অনলাইন ব্যবসায় দ্রুত সফলতার ৯ কৌশল

শামসুল আলম রাজ : অনলাইনে যারা বিজনেস করেন তাদের উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা হচ্ছে, কিভাবে অনলাইনে মানুষের বিশ্বাস আর আস্থা অর্জন করা যায়? তাই আজকের লেখা এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে। কিভাবে অতি স্বল্প সময়ে আস্থা, বিশ্বাস গড়ে তোলা যায়।

এই ব্যাপারে বিস্তারিত বলার আগে সতর্ক করে দেয়া জরুরি যে, এই প্রক্রিয়া খুবই শক্তিশালী। এবং দুর্ভাগ্যবশত অনেকে তা মন্দ কাজে ব্যবহার করে থাকে যেমন ভালো কাজে হয়ে থাকে। যা হোক, কল্যাণমূলক কাজে লাগানোর জন্যই এ লেখা। আমার কাছে প্রিয় ৯টি কৌশল উল্লেখ করলাম। এই কৌশলগুলো বাস্তবায়ন করে আপনার প্রতিষ্ঠানের ১ মাস বয়সে সেই অংক লাভ করুন, যা অন্যদের ৫ বছরে হয়।

১. কর্তৃপক্ষ : আমরা সাধারণত কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা বিনা বাক্য মেনে চলি। যেমন ধরুন চিকিৎসক এর কথা। আমরা তাদেরকে দেখি সাদা গাউন পরে অপারেশন থিয়েটারের দিকে ছোটাছুটি করতে। এই অবস্থা দেখে আমাদের মাঝে তাদের ব্যাপারে একটা ফিলিং তৈরি হয়। আমরা তাই শুনে থাকি যা চিকিৎসক বলে এবং যে উপদেশ দেন তা সিরিয়াসলি মেনে চলি। আমরা কিছুটা হলেও ভীত থাকি এই সাদা গাউন পরা মানুষটির সঙ্গে তর্কে যেতে। তাই না?

এটা অস্বাভাবিক কিছু না। আমরা প্রতিনিয়ত কাউকে না কাউকে খুঁজে থাকি সাজেশন এর জন্য। এই কর্তৃপক্ষ ব্যাপারটি আমাদের সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রক্রিয়াকে আরো সহজ এবং দ্রুত করে দেয়। আমাদের দিনের প্রত্যেকটি কাজের জন্য কিছু চিন্তা ভাবনা করতে হয় সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য। কোনো কিছুর বিশেষজ্ঞকে অনুকরণের মাধ্যমে আমরা খুব জটিল ব্যাপারেও দক্ষতার সঙ্গে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারি। আপনি যদি আপনার বিজনেস এবং মার্কেটিং সেক্টরে প্রভাবশালী হতে চান তবে আপনাকে কর্তৃপক্ষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হবে।

এবং সুসংবাদ হল এই কাজটা আপনি খুব সহজেই করতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি সিকিউরিটি ক্যামেরা বিক্রয় করে থাকেন। আপনি খুঁজে বের করুন আমাদের সিকিউরিটি ক্যামেরার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ। ঠিকই ধরেছেন পুলিশ, ডিবি পুলিশ, র‌্যাব। আপনি ফেসবুকে অ্যাড দিয়ে হাজার হাজার ডলার খরচ করছেন, হয়তো বিক্রয় হচ্ছে কিন্তু অ্যাড শেষ বিক্রয় শেষ। কোনো ব্র্যান্ড ভ্যালু হচ্ছে না।

আমরা কি পুলিশ বা ডিবি পুলিশকে সেই অ্যাড এর কিছু অংশ কর্তন করে ১০/১৫টা ক্যামেরা ফ্রি দিয়ে বিনিময়ে তাদের ইন্টারভিউ নিতে পারি না? যে তারা আমাদের কোম্পানির ক্যামেরা ব্যাবহার করে কিভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। সঙ্গে সঙ্গে তাদের আরো কিছু প্রফেশনাল উপদেশ। আর সেই ভিডিওটি আমাদের ওয়েবসাইটে হোমপেজ দিতে পারি। তাহলে মানুষের আস্থা অর্জন সহজ হবে। ভিডিও শেষ কথা নয়, নিয়মিত নিরাপত্তা নিয়ে ব্লগ থাকতে হবে। সেখানে দেশসেরা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের লিখা আসবে।

২. ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া : ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া এমন একটি আইডিয়া কেউ যদি আমাদেরকে কিছু দেয় তাহলে এর বিনিময়ে তাকেও পাল্টা কিছু দেয়া বাধ্যবাধকতা মনে করি। এইটা খুব গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার যদিও সেটা অনেক দিন পরেও হোক না কেন। যেমন আমরা কোরবানির মাংস ৩ ভাগে ভাগ করি। ১ ভাগ নিজেদের জন্য রাখি, ১ ভাগ আত্মীয়দের জন্য, আর ১ ভাগ ফকির মিসকিনদের জন্য। মনে করেন আত্মীয়দের যে অংশ ছিল তা শেষ, ঠিক সেই মুহূর্তে এমন একজন আত্মীয় আপনার বাড়িতে মাংস নিয়ে এসেছে যার জন্য আপনার কোনো বরাদ্দ ছিল না। এখন আপনি কেমন লজ্জিত? আপনি কি আপনার অংশ থেকে তাকে দিবেন না? নাকি খালি হাতে ফিরিয়ে দিবেন?

আপনি যদি কোম্পানি লঞ্চ করার আগেই আপনার ব্লগে চুল পড়ে যাওয়ার এমন সমাধান দিয়ে থাকেন যা আমাদের দেশসেরা Dermatologist (স্কিন, নখ, চুল বিশেষজ্ঞ) দিতে হিমশিম খায়, তাহলে কি সেই গ্রাহক আপনার কোম্পানির লঞ্চ এর জন্য অপেক্ষা করবে না? আপনার কনটেন্ট যত বেশি ভালো মানের হবে গ্রাহকের মনের অস্থিরতা ততই বাড়িয়ে দিবে প্রতিদানে (আপনার পণ্য ক্রয়) আপনাকে কিছু দেয়ার জন্য।

৩. বিশ্বাস : বিশ্বাস গড়ে তোলা হচ্ছে, দ্রুততম পদ্ধতি কারো জীবনে প্রভাব ফেলতে চাইলে। আমি নিশ্চিত যে আপনার পিতামাতা, কোনো বন্ধু, আত্মীয় বা শিক্ষক আপনাকে কিছু বললে সেটা সহজেই বিশ্বাস করেন কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়া। যদি সেই কথাটিই কোনো অচেনা কেউ বলত তাহলে কি বিশ্বাস করতেন? এইটাই হচ্ছে বিশ্বাস এর শক্তি। আপনি যদি কাউকে প্রভাবিত করতে চান তাহলে অনেক সহজেই পারবেন সে যদি আপনাকে বিশ্বাস করে।
আপনি কাউকে দিয়ে কিছু করে নিতে চান তাহলে সহজেই কাজ উদ্ধার হবে সে যদি আপনাকে বিশ্বাস করে। আপনি কাউকে দিয়ে আপনার পণ্য বা সেবা ক্রয় করাতে চান সেটা খুব সহজেই পারবেন সে যদি আপনাকে বিশ্বাস করে।

তবে বিজনেস এ বিশ্বাস অর্জন করাটা অনেক কঠিন। যেখানে আপনার সম্ভাব্য গ্রাহক দিনে শত শত কোম্পানি থেকে ম্যাসেজ পায়। সুসংবাদ হল আপনি ও বিশ্বাস অর্জন করতে পারবেন। সবচেয়ে সহজ উপায় হল দীর্ঘকাল সঙ্গে কাটানোর মাধ্যমে। যেমন আপনার নতুন কোনো প্রতিবেশী আসছে তাদের সঙ্গে এমন কোনো লেনদেন হয় নাই যে তাদের উপর ভরসা করতে পারেন। আবার সেই প্রতিবেশী যদি কিছুকাল আপনার পাশে বসবাস করে যার ফলে তাদের সঙ্গে কিছু না কিছু ঘটনা ঘটেছে যার ফলশ্রুতিতে তাদেরকে বিশ্বাস করা যায় নির্ভর করা যায়।

তবে আপনি তো নতুন, এখনও লঞ্চ-ই করেন নাই, তাহলে কিভাবে বিশ্বাস অর্জন করবেন? খুব সহজ। তাহলো আপনি যদি ফ্যাশন নিয়ে বিজনেস করেন তাহলে আপনার লোকাল বিউটি পার্লার এর সঙ্গে জয়েন্ট ভেঞ্চারে কাজ করতে পারেন। তার মাধ্যমে যা বিক্রয় হবে ৫০% লাভ শেয়ার করবেন। তাহলে ঐ পার্লার এ যে গ্রাহক ২/৩ বছর থেকে বার বার আসে তার সাথে এমন একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে যে তার উপর সে আস্থা রাখতে পারে বলেই তার কাছে আসে। এখন পার্লার যদি ৫০% লাভ এর আশায় আপনার কাজ করে তবে বিক্র্য় সহজ হয়ে যাবে। এই ব্যাপারে বিস্তারিত অন্য লিখায় আসবে।

