কোর্স পরিচালনা করছে।
বিএলসি একটি সুগঠিত ও শক্তিশালী ই-লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম এবং কোর্স তৈরী, গঠন, যোগাযোগ ও পরিচালনা করার ওয়ান স্টপ সমাধান। অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী প্লাগ ইনস্ এবং ইন্টিগ্রেশন এর সমন্বয়ে গঠিত এই বিএলসি প্লাটফর্ম শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবহার ও পরিচালনা করা খুব সহজ। প্লাটফর্মটিতে একটি ‘ড্র্যাগ এন্ড ড্রপ’ কোর্স বিল্ডার রয়েছে যা শিক্ষকদের সহজেই কোর্স প্রকাশ করতে সহায়তা করে। কোর্স উপকরণ, নতুন পাঠ্য ভিডিও, অডিও, পাওয়ারপয়েন্ট, ড্রাইভ রিসোর্স, ডেস্কটপ থেকে যেকোনও ফাইল এমনকি ইন্টারেক্টিভ সামগ্রী অন্তভ‚ক্ত করা বা তৈরী করা (লিংন্ক বা এম্বেড) সুবিধাজনক। প্লাটফর্মটিতে শতাধিক প্লাগ ইন এবং ইন্টিগ্রেশনসহ ২৫টিরও বেশী ইনবিল্ট বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শিক্ষকদের তাদের শিক্ষার্থীদের একাধিক এবং নমনীয় উপায়ে যুক্ত করার সম্ভাবনাগুলি প্রসারিত করে।
কুইজ, অ্যাসাইনমেন্ট, ফোরাম এবং অনলাইন ওয়ার্কশপগুলি শিক্ষার্থীদের কৌতূহলকে উৎসাহিত করে এবং আরও কোর্সে অংশ নিতে বাধ্য করে। এটি একটি সর্বাধিক উন্নত কুইজ স্রষ্টা যা শিক্ষকদের নির্ধারিত সময় সীমার সাথে কুইজ সেট করার এবং শিক্ষার্থীদের প্রচেষ্টা ট্র্যাক করার দক্ষতা সহ যে কোনও ধরণের প্রশ্ন সেট করার সুযোগ রয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা কুইজ বা পরীক্ষার মান এবং সততা বজায় রাখতে পারেন এবং প্ল্যাটফর্মটি টারনিটিন চৌর্যবৃত্তির চেকারের সাথে সমন্বিত করা আছে যাতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের উপস্থাপিত আবেদনের মৌলিকত্ব যাচাই প্রতিবেদন সহজেই পেতে পারে।
এমন আরো অনেকগুলি অপশানের সাহায্যে ‘বøুম টেক্সোনমি’ অনুসরণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার জন্য শিক্ষকরা প্রশ্ন তৈরি করতে সক্ষম হন যাতে তারা শিক্ষার্থীদের বর্তমান অবস্থান সহজেই সনাক্ত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও গাইডলাইন সরবরাহ করতে পারে। সমস্ত মূল্যায়নের ফলাফলগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি উন্নতমানের স্বনির্ধারিত গ্রেড বইতে সঞ্চিত হয় যা শিক্ষকদের প্রতিটি কোর্স শিক্ষার্থীরা কীভাবে সম্পাদন করছে তার একটি সংক্ষিপ্ত ধারনা দেয়। শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে যে কোনও সময তাদের রেকর্ডগুলি দেখতে পারে যাতে তারা পরবর্তী মূল্যায়নের জন্য পরিকল্পনা করতে এবং আরও ভালভাবে প্রস্তুত করতে পারে। এক কথায় প্লাটফর্মটি শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক উভয়ের জন্য স্বচ্ছতা এবং মিথস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগও এই রেকর্ডগুলি ট্র্যাক এবং পরীক্ষা করতে পারে যা তাদের পরীক্ষার মান, স্বচ্ছতা এবং সততা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
বিএলসি প্লাটফর্মে একক কোর্সের জন্য একাধিক প্রশিক্ষককেও অন্তর্ভ‚ক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এটা কোর্স কনটেন্ট প্রস্তুুতির জন্য শিক্ষকদেরকে একে অপরের সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা করতে এবং কোর্স কনটেন্টের মানের উন্নতি করতে সহায়তা করে। স্ব-স্ব বিভাগগুলিও এ প্লাটফর্মে কোর্স রিপোজিটরিগুলি পৃথকভাবে রাখতে পারে যাতে নতুন সেমিস্টারের কোর্স অফার দেওয়ার আগে শিক্ষকগণ সময় সময় তাদের কোর্সগুলো আপডেট করতে পারে। বিভাগগুলিও এই রিপোজিটরিগুলি পরীক্ষা করতে পারে এবং শিক্ষকদের উন্নতির স্কোপগুলিতে নির্দেশিকা সরবরাহ করতে পারে।
