‘অনলাইন নিরাপত্তায় নারীদের সংঘবদ্ধ হতে হবে’

‘বিশ্বব্যাপী অনলাইনে নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ার প্রবণতার মধ্যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নারীদের নিজেদেরই সচেতন, সতর্ক ও সক্রিয় হতে হবে। সহিংসতার কাজে নতি শিকার না করে ইন্টারনেটের সুফল গ্রহণের জন্য নারীদের সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’

সম্প্রতি রাজধানীর এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

ইন্টারনেট সোসাইটি বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পৃষ্ঠপোষকতায় রাজধানীর ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ জন ক্যাম্পাস দূতের জন্য এই কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্ক (বিডিওএসএন)।

কর্মশালায় জানানো হয় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশেও নারীরা বিভিন্নভাবে অনলাইনে হয়রানির শিকার হচ্ছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের বরাত দিয়ে সেখানে বলা হয় বাংলাদেশের যত নারী ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তাদের ৭৩% অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়। অনলাইনে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নানা কর্মসূচি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সংগঠন ‘টেইক ব্যাক দ্যা টেক’। বাংলাদেশেও ২০১৩ আর ২০১৫ এর পর ২০১৭ থেকে আবার নিয়মিত কর্মসূচির আয়োজন করছে বিডিওএসএন।

ক্যাম্পাস দূতদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে দল গঠন করা হবে যারা পরবর্তি সময়ে তাদের নিজ নিজ কমিউনিটিকে অনলাইন নিরাপত্তার ব্যাপারটি নিশ্চিতকরনে কাজ করবে।

টেইক ব্যাক দ্যা টেক-তে মেয়েদের অনলাইন ব্যবহারে ‘সতর্কতা, সচেতনতা ও সক্ষমতা’ নিয়ে কাজ করা হয়। এই বছর বিডিওএসএন প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে মেয়েরা যাতে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়িয়ে চলতে পারে সে ব্যাপারে কাজ করবে।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান জানায়, দেশে এই সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেলেও বিপদের সময় সাহায্যকারী পাওয়া যায় না। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ক্যাম্পাসগুলিতে তাৎক্ষণিক সাহায্যকারী তৈরি করা যাবে বলে তার বিশ্বাস।

দিনব্যাপী এই কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রোনিক্স বিভাগের চেয়ারপার্সন লাফিফা জামাল, ইন্টারনেট সোসাইটির (বাংলাদেশ চ্যাপ্টার) জেনারেল সেক্রেটারি মোহাম্মদ কাওসার উদ্দিন, গ্রামীন ফোনের ডেপ্লোয়মেন্ট এন্ড প্রোজেক্টের জেনারেল ম্যানেজার শায়লা রহমান ও বিডিওএসএন-এর সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসান।

বিডিওএসএন-এর প্রোগ্রাম অফিসার শারমিন কবীর বলেন, ‘ক্যাম্পাস দূতদের নিয়ে রাজশাহী ও খুলনায় আরো কর্মশালা করার পরিকল্পনা আছে।’

সিনিউজভয়েস//ডেস্ক/

Please Share This Post.