৪. প্রত্যাশা : প্রত্যাশা এমন একটি ব্যাপার, যা আপনাকে আপনার হাজারো প্রতিদ্বন্দ্বীর মার্কেটিং এর ভিড়ে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে তুলে ধরবে। যার ফলে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না। যেমন ধরুন আমাদের সবার ছোটবেলার অনেক মধুর মধুর স্মৃতি আছে, তার মাঝে এমন কিছু ঘটনা থাকে যা সারাজীবন মনে থাকে। হতে পারে জীবনের প্রথম কাউকে ভালোবাসি বলা, হতে পারে প্রিয়জন এর নিকট থেকে প্রথম গিফট পাওয়া, হতে পারে এসএসসি এর পরীক্ষার শেষ দিন বা এইচএসসি এর। এমন কিছু ঘটনা আমাদের স্মৃতিতে আছে যা হাজারো সৃতির মাঝে যেন জ্বলজ্বল করে জ্বলে উঠে।

এমনই কিছুকে আপনার বিজনেস এর লঞ্চ দিবস করে সম্ভাব্য গ্রাহককে স্মৃতিকাতর করে ফেলুন যা আপনার বিজনেস এর সাথে যায়। প্রত্যাশামূলক ইভেন্টকে ঘিরে হয়। আপনি ক্যালেন্ডারে সেই দিনটিকে মার্ক করে রাখেন আর সকল ভাবনা তাকে ঘিরে করতে থাকেন। আপনি যদি এই টাইপ ইভেন্টের আয়োজন করে থাকেন তাহলে আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকরা তাদের ক্যালেন্ডারে দিনটি মার্ক করে রাখবে আর আপনার লঞ্চ এর জন্য অপেক্ষা করবে। এর মাধ্যমে আপনি আপনার সম্ভাব্য গ্রাহককে আপনার লঞ্চ এর অংশগ্রহণকারী হিসেবে বিবেচিত করছেন।

৫. পছন্দের যোগ্য হওয়া : খুবই সিম্পল ব্যাপার যে আমরা তাদের সাথেই লেনদেন করি যাদেরকে চিনি, পছন্দ করি, বিশ্বাস করি। আমরা তাদের দ্বারাই প্রভাবিত হই যদেরকে পছন্দ করি, যাদেরকে পছন্দ করি না তাদের থেকে। তো আপনি কিভাবে পছন্দের যোগ্য হবেন? খুবই সোজা। সেই সমস্ত কাজ করার মাধ্যমে যা আপনার সম্ভাব্য গ্রাহকরা খুব বেশি পছন্দ করে।

যখন আপনাকে তারা করুণাময়, দয়ালু, উদার, সৎ হিসেবে দেখবে তখন আপনাকে আরও বেশি পছন্দ করবে আর যত বেশি পছন্দ করবে তত বেশি প্রভাব খাটাতে পারবেন।

আপনি তাদেরকে আপনার ব্লগে তাদের সব থেকে জটিল সমস্যার খুব সহজ সরল সমাধান দিচ্ছেন, তাদের প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছেন, তাদের কমেন্টের উত্তর দিচ্ছেন। এই সব কিছুই আপনাকে তাদের নিকট দিন দিন পছন্দনীয় করে তুলবে আর সম্পর্ক আরো গভীর করে তুলবে। এই ব্যাপারটি ভালোমতো কাজে লাগাতে বিস্তারিত তথ্য পাবেন ‘পুঁজি এক লাখ টাকা, সময় ৯০ দিন, ৫টি ধাপে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানি! পড়ে।

৬. ইভেন্ট এবং ধর্মীয় ব্যাপার : যখন আপনার মার্কেটিং একটি ইভেন্ট এ রুপ দিবেন ( পূর্বে যে কৌশলগুলো বলা হল) তখন মার্কেটিং জাদুর মতো কাজে আসবে। মানুষ ইভেন্ট ভালোবাসে এবং তার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে নিজেকে বড় কিছুর অংশ হিসেবে প্রমাণ করতে ভালোবাসে।