অধিকন্তু, বিএলসি প্লাটফর্মের তিনটি পৃথক ড্যাশবোর্ড সহ নিজস্ব বিশ্লেষণ সরঞ্জাম রয়েছে : শিক্ষক ড্যাশবোর্ড, শিক্ষার্থী ড্যাশবোর্ড এবং অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড। এর সাহায্যে শিক্ষকরা তাদের শিক্ষার্থীদের পারফরম্যান্স এবং তাদের কোর্সগুলি একটি একক ড্যাশবোর্ড থেকে যাচাই করতে পারেন এবং কয়েকটি ক্লিকে তাদের কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন পেতে পারেন। একইভাবে, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কোর্স থেকে তাদের বর্তমান পারফরম্যান্স সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি বা ধারনা পেতে পারে যাতে তারা ভবিষ্যতের জন্য ভালভাবে প্রস্তুত হতে পারে এবং সংগঠিত হতে পারে বা তাদের শিক্ষকদের সাহায্য নিতে পারে। অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালন সম্পর্কে অন্তর্দৃষ্টি পেতে এবং প্লাটফর্মের সামগ্রিক কর্মক্ষমতা এবং ক্রিয়াকলাপের প্রতিবেদন দেয় যাতে তাদের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীর সাফল্য নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। রিপোর্টগুলি সক্রিয় শিক্ষক, কোর্স সমাপ্তি, শিক্ষক সম্পৃক্ততা, অস্বাভাবিক গ্রেড, উদ্ভাবনী শিক্ষক, সক্রিয় শিক্ষার্থী, ঝুঁকিপূর্ণ শিক্ষার্থী ইত্যাদির মতো দরকারী ভাগে বিভক্ত। এই প্রতিবেদনগুলি অনুষদ, বিভাগ এবং সেমিস্টার অনুসারে বাছাই করা যায়। এছাড়াও এর মাধ্যমে একটি সুনির্দিস্ট সময়ের রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব।
বিএলসির মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সুবিধা হ’ল ইউটিউব, গুগল, ড্রাইভ, এডপজল, এইচ ৫ পি ইন্টারেক্টিভ সামগ্রীর মতো একাধিক উৎস থেকে ভিডিও সহ ক্লাসগুলি সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণীয় এবং ইন্টার‌্যাক্টিভ করা যায়। শিক্ষার্থীদের জন্য কোর্স তৈরি করতে, শিক্ষকরা বিভিন্ন ধরণের মাল্টিমিডিয়া ফাইল, চিত্র, পিডিএফ, ডক্স, এক্সেল শীট এবং অন্যান্য কনটেস্ট সহজেই আপলোড করতে পারেন।
শিক্ষার্থীরা স্বাচ্ছন্দে ‘সমস্যা আলোচনার ফোরাম’ বিভাগগুলির সাথে অনায়াসে যোগাযোগ করতে পারে, যেখানে তারা শিক্ষকদের কাছে মন্তব্য করতে এবং প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে পারে, শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্সগুলিতে পর্যালোচনা, রেট ও প্রতিক্রিয়াও জানাতে পারে। শিক্ষকরা বিএলসি প্লাটফর্মের মধ্যে থেকেই শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমিক প্রতিক্রিয়া এবং সমীক্ষাও নিতে পারে।
‘বিএলসি’ প্লাটফর্ম বর্তমানে স্থানীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শে ক্লাউড অবকাঠামোর উপর ভিত্তি করে পরিচালিত হচ্ছে যা শিক্ষার্থীদের প্রান্তিক অবস্থান বা ইন্টারনেট সংযোগ নির্বিশেষে তাদের শিখতে সক্ষম করে এবং শিক্ষাকে ইন্টারেক্টিভ এবং প্রাণবন্ত করে তোলে। সাম্প্রতিক সেমিস্টারে ডিআইইউ শিক্ষকরা বিএলসি প্লাটফর্মের মাধ্যমে মোট ১৬৪৭ টি কোর্স চালু করেছেন যেখানে ১৬০০০ এর বেশি সক্রিয় শিক্ষার্থী অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে ওয়বিনার পরিচালনার প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্বসেরা অধ্যাপকদের ক্লাস করার সুযোগ পায়।
