অনলাইনে হয়রানির বেশিরভাগই ঘটে সামাজিক গন্ডির মধ্যে

আন্তর্জাতিক নিরাপদ ইন্টারনেট দিবসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ‘সিভিলিটি, সেফটি অ্যান্ড ইন্টার‌্যাকশনস অনলাইন- ২০১৭’ শীর্ষক এক ডিজিটাল সভ্যতা সূচক জরিপ পরিচালনা করেছে মাইক্রোসফট। টিনএজার ও প্রাপ্তবয়স্করা অনলাইনে কি ধরনের ঝুঁকির সম্মুখীন হয় এবং অনলাইনে তাদের সম্পৃক্ততা ব্যক্তিগত জীবনে কী ধরনের প্রভাব ফেলে তার উপলব্ধি জানার উদ্দেশ্যে এ জরিপ পরিচালিত হয়। জরিপের প্রতিবেদনে অনলাইনে হয়রানি নিয়ে অনেক আশ্চর্যজনক তথ্য উঠে এসেছে।

২০১৬ সালের জরিপকৃত ১৬টি দেশসহ এবার গবেষণা জরিপটি ২৩টি দেশে পরিচালিত হয়। জরিপে টিনএজার (১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের (১৮ থেকে ৭৪ বছর বয়সী) বর্তমানে অনলাইনে নাগরিকত্বের অবস্থা নিয়ে তাদের ধারণা ও উপলব্ধির কথা জানতে চাওয়া হয়। জরিপে উত্তরদাতাদের জীবনে মাইক্রোসফট গত বছরের চেয়েও তিনটি বেশি সহ মোট ২০টি পৃথক অনলাইন ঝুঁকি নিয়ে জানার চেষ্টা করে। গত বছরের চেয়ে এ বছর চারটি বিভাগে তিনটি বিষয় বেশি ছিলো। বিভাগগুলো হচ্ছে- আচরণগত, মনস্তত্বগত, যৌনাচারণগত ও ব্যক্তিগত।

সাম্প্রতিক এ জরিপ অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী মানুষের ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পৃক্ততা ও অনলাইন ঝুঁকির আশঙ্কা কমার কথা থাকলেও আশ্চর্যজনকভাবে, অনলাইনে হয়রানির শিকার উত্তরদাতারা জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে অনলাইনে হয়রানি ঘটে তাদের পরিবার ও আশেপাশের মানুষদের কাছ থেকেই।

তিনজনের মধ্যে প্রায় দু’জন (৬১ শতাংশ) উত্তরদাতা জানিয়েছেন, তাদের অনলাইনে হয়রানিকারীর ব্যাপারে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। এক তৃতীয়াংশের বেশি (৩৬ শতাংশ) জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগতভাবে হয়রানিকারীকে চেনেন। ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, যে হয়রানিকারীরা তাদের বন্ধু কিংবা পরিবারের সদস্য ছিলেন। যেখানে পাঁচজনে একজন (১৯ শতাংশ) উত্তরদাতা জানিয়েছেন, হয়রানিকারী তাদের পূর্ব পরিচিত ছিল। জরিপকৃত এক চতুর্থাংশ জানিয়েছেন, হয়রানিকারীকে তারা অনলাইনের মাধ্যমেই চিনতেন। ৩৭ শতাংশ জানিয়েছেন, অনলাইনে তাদের ঝুঁকি সম্পূর্ণভাবে আগন্তুকের কাছ থেকে এসেছে। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুরা বেশিরভাগ অনলাইনে হয়রানির ক্ষেত্রেই দায়ী বলে জানিয়েছেন অনলাইনে হয়রানির শিকার (৪১ শতাংশ) উত্তরদাতারা।

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/

Please Share This Post.