যেমন ফুটবল বা ক্রিকেট এর ফ্যান নিজেদের দল নিয়ে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয়, এমনকি অনেক দিনের পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে তর্ক বা ঝগড়া করে কথা বলাবলি বন্ধ করে দেয়। এই সব কিছুই ইভেন্ট এর ফলাফল। ইভেন্ট এর আরেকটি ব্যাপার বলা যায়, সামনে যদি নিজের দলের খেলা থাকে তখন খুব টেনশন করতে থাকে হারবে না জিতবে, শেষে যদি নিজের দল হেরেও যায় কথাতে হার মানবে না। এই সবকিছুই ইভেন্ট এর ব্যাপার। এই ভাবেই খেলার দলগুলো সাধারণের মাঝে ইভেন্ট তৈরি করে নিজেদের মার্কেটিং করে সবাইকে একটি ঘোরের মাঝে রাখে।

ধর্মীয় ব্যাপারগুলো কেন এত সেনসিটিভ হয় কারণ যেকোনো ধর্মে কিছু রীতি নীতি আছে যা আমাদের চারপাশের সবাই মিলে একসঙ্গে পালন করে থাকি। ঠিক তেমনই ভাবে ইভেন্ট এ অংশগ্রহণ করে মানুষ সেটা ফিল করে থাকে। তাই আপনার মার্কেটিং ইভেন্ট এ রুপ দিন আর এর যুগান্তকারী ফলাফল উপভোগ করুন।

৭. কমিউনিটি : কমিউনিটি ব্যাপারটি একটি খুব শক্তিশালী ব্যাপার। আমরা সেই শব্দ ব্যবহার করি যা আমাদের কমিউনিটি করে থাকে, আমরা সেই স্টাইল ফলো করি যা আমদের কমিউনিটি করে থাকে, আমরা সেই ভাবেই হাঁটি যে ভাবে কমিউনিটি হেঁটে থাকে, এমন অনেক কিছুই করে থাকি যার আসল কোনো কারণ নাই কমিউনিটিকে ফলো করা ছাড়া।

আমাদের এই কমিউনিটি অনেক আছে যেমন স্কুল ফ্রেন্ড কমিউনিটি, কলেজ ফ্রেন্ড কমিউনিটি, ভার্সিটি ফ্রেন্ড কমিউনিটি, কলিগ কমিউনিটি, অবসর সময় কাটানো কমিউনিটি, বিজনেস কমিউনিটি যেমন ই কমার্স এর জন্য ই-ক্যাব কমিউনিটি।

ঠিক আপনার পণ্য বা সেবার জন্য এমনই একটি কমিউনিটি গড়ে তুলুন যেখানে আপনার পণ্য বা সেবা নিয়ে মতামত দিবে, ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া জানাবে, পজিটিভ নেগেটিভ বলবে, নতুন আপডেট নিয়ে তর্ক বিতর্ক হবে, পছন্দ অপছন্দ করবে।

৮. ঘাটতি : ঘাটতি ব্যাপারটা আমাদেরকে দ্রুত কিছু ক্রয় করতে বাধ্য করে। আমরা যখন জানতে পারি যে, কোনো কিছু সীমিত তখন আমরা সেটা বেশি চেয়ে থাকি। আপনি যদি চিন্তা করেন তাহলে ‘ঘাটতি’ ব্যাপারটি আমাদের জীবনে বার বার বিভিন্ন ভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে পারবেন। কেন মানুষ হীরাকে অন্যান্য পাথর থেকে বেশি মূল্যায়ন করে? হীরা খুঁজে পাওয়া কঠিন বেশি, কাটা ও কঠিন, অন্যগুলোর তুলনায় কম সংখ্যক পাওয়া যায়, দাম ও বেশি। ঠিক যেমন স্বর্ণ, রোলেক্স ঘড়ি এবং ফেরারি গাড়ি। আরও বলা যেতে পারে, কুমিল্লার রসমালাই এর কথা। কুমিল্লার রসমালাই বলতে মাতৃভাণ্ডারকে চেনে সবাই। আর এও জানি যে, মাতৃভাণ্ডার এর রসমালাই পেতে হলে ‘আগে’ যেতে হয় ‘লাইন’ ধরতে হয় আর ‘প্রত্যেক দিন’ কেউ না কেউ লাইন ধরেও শেষে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসে। আচ্ছা মাতৃভাণ্ডার কি জানে না বা বুঝে না যে, তাদের স্টক আরও থাকলে সেটাও সেল হয়ে যেত ফলে তারা আরও বেশি মুনাফা করতে পারত? তারা জেনে বুঝে এই কাজটা করে থাকে। কেন করে তারা জানে যে তাদের পণ্য অনন্য আর তার সঙ্গে এই (ঘাটতি) মার্কেটিং তাদেরকে আরো অনন্য করে তুলছে। লাইন ধরা এবং লাইন ধরেও না পাওয়া এই সব কিছুই মানুষ এর মাঝে ভীতি আর না পাওয়ার বেদনা তৈরি করছে ফলে আগ্রহ বেড়ে যাচ্ছে।