শিক্ষার্থীরা যাতে সহজেই অনলাইন ক্লাসে অংশ নিতে পারে সেই লক্ষ্যে ডিআইইউ আগে থেকেই শিক্ষার্থীদেরকে বিনামূল্যে ল্যাপটপ প্রদান করে আসছে এবং এই বর্তমান সেমিস্টারেও শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে নির্ধারিত সময়ের আগেই ২৫০০ ল্যাপটপ প্রদান করেছে। করোনা অতিমারীর কারণে ডিআইইউ ‘সামার ২০২০’ সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের মোট ২০ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদান করেছে এবং ‘ফল ২০২০’ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০% পর্যন্ত টিউশন ফি মওকুফ এবং আরো ২০ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যে কঠিন চ্যালেঞ্জেগুলোর মুখোমুখি হতে হয় তা হ’ল বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা এবং বৈধতা। বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে বৃহত্তম একশত পঞ্চাশ একর জায়গার উপর ডিআইইউ’র সবুজ স্থায়ী ক্যাম্পাস, যেটি বাংলাদেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সর্বাধিক সজ্জিত, নান্দনিক এবং সেরা ক্যাম্পাসগুলির অন্যতম একটি হিসেবে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। শিক্ষা এবং গবেষণার দিক দিয়ে ক্রমাগত বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়েও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শীর্ষস্থানীয়। এই অতিমারীকালেও ডিআইইউ তার স্বাভাবিক গতিতে চলছে, বরং কোন কোন ক্ষেত্রে অতীতের চেয়ে আরও দ্রæত গতিতে।
কোভিড-১৯ এর প্রভাবে সমগ্র বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও শিক্ষার নিয়মিত সমস্ত কার্যক্রমসমূহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে সেশন জটের বিষয়ে ভয়ে আছে। তবে, ডিআইইউ’র ‘এলএম এস’ ও ‘বিএলসি’ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় ও সংস্থাগুলিকে এই সংকটেও কিভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতে হয় তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে। শুধু কেবল একাডেমিকই নয়, যে কোনও প্রতিষ্ঠানই ‘স্মার্ট ইডু’র মতো তার প্রচেষ্টা দ্বারা উৎসাহিত এবং পরিচালিত হতে পারে।
আগামী নিউ নরমাল চ্যালেঞ্জিং বিশ্বে, যেখানে বেঁচে থাকাও একটি বড় ম্বার্থকতা হতে পারে, সেখানে ডিআইইউ তার শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি উদ্যোক্তা মানসিকতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সজ্জিত করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রæতিবদ্ধ। অতিমারীর এই সময়ে ডিআইইউ প্রকৃতপক্ষে দেশের শিক্ষাকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। ডিআইইউ এখন অনলাইনে বিশ্বখ্যাত অনলাইন লার্নিং প্লাটফর্মগুলিতে বিশেষ করে ‘উদেমি’, ‘কোর্সএরা’ ইত্যাদিতে অবদানের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে। ডিআইইউ জাতীয় সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী অবদান রাখতে অগ্রসরমান। তাই ডিআইইউ হতে পারে অনলাইন শিক্ষায় অনগ্রসরমান বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য অনুকরনীয় আদর্শ।

Please Share This Post.