হাজী বিরিয়ানি তাদের অনন্য মান এর সঙ্গে এই (ঘাটতি) অনন্য মার্কেটিং করে থাকে। এই (ঘাটতি) একটি বড় কাজ করে থাকে তাহলো দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। বেশিরভাগ মানুষ সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগে যখন তাদের কাছে অঢেল পরিমাণ সুযোগ থাকে বিশেষ করে টাকার ব্যাপারে। মানুষ যদি দেখে যে লেট করলে না পাওয়া যেতে পারে তখন সেটা দ্রুত ক্রয় করে ফেলে।

৯. সামাজিক প্রমাণ : সামাজিক প্রমাণ একটা বড় কৌশল। পুরান মার্কেটিং এ করা কঠিন তবে ডিজিটাল মার্কেটিং এ অনেক সহজ। সামাজিক প্রমাণ এমন একটি আইডিয়া- যদি আমরা দেখতে পাই যে অন্য কেউ ক্রয় করছে তবে আমরাও ক্রয় করতে সাহস পাই। সাধারণত আমরা কোনো কিছু করার আগে একটু পূর্ব ধারণা নিতে চাই যে, আমার আশেপাশে যারা আছে তারা এই ব্যাপারে কি বলে। যেমন আপনি উত্তরায় থাকেন কোনো কাজে বনানী গেছেন বেশ খিদে পেয়েছে সন্ধার নাশতা করবেন, আপনি উত্তরার বিভিন্ন রেস্টুরেন্টের ব্যাপারে জানেন তবে বনানীর কোন রেস্টুরেন্ট ভালো তা জানা নেই। তাই দুই পাশে ২টি রেস্টুরেন্ট দেখলেন একটিতে কোনো গাড়ি পার্ক করা নাই আরেকটিতে ৬টি গাড়ি পার্ক করা আছে। কোনটিতে খাবেন? নিশ্চয় যেটাতে ৬টি গাড়ি পার্ক করা আছে সেটাতে, এইটাই হল সামাজিক প্রমাণ।

আমি এক কর্মশালায় কথা বলছিলাম, সেখানে বেশ কিছু ফ্যাশন হাউজ নিয়ে অনলাইনে বিজনেস করেন এমন লোক ছিলেন। একজনকে জিজ্ঞেস করলাম তার কোম্পানির নাম কি? উত্তর শুনে বুঝলাম যে আমি প্রথমবার শুনলাম তার কোম্পানির নাম। আরও জিজ্ঞেস করলাম এই পর্যন্ত কতটি পণ্য সেল করেছেন? উত্তরে বললেন ১০ হাজার হবে। আমি বললাম আমার মতো কেউ প্রথমবার আপনার কোম্পানির নাম শুনে যদি আপনার ওয়েবপেজ ভিজিট করে তাহলে কি সে বুঝতে পারবে যে আপনি ১০ হাজার পণ্য এর মধ্যেই সেল করে ফেলেছেন। তিনি বললেন, না। তাহলে নতুন গ্রাহক কিভাবে আপনার প্রতি আস্থা নিয়ে আসবে? উনি জানতে চাইলেন সে জন্য কি করতে হবে? আসলে অনেক অ্যাপস আছে যা রেকর্ড রাখে কতটি পণ্য এই পর্যন্ত সেল করেছেন এবং তা আপনার হোমপেজে শো করে। যা দেখলে যেকারো নিকট সহজ হয়ে যাবে ক্রয় করবে নাকি করবে না।

আপনি যদি আপনার পণ্য, সেবা বা কোম্পানি লঞ্চ করার সময়, আগে বা পরে এই কৌশলগুলো প্রয়োগ করে থাকেন তাহলে অবশ্যই দ্রুত ফলাফল পাবেন।

– লেখক : সিইও এবং ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্পেশালিস্ট, বিডি গ্রোথ হ্যাকার মার্কেটিং

 

সিনিউজভয়েস ডেস্ক
Please Share This Post.